আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি - আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার

বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পুরো বিশ্বজুড়ে প্রচুর পরিমাণে খ্যাতি অর্জন করেছে। তবে কিছুদিন আগে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সটি ছিল একটি কাল্পনিক বিষয়। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দ্বারা মানুষ তাদের বিভিন্ন ধরনের কঠিন কাজকে আরো সহজ করে ফেলেছে। কিন্তু এখনো অনেকেই জানেন না যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার সম্পর্কে। 
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি
তাই আমরা আজকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার সম্পর্কে আপনাদেরকে জানানোর জন্য এই আর্টিকেলটি লিখেছি। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি আমাদের উপকার করছে নাকি ক্ষতি করছে সে সকল বিষয় সম্পর্কেও আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে জানতে পারবেন। তাই চলুন আর দেরি না করে এখনই শুরু করি।

পোস্টের সূচিপত্রঃ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি - আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার

ভূমিকা

প্রতিবারের মতো করে এমন একটি বিষয় নিয়ে আমরা আপনার সামনে উপস্থিত হয়েছি যেটির সম্পর্কে আপনারা হয়তোবা কোথাও না কোথাও শুনেছেন। আর সে বিষয়টি হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। যাকে আমরা বাংলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে থাকি। যারা টেকনোলজি বিষয় নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাটি করেন তারা নিশ্চয়ই জানেন যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স জিনিসটা কি। 

আপনি নিশ্চয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্যই আজকের এই আর্টিকেলটি পড়তে এসেছেন। তাই আমরা আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার গুলো সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যাকে আমরা সহজ ভাষায় AI বলে থাকি। আর এই AI এর পূর্ণরূপ হল Artificial Intelligence. এই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর বাংলা অর্থ হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়। আমরা যদি সহজ ভাষায় বলতে চাই যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি তাহলে বলা যায় যে, মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করে এবং সেগুলো যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করানো হলে তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলা হয়। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর জনক কে

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক হচ্ছেন একজন আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী যার নাম হল জন ম্যাকার্থি (ইংরেজি: John McCarthy) (৪ সেপ্টেম্বর, ১৯২৭ - ২৪ অক্টোবর, ২০১১). তিনি সর্বপ্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নামক পরিভাষার প্রচলন করেন। তাই তাকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক বলা হয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কাজ কি

মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে যন্ত্রের সাহায্যে সেগুলো বাস্তবায়ন করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলা হয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রধান কাজ হল প্রোগ্রামের মাধ্যমে কোন সফটওয়্যার বা মেশিন ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান করা। এছাড়াও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কাজ হল মানুষের থেকে প্রশ্ন শুনে সেগুলোর উত্তর দেওয়া।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কিভাবে কাজ করে

আপনি নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি। কিন্তু আপনি কি জানেন যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কিভাবে কাজ করে। যদি আপনি না জেনে থাকেন যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কিভাবে কাজ করে তাহলে মনোযোগ সহকারে পড়ুন। বর্তমানে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে তাদের কাজগুলো করে থাকে। Google, Facebook, Twitter, YouTube সহ আরো অনেক কোম্পানি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিভিন্নভাবে কাজ করে থাকে। যেমন -
  • Cognitive computing: Cognitive computing এর উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেভাবে কাজ করে সেগুলো হুবহু কপি করে মানুষের মতো করে কাজ করতে পারে। যেমন ধরুন যে রোবট দেখবে শুনবে তারপরে মানুষ যেভাবে উত্তর দিবে মেশিনও ঠিক সেভাবে হুবহু উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে।
  • Machine learning: মেশিন লার্নিং পদ্ধতির মাধ্যমে ডাটার ভেতরে লুকিয়ে থাকা তথ্যগুলো নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বের করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হয়। সেই প্রোগ্রামগুলোর প্যাটার্ন খুঁজে সেগুলোকে আরো ভালোভাবে উন্নত করার জন্য মেশিন লার্নিং খুবই ভালো কাজ করে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সুবিধা

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে জানার পরে সবার মনে একটি প্রশ্ন এসে থাকে যে তারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে কি কি সুবিধা পেতে পারে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সুবিধা সম্পর্কে নিজে ভালোভাবে আলোচনা করা হলো।
  • দ্রুত সিদ্ধান্ত: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই দ্রুত এবং ভালোভাবে কাজ করে। যেমন আমরা যদি উইন্ডোজটিতে দাবা খেলা খেলি তাহলে সেখানে কম্পিউটারকে হারানো খুবই কঠিন হয়ে যায়। কারণ সেখানে বিভিন্ন ধরনের অ্যালগরিদম ব্যবহার করার কারণে কম্পিউটারকে হারানো অনেক কঠিন হয়ে ওঠে।
  • দৈনিক আবেদন: আজকাল অ্যাপলের সিরির এআই গুগলের মধ্যে ভয়েস উপায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এবং যার মাধ্যমে এই ভয়েস টেকনোলজির কারণে আমরা সেই মেশিনগুলোর সঙ্গে কথা বলতে পারি।
  • ঔষধে: চিকিৎসা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। কারণ এটি স্বল্প সময়ের মধ্যে যেকোনো ডাক্তারের তথ্য আমাদের সামনে নিয়ে আসতে পারে। এছাড়াও এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যেতে পারে। আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনে ওষুধের ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে থাকি।
  • ডিজিটাল সহকারী: ডিজিটাল সহকারী হিসেবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা এখন বর্তমান বিশ্বে অ্যামাজন অ্যাসিস্ট্যান্ট, গুগল মাই অ্যাসিস্ট্যান্ট এর মত আরো বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবন উপভোগ করতে পারি। এই সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনাকে আপনার সময় মত আপনার প্রয়োজনীয় কাজের কথাগুলো মনে করিয়ে দেয়। এছাড়াও আরো অনেক কাজের ক্ষেত্রে এরা ডিজিটাল সহকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর খারাপ দিক

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যেমন অনেকগুলো ভালো দিক রয়েছে তেমনি এটির কিছু কিছু খারাপ দিকে রয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর খারাপ দিকগুলো হল -
  • চাকরির স্থানচ্যুতি: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে এখন অনেক ধরনের কাজ করা হয়। এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে এখন অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় করার সম্ভবনা রয়েছে। যার ফলে দিন দিন বেকারত্ব অনেক বেশি পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছে।
  • গোপনীয়তার উদ্বেগ: বর্তমানে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তাদের ব্যবহারকারীর বিপুল পরিমাণের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে পারে যা তারা চাইলে যে কোন সময় এটির অপব্যবহার হতে পারে।
  • নিরাপত্তা ঝুঁকি: বর্তমান সময়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হ্যাকিং এর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যা বিভিন্ন ধরনের ডেটা লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে।
  • নির্ভরতা: মানুষ এখন এআই এর উপর অনেকটা নির্ভর হয়ে পড়ছে। এই এআই এর উপর অত্যাধিক নির্ভর হওয়ার কারণে মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা হারাতে পারে।
  • স্বচ্ছতার অভাব: কিছু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই সিস্টেম অস্বচ্ছ হতে পারে, যার ফলে তারা কিভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তা বোঝা অনেক কঠিন হয়ে যায়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করবে

বর্তমানে এই বিজ্ঞান প্রযুক্তির সময়ে কোন কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা রোবট আমাদের কাছে নতুন কোন বিষয় না। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে হয়তো বা প্রায় কম বেশি অনেকেই জানেন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন বর্তমানে মানুষের মতো ভাবতে পারে বা মানুষের মত চিন্তা ভাবনা করে কাজ করতে পারে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দ্বারা এমন কঠিন কাজ করা যায় যা মানুষের দ্বারা কখনো করা সম্ভব না। তাই অনেক বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে ভবিষ্যৎ সময়ে মানুষের কর্মক্ষেত্রের বেশিরভাগ জায়গা রোবট তাদের দখলে নিয়ে যেতে পারে। 

বর্তমানে এখন অনেক বড় বড় কোম্পানি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করার মাধ্যমে তাদের কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এতটাই স্মার্ট হয়ে গেছে যে, আপনি সারাদিন ইন্টারনেটে বা গুগলে কি সার্চ করছেন বা কোন বিষয়গুলো সম্পর্কে ব্রাউজ করছেন সেগুলোর উপর ভিত্তি করে আপনার পছন্দের এবং অপছন্দের বিষয়টি খুঁজে বের করে আপনাকে একটি কোম্পানিতে নিয়োগ প্রদান করবে। বর্তমানে এখন অনেক বড় বড় কারখানাতে বা কোম্পানিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে কাজ করা হয়।

শেষ কথা

বর্তমান সময়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহারের কোন তুলনা হয় না। মানুষ এখন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার করে থাকে। তার কারণ হলো বর্তমানে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দৈনন্দিন বিভিন্ন ধরনের কাজকে অনেক সহজ করে তুলেছে। আমাদের জীবনের প্রতিটি চলার পথে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অর্থাৎ সবশেষে বলা যায় যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন বর্তমানে অন্যতম একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url