অতিরিক্ত ঘাম দূর করার উপায়

অতিরিক্ত গরমে ঘেমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। গরমের মধ্যে প্রচুর কাজ করার ফলে শরীর সবসময় ঘেমে থাকে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে ঘেমে যাওয়া। অনেক সময় আবার অতিরিক্ত মেদ থাকার কারণে শরীরে প্রচুর পরিমাণে ঘাম হয়ে থাকে। আজকে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব সেটি হল অতিরিক্ত ঘাম দূর করার উপায়। 
অতিরিক্ত ঘাম দূর করার উপায়
আপনি হয়তো বা অতিরিক্ত ঘাম দূর করার উপায় সম্পর্কে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সঠিক সমাধান পাননি। তাহলে আমাদের পুরো আর্টিকেলটি একবার পড়ে দেখুন আশা করি আপনি অতিরিক্ত ঘাম দূর করার একটি সমাধান পেয়ে যাবেন। তাই আপনি যদি আপনার অতিরিক্ত ঘাম দূর করতে চান তাহলে আর দেরি না করে চলুন এখনই জেনে নেওয়া যাক যে কিভাবে অতিরিক্ত ঘাম দূর করা যায়।

পোস্টের সূচিপত্রঃ অতিরিক্ত ঘাম দূর করার উপায়

ভূমিকা

গরমের মধ্যে ঘেমে যাওয়া এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ গরমের সময় তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে প্রত্যেকটি মানুষই ঘেমে যায়। কিন্তু এই ঘেমে যাওয়াটা যখন অতিরিক্ত হারে বেড়ে যায় তখন পড়তে হয় একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে। অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার কারণে কোনো পোশাক পরে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। আবার অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার ফলে শরীর থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ বের হয়। তখন আরো বেশি অস্বস্তিকর লাগে। 
অতিরিক্ত ঘামের কারণে আপনার ত্বকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আপনি যদি আপনার অতিরিক্ত ঘাম হওয়া কমাতে চান তাহলে আগে আপনাকে জানতে হবে যে আপনি কেন অতিরিক্ত ঘামেন। এ বিষয়ে যদি আপনি জানতে পারেন তাহলে আপনি আপনার অতিরিক্ত ঘামা সমস্যাটি দূর করতে পারবেন। তাহলে আর কেন দেরি চলুন এখনই জেনে নেওয়া যাক।

অতিরিক্ত ঘাম কিসের লক্ষণ

অতিরিক্ত ঘাম বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক রোগের লক্ষণ হতে পারে। ঘাম হওয়া জিনিসটা যেমন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার এমন অতিরিক্ত ঘাম হওয়া একটি অস্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ বেশ কিছু রোগ হলে অতিরিক্ত ঘামতে দেখা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত ঘাম কিসের লক্ষণ।

হৃদরোগঃ আপনার যদি হৃদরোগের সমস্যা থাকে তাহলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে ঘামতে দেখা যায়। এবং ঘাম হওয়ার সাথে সাথে আপনার বুকের ব্যথা, বুক ধরফর করা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি বেড়ে যেতে পারে। আপনার হার্টের গতি যদি প্রচন্ড পরিমাণে কম বেশি হতে থাকে তাহলে আপনার শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হতে দেখা যাবে।

ডায়াবেটিসঃ আপনি হয়তোবা এখন ভাবতে পারেন যে অতিরিক্ত ঘামের সাথে আবার ডায়াবেটিস এর কি সম্পর্ক। অতিরিক্ত ডায়াবেটিস থাকার কারণে অনেক সময় শরীর প্রচুর পরিমাণে ঘেমে যায়। ডায়াবেটিস রোগীর যখন হঠাৎ করে ব্লাড সুগার লো হয়ে যায় তখন প্রচুর পরিমাণে ঘামের সৃষ্টি হয়।

রক্তে ইনফেকশনঃ অনেক সময় রক্ত ইনফেকশন থাকার কারণে শরীর প্রচুর পরিমাণে ঘেমে যায়।। কারণ রক্তের মধ্যে যদি কোন প্রকার ইনফেকশন থাকে তাহলে সেটি আপনার রক্তকে সব সময় উত্তপ্ত করতে পারে। এবং এ সময় আপনার হার্ট প্রচুর পরিমাণে রক্ত পাম্প করবে। এবং এর ফলে আপনি শীতল স্থানে থাকার ফলেও আপনার শরীর প্রচুর পরিমাণে ঘেমে যেতে পারে।

নিউরোলজিক্যাল সমস্যাঃ অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের নিউরোলজিক্যাল সমস্যা থাকার কারণেও শরীরে প্রচুর পরিমাণে ঘাম হয়।

ঘাম বেশি হওয়ার কারণ কি

ঘাম হওয়া শরীরের জন্য ভালো। কারণ ঘামের মাধ্যমে শরীরের মধ্যে থাকা বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে আসে। তবে অনেক সময় অতিরিক্ত ঘামতে দেখা যায়। এই বেশি ঘাম হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। আপনার মধ্যে যদি বেশি পরিমাণ ভয় কাজ করে এবং আপনি যদি বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন এবং মাঝেমধ্যে যদি আপনার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আর রাগ দেখা যায় তাহলে আপনি সেই সময় প্রচুর পরিমাণে ঘামতে পারেন। আবার অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের হরমোন জনিত কারণে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘাম হয়ে থাকে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে যখন আপনি ঘুমের ওষুধ সেবন করেন তখন আপনার শরীরে প্রচুর পরিমাণে ঘাম হতে দেখা যায়। 
অনেক সময় কিছু কিছু ঔষধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘাম হয়ে থাকে। আপনি যদি নিয়মিত কোন না কোন ওষুধ খেয়ে থাকেন তাহলে বুঝতে পারবেন যে আপনার কোন ওষুধটি খাওয়ার কারণে বেশি পরিমাণে ঘাম হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যার কারণে প্রচুর পরিমাণে শরীর থেমে থাকে। আবার এমন কিছু কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাওয়ার মাধ্যমে আপনার ঘাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মাংস, তেল মসলা জাতীয় বেশি খাবার কারণে আপনার শরীর প্রচুর পরিমাণে ঘেমে যেতে পারে। যাদের ক্যান্সারের সমস্যা রয়েছে তাদের অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

ঘাম কি ভালো

অনেক চিকিৎসকদের মধ্যে ঘাম হওয়া একটি ভালো ব্যাপার। কারণ ঘাম হওয়ার মাধ্যমে শরীরের ভেতরে থাকা বর্জ্য পদার্থ গুলো বের হয়ে আসে। এবং শরীরের ভেতরটিকে পরিষ্কার রাখে। শরীরের মধ্যে এক ধরনের ক্ষতিকর টক্সিন থাকে। ঘাম হওয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে সেই ক্ষতিকারক টক্সিন বের হয়ে যায়। ঘামার কারণে আপনার ওজন কমতে পারে। ঘাম ব্যাকটেরিয়া সহ অন্যান্য জীবাণু থেকে আপনাদের রক্ষা করে। ঘাম হওয়ার কারণে আপনার শরীরের লোমগুলো খুলে যায়। 

যার ফলে শরীরের মধ্যে থাকা ধুলাবালি বা ময়লা ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে আসে। ঘামের মাধ্যমে ত্বকে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। ঘাম হওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয়। আপনি যদি প্রতিদিন ব্যায়াম করার মাধ্যমে আপনার শরীর থামাতে পারেন তাহলে আপনার কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়। এবং আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ ও ক্যালসিয়াম বের করে দেয়।

অতিরিক্ত ঘাম দূর করার ঘরোয়া উপায়

কিসের প্রায় অনেক মানুষ অতিরিক্ত ঘামের সমস্যায় ভুগছেন। হাত-পা, মুখ, বগল সবসময় অতিরিক্ত থেমে থাকার কারণে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। তবে এমন কিছু উপায় রয়েছে যে উপায় গুলো মেনে চললে আপনার অতিরিক্ত ঘাম হওয়া সমস্যাটি কমতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই সকল ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে যেগুলো মেনে চললে আপনার অতিরিক্ত ঘাম দূর হতে পারে।
  • বেশি পরিমাণে পাকা ফলমূল এবং শাকসবজি খাবার হলে আপনার অতিরিক্ত ঘাম সমস্যাটি দূর হতে পারে। বেশি করে পাকা পেঁপে, তরমু, কামরাঙ্গা ইত্যাদি খাওয়ার ফলে আপনার অতিরিক্ত ঘাম সমস্যা দূর হতে পারে।
  • অতিরিক্ত ঘাম সমস্যাটি শারীরিক দুর্বলতার কারণও হয়ে থাকে। তাই শারীরিক দুর্বলতা কমাতে বেশি বেশি করে পুষ্টিকর খাবার, শাকসবজি এবং ফলমূল খেতে হবে।
  • এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা অতিরিক্ত ঘামার কারণে তাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের পাউডার ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় এই পাউডার অতিরিক্ত ঘাম কমানোর পরিবর্তে ঘাম আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত ঘাম দূর করতে হলে বিভিন্ন ধরনের পাউডার ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • বিভিন্ন ধরনের আয়োডিনযুক্ত খাবার খাওয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত ঘাম সমস্যাটি দূর হতে পারে।
  • বেশি বেশি করে পান খাওয়া এবং ধূমপান করার মাধ্যমে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। তাই অতিরিক্ত যাতে ঘাম না হয় সে ক্ষেত্রে পান খাওয়া এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • অতিরিক্ত ঘাম কমানোর জন্য বেশি বেশি করে পানি পান করুন এবং সব সময় হাত মুখ পরিষ্কার রাখুন।
  • শসা খাওয়ার মাধ্যমে আপনার ঘাম সমস্যাটি দূর হতে পারে। কারণ শসাতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে আর। শসা খাওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীরের পানি শূন্যতা দূর হয়ে যেতে পারে এবং আপনার অতিরিক্ত ঘাম সমস্যাটি দূর করে দিতে পারে।

অতিরিক্ত ঘাম কমানোর খাবার

অতিরিক্ত ঘাম প্রত্যেকের জন্যই খুবই অস্বস্তিকর একটি বিষয়। তবে কিছু কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাওয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত ঘাম সমস্যাটি অনেকটাই দূর হয়ে যায়। অতিরিক্ত ঘাম সমস্যাটি দূর করার জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। কারণ পানি পান করার মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং বেশি পরিমাণে ঘাম হয় না। রান্নার কাজে আপনি চাইলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। কারণ অলিভ অয়েল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

বিভিন্ন ধরনের ফল রয়েছে যেমন তরমুজ, আনারস, কমলা এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা শরীরের অতিরিক্ত ঘাম কমাতে সহযোগিতা করে। প্রতিদিন গ্রিন টি খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে গ্রিন টি খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত ঘাম সমস্যাটি দূর হয়ে যায়। এছাড়া চেষ্টা করতে হবে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের সবজি জাতীয় খাবার খাওয়া।

শেষ কথা

আপনি যদি অতিরিক্ত ঘাম সমস্যায় ভুগেন তাহলে উপরে যে নির্দেশনা গুলো দেওয়া আছে সেগুলো যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে আপনার অতিরিক্ত ঘাম সমস্যাটি দূর হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ঘাম কমাতে আপনাকে সবসময় ঠান্ডা জায়গায় থাকার চেষ্টা করতে হবে। যাতে করে শরীরের তাপমাত্রা সবসময় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন এবং অন্যদেরকে জানিয়ে দিন যে কিভাবে অতিরিক্ত ঘাম সমস্যাটি দূর করা যায়। ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url