এইডস কত দিন পর ধরা পরে - এইডস হলে করণীয়

সুপ্রিয় পাঠক আজকের আমাদের আলোচ্য বিষয়টি হল এইডস কতদিন পর ধরা পরে এবং এইডস হলে করণীয় কাজ গুলো কি কি। এইডস হচ্ছে এক ধরনের মরণ ব্যাধি নামে পরিচিত। তাই আমাদের সকলেরই উচিত এইডস সম্পর্কে যাবতীয় ধারনা রাখা। 
এইডস কত দিন পর ধরা পরে
এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন এইডস কতদিন পর ধরা পড়ে এবং এইডস নামক মরণ ব্যাধি সম্পর্কে যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়। তাহলে চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে জেনে নিন এইডস কতদিন পর ধরা পরে এবং এইডস হলে করণীয় কাজগুলো কি কি।

পোস্টের সূচিপত্রঃ এইডস কত দিন পর ধরা পরে

ভূমিকা

এইডস হচ্ছে বর্তমান সময়ে একটি মারাত্মক মরণব্যাধি নামে পরিচিত। এইডস রোগটি এক ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকে। এইচআইভি জীবনুর মাধ্যমে এইডস রোগটি ছড়ায়। এখন পর্যন্ত এই এইডস রোগের কোন প্রকার ভ্যাকসিন বা প্রতিরোধক আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত মারাত্মক মরণব্যাধি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তাই এই এইড সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা উচিত। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত যে এইডস হলে করণীয় কাজগুলো কি কি এবং এইডস কতদিন পর ধরা পড়ে এই সকল বিষয় সম্পর্কে যাবতীয় ধারনা রাখা।

এইডস কি

বর্তমান বিশ্বে অনেক মানুষ এইডস রোগের কারণে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে। এইডস কিভাবে প্রতিকার করা যায় এ বিষয়টি জানার আগে আমাদের প্রয়োজন এইডস কি সেই সম্পর্কে জানা। এইডস রোগটি যে জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায় তার নাম হলো এইচআইভি (HIV - human immunodeficiency virus). এই এইচআইভি ভাইরাসের মাধ্যমে এইডস রোগ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে পৌঁছায়।

এইডস কিভাবে হয়

আমরা কি প্রত্যেকেই জানি যে, এইডস কিভাবে হয় বা এইডস কিভাবে ছড়ায়। এই বিষয়ে সম্পর্কে যদি না জানা থাকে তাহলে আমরা কখনোই এইডস রোগটি প্রতিকার করতে পারব না। বিশ্বের সবথেকে মারাত্মক রোগব্যাধি গুলোর মধ্যে এইডস হচ্ছে একটি। যার এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ভ্যাকসিন বা প্রতিশোধক তৈরি হয়নি। প্রতিদিন গড়ে প্রচুর পরিমাণে মানুষ এই এইডস রোগের কারণে মারা যাচ্ছে। শুধু যে শারীরিক সম্পর্কের কারণে এইডস হয় এমনটি নয়। এইডস রোগ হওয়ার বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে।
  • এইডস আক্রান্ত রোগীর শরীরে ব্যবহার করা ইনজেকশন করার সুজ ব্যবহার করার মাধ্যমেও এইডস রোগটি ছড়ায়। তাই আমাদের উচিত সবসময় নতুন সিরিঞ্জ ব্যবহার করা।
  • কোন গর্ভধারিণী মা যদি এইডস এ আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে তার সন্তান এইডস রোগে সংক্রমিত হতে পারে।
  • এইডস রোগে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির শরীর থেকে যদি রক্ত নেওয়া হয় তাহলে তার মাধ্যমে এইডস ছড়ায়।
  • এইডস রোগে আক্রান্ত এমন কোন মানুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করলে এইডস রোগটি ছড়ায়।
  • অনেক সময় দেখা যায় যে যৌনকর্মীদের মাধ্যমে এইডস রোগটি প্রচুর পরিমাণে ছড়ায়।

এইডস এর লক্ষণগুলো কি কি

বর্তমানে এইডস একটি মারাত্মক মরণব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সারা বিশ্বের প্রায় লাখ লাখ মানুষ প্রতিবছরই এইডস রোগের কারণে মারা যাচ্ছে। এই এইডস রোগটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। এইচআইভি ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ফলে এই রোগটি দেখা দেয়। তবে আমরা অনেকেই জানিনা যে, এইডস এর লক্ষণগুলো কি কি। তাহলে আর দেরি না করে আসুন এখনই জেনে নেওয়া যাক এইডস এর লক্ষণ গুলো কি কি।
  • কোন মানুষের শরীরে যদি দীর্ঘদিন ধরে জ্বর দেখা যায় এবং সেই জ্বরের সাথে সাথে হাতে-পায়ে এবং কোমরে ব্যথা দেখা দেয় তাহলে এটির মাধ্যমে এইডস এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • অস্বাভাবিক গলা ব্যথা এইডস রোগের একটি বড় লক্ষণ। কারণ কোন ব্যক্তি যদি এইডস রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে প্রথমদিকে দেখা যায় যে তার গলায় প্রচন্ড পরিমাণে অস্বাভাবিক ব্যথা দেখা দেয়। এবং এই ব্যথার কারণে রোগীর ঢোয়া গিলতে অসুবিধা হয় এবং কোন খাবার খেতে অসুবিধা হয়। এমনকি গলা ব্যথাটা এতটাই অস্বাভাবিক হয়ে যায় যে পানি খেতেও অসুবিধা হয়ে থাকে।
  • এছাড়া এইডস এ আক্রান্ত হলে দেখা যায় যে শরীরের ওজন খুবই দ্রুত গতিতে কমে যেতে থাকে।
  • আবার অনেক সময় দেখা যায় যে এইডস এ আক্রান্ত হওয়ার কারণে রাতের বেলায় একটু পরে পরে জ্বর আসে এবং প্রচুর পরিমাণে ঘাম হতে থাকে।
  • এছাড়া এইডস আক্রান্ত হলে প্রচুর পরিমাণে ক্লান্তি অনুভূতি হয় এবং প্রচুর পরিমাণে মাথা ব্যথা এবং পেশী এবং শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট গুলোতে ব্যথা দেখা দেয়।

এইডস কত দিন পর ধরা পরে

ইতিমধ্যে তো আপনারা নিশ্চয়ই জেনে গেছেন যে এইডস কি, এইডস এর লক্ষণ গুলো কি কি, এইডস কিভাবে ছড়ায় এবং এইডস কোথা থেকে আসে। কিন্তু আপনারা এখনো অনেকেই জানেননা যে এইডস কতদিন পর ধরা পরে। আমি আজকে আপনাদের জানাবো যে এইডস কত দিন পর ধরা পরে। এইডস কতদিন পর ধরা পরে এই প্রশ্নটির উত্তর যদি বলতে যায় তাহলে বলা যায় যে, কোন ব্যক্তির শরীরে যদি এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমিত হয় তাহলে এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণের ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই এইডস রোগের বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ শরীরের মধ্যে দেখা দিতে পারে। আপনি নিশ্চয় ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন যে এইডস কতদিন পর ধরা পরে। তাহলে এখন জানতে হবে এইডস হলে করণীয় কি।

এইডস হলে করনীয়

এইডস হলে করণীয় কি এই বিষয় সম্পর্কে না জানার কারণে প্রতিনিয়ত প্রচুর পরিমাণে এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এইডস হলে করণীয় কি এটি না জানার কারণে আমরা এইডস রোগটিকে প্রতিকার করতে পারছি না। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এইডস সম্পর্কে যাবতীয় ধারনা রাখা। এবং এইডস হলে করণীয় কি কি সেই বিষয়গুলো জানার পরে সেগুলো মেনে চলা। 

কোন ব্যক্তির শরীরে যদি এইডস রোগ দেখা দেয় তাহলে তার উচিত দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সরকারি মেডিকেল রয়েছে যেখানে এই এইডস রোগের চিকিৎসা করা হয়। এইডস রোগী যাতে মানসিকভাবে বিষন্নতায় ভুগেন এমন কোন কাজ করা যাবে না। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এবং ডাক্তার যে ওষুধগুলো খেতে বলবে নিয়মিত সেই ওষুধগুলো খেতে হবে। 

এইডসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ব্যবহার করা সুচ অন্য কেউ যাতে ব্যবহার না করে সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনি নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে এইডস সম্পর্কে যাবতীয় ধারণা পেয়ে গিয়েছেন এবং এইডস হলে করণীয় কি সে সম্পর্কেও ভালোভাবে জেনে গেছেন।

শেষ কথা

উপরের পুরো পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনি এতক্ষণে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন যে এইডস কি, এইডস কিভাবে ছড়ায়, এইডস কোথা থেকে আসে, এর লক্ষণ গুলো কি কি এবং এইডস হলে করণীয় কাজগুলো কি কি।

আশা করি আপনি জানতে পেরেছেন যে এইডস কতদিন পরে ধরা পরে এবং এইডস হলে করণীয় কি। যদি আপনি পোস্টের কোন অংশ না বুঝে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url