জন্ডিস এর লক্ষণ কি

জন্ডিস আসলে নতুন কোন রোগ নয়। আপনারা সকলে এ রোগের সাথে পরিচিত। জন্ডিসের কারণে অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই জন্ডিস সম্পর্কে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। এর জন্য আপনাকে জানতে হবে যে জন্ডিস এর লক্ষণ কি বা জন্ডিস হলে শরীরে কি কি লক্ষণ দেখা যায়। 
জন্ডিস এর লক্ষণ কি
বিভিন্ন ধরনের খাদ্য এবং পানির জন্য জন্ডিস রোগটি হয়ে থাকে। আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে জন্ডিস এর লক্ষণ কি বা শরীরের জন্ডিস দেখা দিলে কোন কোন লক্ষণ গুলো দেখা দিতে পারে। তাই আর দেরি না করে চলুন এখনই জেনে নেওয়া যাক।

পোস্টের সূচিপত্রঃ জন্ডিস এর লক্ষণ কি

ভূমিকা

মানব শরীরের মধ্যে এক প্রকার বিলিরুবিন জাতীয় পদার্থ থাকে। এই বিলিরুবিন জাতীয় পদার্থ গুলো শরীরের মধ্যে রক্ত চলাচলের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই বিলিরুবিনের মাত্রা যখন শরীরের মধ্যে অত্যন্ত বেশি হারে বেড়ে যায় তখন আমাদের জন্ডিস হয়ে থাকে। এই জন্ডিস হওয়ার ফলে আমাদের চোখ এবং ত্বকের রঙের পরিবর্তন হয়। যেকোনো ধরনের মানুষই এই জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হতে পারে। 
তাই আপনি যাতে এই জন্ডিস রোগে আক্রান্ত না হন এজন্য আপনাকে জানতে হবে জন্ডিস কিভাবে প্রতিকার করা যায়। এবং জন্ডিস প্রতিকার করতে হলে আপনাকে জন্ডিস হওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে জানতে হবে এবং জন্ডিস শরীরের মধ্যে দেখা দিলে কি কি লক্ষণ দেখা যায় সে বিষয়ে জানতে হবে।

জন্ডিস কি

সাধারণত শরীরের মধ্যে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে আমাদের ত্বক চোখ এবং প্রস্রাব হলুদ রং ধারণ করে এবং এর ফলে হয়ে থাকা রোগকে জন্ডিস বলা হয়। এ বিলিরুবিন জাতীয় পদার্থের কারণে শরীরে রক্তের ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রক্ত চলাচলের উপর প্রভাব ফেলে।

জন্ডিসের কারণ

আমরা প্রথমেই বলেছি যে রক্তে যখন বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় তখন জন্ডিস দেখা দেয়। আমাদের শরীরের মধ্যে যে লোহিত রক্তকণিকা গুলো থাকে সেগুলো শারীরিকভাবে ভেঙ্গে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরি হয়। এবং এটি পরে লিভারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পিত্তনালীর মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। পরিপাকতন্ত্র থেকে বিলিরুবিন পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার মধ্য দিয়ে যদি কোন সমস্যা তৈরি হয় এবং এর ফলে যদি বিলিরুবিন বেড়ে যায় তাহলে শরীরের জন্ডিস দেখা দেয়।

জন্ডিস এর লক্ষণ

শরীরের মধ্যে যখন জন্ডিস রোগটি দেখা দেয় তখন বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। এবং সেই লক্ষণগুলো দেখতে পাওয়ার মাধ্যমে বোঝা যায় যে জন্ডিস রোগটি হয়েছে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক জন্ডিস এর লক্ষণ গুলো কি কি।
  • শরীরে জন্ডিস দেখা দিলে হালকা জ্বর দেখা যায়, কোন কিছু খাওয়ার রুচি থাকে না এবং বমি বমি ভাব হয়। এগুলো জন্ডিস হওয়ার শুরুর দিকে দেখা যায়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে জ্বর কমে গেলেও খাবার রুচিটি থাকে না। যে কোন খাবার খেতে গেলে গন্ধ লাগে।
  • এছাড়া শরীরের জন্ডিস রোগ দেখা দিলে চোখের রঙের পরিবর্তন দেখা যায়। প্রথম দিকে দেখা যায় যে চোখ হলুদ হয়ে গিয়েছে। তবে প্রথম দিকে চোখ জ্বালাপোড়া করা শুরু হয়। এবং ধীরে ধীরে এটি অনেক বেশি মাত্রায় বেড়ে যায়। শরীরের মধ্যে ডিহাইড্রেশনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে এই চোখের জ্বালা পোড়া হয়ে থাকে।
  • অনেক সময় একটি বিষয় খেয়াল করলে দেখা যাবে যে জন্ডিস হলে প্রস্রাবের রং এর পরিবর্তন দেখা যায়। একজন সুস্থ মানুষের সাধারণত প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ হওয়াটা এটি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু প্রস্রাবের রং যখন অত্যন্ত বেশি আকারে হলুদ হয়ে যাবে তখন বুঝে নিতে হবে যে এটি জন্ডিস রোগের একটি লক্ষণ হতে পারে।
  • শরীরে যখন জন্ডিস দেখা দিবে তখন চোখের রং এবং প্রস্রাবের রঙের সাথে সাথে ত্বকের রঙের পরিবর্তন দেখা যাবে। একটু খেয়াল করলে দেখবেন যে জন্ডিস রোগ হলে মুখের রং হালকা হলুদ হয়ে গিয়েছে। এবং এর ফলে শরীর প্রচন্ড পরিমাণে ক্লান্ত হয়ে যায়। এবং জন্ডিস হওয়ার কারণে অনেক সময় দেখা যায় যে শরীরের মধ্যে ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা যায়।
  • শরীরের মধ্যে যখন জন্ডিস রোগটি দেখা যাবে তখন শরীরের মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা কাজ করবে। যেমন আপনি কোন কাজ করতে গেলে অল্প একটুতেই হারিয়ে যাবেন এবং কোন ভারী কাজ করতে পারবেন না এবং বেশিরভাগ সময় বুক ধরফর করবে।
  • জন্ডিস হলে ক্ষুধামন্দা দেখা যাবে। কোন কিছুই খেতে ভালো লাগবে না। বিশেষ করে মসলা জাতীয় খাবার খেতে কোন ভাবে ভালো লাগবে না। খাবার খেতে গেলে গন্ধ লাগবে।

জন্ডিস এর প্রতিকার

স্বাস্থ্যই হচ্ছে সকল সুখের মূল। তাই আমাদেরকে সবসময় সুস্থ থাকতে হবে। আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন যে জন্ডিস কিভাবে ছড়ায় বা জন্ডিস কি। তাই আপনার এখন জানা উচিত যে কিভাবে এ জন্ডিস প্রতিরোধ করবেন।
  • আপনি যখন কাউকে রক্ত দিবেন বা কারো থেকে রক্ত নিবেন সেক্ষেত্রে আপনাকে সচেতন হতে হবে। কারণ রক্ত দেওয়া বা নেওয়ার মাধ্যমে ও জন্ডিস একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে চলে যেতে পারে।
  • মদ্যপান জাতীয় নেশা থেকে সব সময় বিরত থাকতে হবে।
  • এর ওজন সর্বদা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  • অন্যের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ থেকেও এই জন্ডিস রোগ ছড়াতে পারে। তাই সর্বদা চেষ্টা করতে হবে নতুন সিরিঞ্জ ব্যবহার করার জন্য।
  • পানির মাধ্যমে সব থেকে বেশি জন্ডিস রোগ ছড়িয়ে থাকে। এ কারণে সব সময় চেষ্টা করতে হবে বিশুদ্ধ পানি পান করার জন্য।
  • সেলুনে সেভ করতে গিয়ে অনেকেই অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড দিয়ে সেভ করে থাকেন। কিন্তু এটি কখনোই করা যাবে না। সেলুনে গিয়ে সেভ করতে হলে সব সময় নতুন ব্লেড ব্যবহার করতে হবে।
  • কলকারখানা থেকে যে রাসায়নিক পদার্থগুলো নির্গত হয় সে সকল রাসায়নিক পদার্থ থেকে সবসময় দূরে থাকতে হবে।
  • সব সময় চেষ্টা করতে হবে নিরাপদ যৌন মিলন করার জন্য।

শেষ কথা

আপনি ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে জন্ডিস কি, জন্ডিস কিভাবে ছড়ায়, জন্ডিস হলে কি কি লক্ষণ দেখা যায় এবং জন্ডিস কিভাবে প্রতিকার করা যায় সে সকল বিষয় সম্পর্কে। আপনি যদি একজন জন্ডিস রোগী হয়ে থাকেন তাহলে উপরের দেওয়া নিয়ম গুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন। তা না হলে পরবর্তীতে আপনার অনেক বড় সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে কেমন লাগলো সেটি আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url