রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় কি

 রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় কি তা জেনে রাখলে আমরা খুব সহজেই এই এলার্জি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। বিশেষ করে যাদের এলার্জি জাতীয় সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় কি তা খুবই ভালোভাবে জেনে রাখা। আজকের এই আর্টিকেলে রক্তের এলার্জি হলে কি কি সমস্যা হয় এবং রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় কি তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। 
রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় কি
তাহলে চলুন ঝটপট শুরু করা যাক। আপনি যদি জানতে চান যে রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় কি তাহলে পুরো পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

পোস্টের সূচিপত্রঃ রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় কি

ভূমিকা

বর্তমান সময় মানুষের মধ্যে যে রোগটি সবথেকে বেশি দেখা দিচ্ছে সেটি হল রক্তের এলার্জি। এলার্জিকে বাংলা ভাষায় অতিপ্রতিক্রিয়া বলা হয়। পরিবেশে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের বস্তুর উপস্থিতিতে কোন কোন মানুষের দেহের প্রতিরক্ষান্তের অসংবেদনশীলতার কারণে যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তাকে এলার্জি বলা হয়। 

 রক্তেরএলার্জি হওয়াটা যে একটা মানুষের জন্য কতটা কষ্টদায়ক তার শুধুমাত্র তারাই বোঝেন যারা এই রোগের ভুক্তভোগী। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে এলার্জি দূর করার উপায় কি এবং এইসব বিষয়ে ধারণা না থাকার জন্যই তারা এলার্জি থেকে পরিপূর্ণভাবে মুক্তি পেতে পারে না। তাই আমরা আজকে আপনাকে বলব যে কিভাবে রক্তের এলার্জি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

এলার্জির লক্ষণ গুলো কি কি

একটি মানুষের শরীরে এলার্জি দেখা দিলে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ সেই ব্যক্তির মধ্যে দেখা যায়। এলার্জির লক্ষণ গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম যে লক্ষণটি দেখা যায় সেটি হচ্ছে অনবরত হাঁচি হওয়া। একটি মানুষের শরীরে যখন এলার্জি রোগটি ধরা পড়ে এবং সেই ব্যক্তি যখন বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে যায় বা মহিলা জাতীয় কোন কিছু পরিষ্কার করতে যায় তাহলে তার অনবরত হাঁচি সমস্যাটি দেখা দেয়। 
এছাড়াও এলার্জির লক্ষণ গুলোর মধ্যে দেখা যায় যে নাক দিয়ে পানি পড়ে, নাক চুলকায়, আবার কোন কোন সময় দেখা যায় যে নাক বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি কোন কোন সময় চোখ দিয়েও পানি পড়তে দেখা যায় এবং চোখ লাল হয়ে যেতে দেখা যায়। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে কোন ব্যক্তির এলার্জি জাতীয় সমস্যা থাকলে তার মধ্যে শ্বাসকষ্ট জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়। আবার কোন কোন সময় রক্তে এলার্জি হওয়ার ফলে রক্তচাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং মাথা ঘোরায়।

এলার্জি হলে কি কি খাওয়া নিষেধ

আমাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো খাওয়ার মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে এলার্জি জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়। তাই এলার্জি সমস্যাটি হলে কোন কোন খাবারগুলো খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে। এলার্জি হলে যে সকল খাবারগুলো খাওয়া নিষেধ সে সকল খাবার সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো
দুধ: বর্তমান সময়ে ছোট বাচ্চা শিশুদের মধ্যে গরুর দুধ খাওয়ার ফলে প্রচুর পরিমাণে এলার্জি দেখা দিচ্ছে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে এক নয়।
ডিম: আমরা সকলেই জানি যে ডিম হচ্ছে একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর জাতীয় খাবার। কিন্তু ছোট থেকে বড় এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের ডিম খাওয়ার ফলে এলার্জি জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়। তাই শিশু থেকে শুরু করে বড়দের মধ্যে যাদের ডিম খাওয়ার ফলে এলার্জি হয় তাদের উচিত ডিম খাওয়া থেকে দূরে থাকা।
মাছ: অনেক সময় দেখা যায় যে কোন কোন ব্যক্তির বিশেষ কোন মাছ খাওয়ার কারণে এলার্জি দেখা দেয়। আবার কোন কোন ব্যক্তির সামুদ্রিক জাতীয় মাছ খাবার ফলে এলার্জি জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়।
সেল ফিশ: সেল ফিশ জাতীয় বিভিন্ন ধরনের মাছের কারণে এলার্জি সমস্যাটি দেখা দেয়। চিংড়ি মাছ সহ কাঁকড়া এবং শামুক জাতীয় খাবার যেগুলোর শক্ত খোল রয়েছে সেই সকল খাবার খাওয়ার ফলে বিশ্বের প্রায় ৬০ ভাগ মানুষের মধ্যে এলার্জি সমস্যাটি দেখা যায়।
বাদাম: বাদাম খেতে অনেক মানুষই পছন্দ করেন। কিন্তু কিছু কিছু বাদাম রয়েছে যেগুলো খাবার খাবার ফলে এলার্জি জাতীয় সমস্যা ধরা পড়ে। তাই যে সকল বাদাম খাওয়ার ফলে এলার্জির সমস্যা হয় সে সকল বাদাম খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।

এলার্জি থেকে মুক্তির উপায় কী

এলার্জি সম্পর্কে হয়তোবা কম বেশি অনেক মানুষই শুনেছেন বা জানেন। কিন্তু অনেক মানুষ এটি জানে না যে এলার্জি দূর করার উপায় কি বা এলার্জি থেকে মুক্তির উপায় কি। আপনি যদি এলার্জি থেকে মুক্তির উপায় কি সেটি সম্পর্কে জানতে চান তাহলে ভালোভাবে মনোযোগ সহকারে পড়ুন। যাদের শরীরে এলার্জি রয়েছে তাদেরকে সব সময় খুব সচেতনতার সাথে থাকতে হয়। কারণ একটু কিছু ভুলের কারণে শুরু হয়ে যায় চুলকানি সহ চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং ত্বকের মধ্যে লালচে দানা উঠা। 

ধুলাবালি ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের বস্তুর সংস্পর্শে গেলে এলার্জি রোগীর শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ডিটারজেন্ট, সাবান, ফুলের রেনু, সিন্থেটিক কাপড় ইত্যাদি বস্তুর প্রতি অতি সংবেদনশীলতার কারণে এলার্জি দেখা দিতে পারে। তাই এলার্জি থেকে মুক্তি পাবার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হবে সেটি হল যে সব বস্তুতে অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা রয়েছে সেসব বস্তুর সংস্পর্শে না যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। 

কারো শরীরে যদি এলার্জি থেকে থাকে তাহলে তার কখনো উচিত না যে কোন সাবান ব্যবহার করা, এছাড়াও তার ডিটারজেন্টের সংস্পর্শে যাওয়া উচিত না। তাছাড়া যে সকল খাবার খাবার হলে এলার্জি জাতীয় সমস্যা হয় সে সকল খাবারগুলো পরিহার করতে হবে। যে খাবারগুলোতে এলার্জি জাতীয় সমস্যা রয়েছে সে সকল খাবারের একটি লিস্ট বানিয়ে দৈনন্দিন খাবারের তালিকা থেকে সেই সকল খাবার বাদ দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এভাবে কিছুটা মেনে চললে এলার্জি জাতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

রক্তের এলার্জি দূর করার উপায়

রক্তে এলার্জি কমানোর উপায় জানার আগে এটি জানতে হবে যে আপনার শরীরের মধ্যে এলার্জি আছে কিনা। যদি কোন সময় দেখা যাচ্ছে যে আপনি আপনার ঘরের মধ্যে জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার করতে গিয়ে আপনার হঠাৎ করে অতিরিক্ত পরিমাণে হাঁচি হওয়া শুরু হয়ে যায় আবার অনেক সময় দেখা যায় যে চিংড়ি মাছ, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ ইত্যাদি খাবার ফলে আপনার পুরো শরীরে চুলকানি শুরু হয়ে যায় তাহলে ধরে নিতে হবে যে আপনার শরীরে এলার্জি সমস্যাটি রয়েছে। 

রক্তের এলার্জি দূর করার জন্য প্রথমে আপনাকে শনাক্ত করতে হবে যে আপনার শরীরের মধ্যে কি কারনে এলার্জি সমস্যাটি হচ্ছে। যদি আপনি সেই সমস্যাটি ভালোভাবে শনাক্ত করতে পারেন তাহলে এ রক্তে এলার্জি অনেকটাই কমিয়ে ফেলা যাবে। এছাড়াও রক্তে এলার্জি কমাতে হলে আপনার উচিত যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে এলার্জি হয় সেসব জিনিস হতে দূরে থাকা। তাছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা এবং এলার্জির বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করা তবে সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

ত্বকের এলার্জি দূর করার উপায়

ত্বক হচ্ছে একটি মানুষের শরীরের সৌন্দর্যের প্রতীক। অনেক মানুষের দেখা যায় যে তারা ত্বকের বিভিন্ন ধরনের এলার্জির সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু এই ত্বকের এলার্জি দূর করার সঠিক উপায় না জানার কারণে তারা এই ত্বকের এলার্জি থেকে মুক্তি পেতে পারে না। একটি মানুষের শরীরের ত্বকের এলার্জি হওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় যেমন চামড়া উঠতে দেখা যায়, অনেক সময় দেখা যায় যে ত্বক লাল হয়ে যায়, আবার কিছু কিছু মানুষের দেখা যায় যে তাদের ত্বকে লাল ফুসড়ির মত হয়ে পুরো ত্বক ভর্তি হয়ে যায়। ত্বকের এলার্জি দূর করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। 

এগুলো অনেক ভালো কাজ করে এবং এগুলোর কোন সাইড ইফেক্ট থাকেনা। আপনি ত্বকের এলার্জি দূর করতে যেসব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে পারেন সেগুলো অ্যালোভেরা, আপেল সিডার ভিনেগার, অলিভ অয়েল, পেট্রোলিয়াম জেলি, লবণ পানি ইত্যাদি আরো অনেক প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে যেমন ত্বকের অ্যালার্জি দূর করা যায় ঠিক তেমনি ত্বকে এলার্জি হওয়ার ফলে যে দাগগুলো রয়ে যায় একটি মানুষের শরীরে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই দূর করা যায়।

এলার্জি দূর করার উপায় ঔষধ

এলার্জি এখন মানুষের মধ্যে খুব কমন একটি সমস্যা হয়ে উঠেছে। এখন শিশু থেকে বড়রা পর্যন্ত অনেক মানুষেরই এলার্জির সমস্যাটি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কিছু বিধি-নিষেধ এবং এলার্জি দূর করার উপায় কি এই সম্পর্কে না জানার কারণে পরিপূর্ণভাবে এলার্জি থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। এলার্জি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সাধারণত অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করতে হয়। এটি আপনি চাইলে এলার্জির লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরে বা এলার্জি লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেও সেবন করতে পারেন। 

কারো যদি এলার্জির সমস্যা থাকে এবং তাকে যদি ঘরের ধুলাবালি পরিষ্কার করতে হয় তাহলে তিনি প্রথমে এই অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। এই অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধগুলো শরীরে হিসটামিনের প্রভাব গুলিকে অবরুদ্ধ করে এলার্জির জন্য কাজ করে। অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় কিছু ওষুধের নাম নিচে তুলে ধরা হলো -
Cetirizine
  1. Acitrin (এসিআই)
  2. Alatrol (স্কয়ার)
  3. Cetrin (ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল)
  4. Atrizin (বেক্সিমকো)
  5. Nosemin (ইবনে সিনা)
  6. Ontin (এসকেএফ) 
Loratadine
  1. Alaron (এসিআই)
  2. Alert (এপোলো)
  3. Loratin (স্কয়ার)
  4. Orin (একমি)
  5. Silora (ইবনে সিনা)
  6. Lorat (ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল)
Fexofenadine
  1. Alanin (একমি)
  2. Axodin (বেক্সিমকো)
  3. Fexo (স্কয়ার)
  4. Fexofast (ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল)
  5. Axofen (এরিস্টোফার্মা)
  6. Fenofex (ইনসেপ্টা)

শেষ কথা

বর্তমানে যেহেতু রক্তের এলার্জি প্রায় অনেক মানুষের শরীরে দেখা দিচ্ছে তাই এই এলার্জিকে অবহেলা না করে রক্তের এলার্জি দূর করার উপায় কি সে সম্পর্কে জেনে ভালোভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। যেহেতু ছোট থেকে বড় সব মানুষেরই এলার্জি হয়ে থাকে তাই এটিকে বেশি অবহেলা করা যাবে না। তাছাড়া রক্তের এলার্জি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং ডাক্তারের দেওয়া ঔষুধ খেতে হবে। আজকের পোস্টটি আপনার কাছে কেমন লাগলো তা আমাদের কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। আর প্রতিনিয়ত এমন নতুন নতুন পোস্ট পড়তে সর্বদা আমাদের সাথে থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url