রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত

রক্তদান খুবই ভালো একটি কাজ। পরিবারের কারো অথবা আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব কারো যদি রক্তের প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা অনেকেই রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করে থাকি। আপনার এক ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। এছাড়াও নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে আপনার শরীর এবং স্বাস্থ্য ও অনেক ভালো থাকে। 
রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত
কিন্তু শুধু রক্ত দিলে চলবে না। রক্ত দেওয়ার আগে এবং পরে যেসব করণীয় রয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে তা না হলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা আপনাকে জানাবো যে রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত। রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত এই বিষয় সম্পর্কে যদি না জানা থাকে তাহলে আপনার উচিত এখনই সে বিষয়ে জেনে নেওয়া। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

পোস্টের সূচিপত্রঃ রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত

ভূমিকা

যখন কোন মানুষের রক্তের প্রয়োজন হয় তখন বোঝা যায় রক্ত কতটা অমূল্য একটি সম্পদ। এখন রক্ত পাওয়াটা অনেক সহজ বিষয়। কারণ এখনকার যুবক ছেলেরা নিজে থেকে আগ্রহ করে অপরিচিত মানুষকে রক্ত দান করে থাকে। কিন্তু এদের মধ্যে অনেকেই জানে না যে রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত। এ বিষয়ে না জানার কারণে রক্ত দেওয়ার পর তাদেরকে পড়তে হয় বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে। তাই প্রত্যেকটি মানুষের এটি জানা উচিত যে রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত। চলুন তাহলে ভালোভাবে জেনে নিন সেসব বিষয় সম্পর্কে।

রক্ত দেওয়ার পর করণীয়

যেহেতু রক্ত দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। তাই প্রত্যেকটি মানুষের উচিত যে নিয়মিত রক্ত দান করা। কিন্তু রক্ত দেওয়ার পরে যে অনেকগুলো করণীয় বিষয় রয়েছে সেসব বিষয়গুলো অবশ্যই একজন রক্তদানকারীকে মেনে চলতে হবে। তা না হলে পড়তে হবে নানান ধরনের সমস্যায়। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক যে রক্ত দেওয়ার পর করণীয় কাজ গুলো কি কি।
  • রক্ত দেওয়ার পরে একজন মানুষের উচিত পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়া এবং শুয়ে থাকা। কিন্তু এই শুয়ে থাকা অবস্থা থেকে হুটহাট করে উঠে বসা যাবে না বা উঠে দাঁড়ানো যাবে না।
  • এমন অনেকেই আছেন যে রক্ত দেওয়ার পরে বেশি পরিমাণে পানি পান করেন না। কিন্তু রক্ত দেওয়ার পরে এমনটি করা উচিত নয়। রক্ত দেওয়ার পরে প্রচুর পরিমাণে পানি এবং পানি জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • একজন মানুষ প্রতিদিন যে পরিমাণ কাজ করে তার উচিত হবে রক্ত দেওয়ার পরে তার কাজের সময় একটু কম করা এবং কয়েক ঘন্টা কাজ করার পরে শারীরিকভাবে বিশ্রাম নেওয়া।
  • রক্ত দেওয়ার পরে আয়রন জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে এছাড়াও লাল শাক, মাছ, মাংস, ডিম, কলা ইত্যাদি খাবার গুলো খেতে হবে যাতে করে শরীরে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি পায়।
  • একজন মানুষ একবার রক্ত দেওয়ার পরে তিন মাসের মধ্যে আর রক্ত দিতে পারবেন না। তাই উচিত হবে যে একজন মানুষ রক্ত দেওয়ার পরে পরবর্তীতে আবার তিন মাস পর রক্ত দেওয়া।

রক্ত দেওয়ার আগে কি খাওয়া উচিত

এমন অনেক মানুষ দেখা যায় যে যারা নিয়মিত রক্তদান করে থাকেন। একটি মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য যে রক্ত কতটা প্রয়োজন তা আমরা রক্তের প্রয়োজন পড়লেই বুঝতে পারি। রক্ত দেওয়ার পরে যেমন অনেকগুলো করণীয় বিষয় রয়েছে তেমনি রক্ত দেওয়ার আগেও কিছু করণীয় বিষয় রয়েছে। একজন রক্তদানকারীর উচিত যে রক্ত দেওয়ার আগে কি খাওয়া উচিত সেসব বিষয়ে সম্পূর্ণ ধারণা রাখা। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক যে রক্ত দেওয়ার আগে কি খাওয়া উচিত।
  • একজন মানুষের শরীরে রক্তের প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশই তৈরি হয় জল থেকে। তাই রক্ত দেওয়ার আগে প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে। তাছাড়া রক্তদানের আগে যদি শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে যায় তাহলে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। তাই শরীর যাতে ডিহাইডেট না হয় এর জন্য রক্ত দানের আগে কমপক্ষে দুই গ্লাস জল পান করুন।
  • রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন জাতীয় খাবার খুবই ভালো কাজ করে। তাই রক্ত দেওয়ার আগে প্রচুর পরিমাণে আয়রন জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • রক্ত দেওয়ার আগে আয়রনযুক্ত খাবার যেমন ভেড়ার মাংস, আলু, ডিম, সবজি, মটরশুঁটি, স্ট্রবেরি, শুকনো ফল, ব্রকোলি ইত্যাদি খাবার খেতে পারেন।
  • রক্ত দেওয়ার পরে যাতে শরীর ক্লান্ত না হয়ে যায় এজন্য রক্তদানের আগে শরীরের ক্লান্তি দূর করে এমন জাতীয় খাবার গুলো খেতে হবে।
  • কিন্তু রক্ত দেওয়ার আগে কোন ধরনের অ্যালকোহল জাতীয় জিনিস পান করবেন না। আবার রক্তদানের আগে কোন ফ্যাট জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকুন।

রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত

এতক্ষণে আপনারা জেনে গেছেন যে রক্ত দেওয়ার আগে কি কি খাওয়া উচিত। কিন্তু আপনার জানা উচিত যে রক্ত দেওয়ার পর কি কি খাবার খেতে হবে। যদি আপনি না জানেন যে রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত তাহলে রক্ত দেওয়ার পর আপনাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। এসব সমস্যা থেকে দূরে থাকার জন্য আপনার উচিত হবে রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত সে বিষয়ে জানা। চলুন তাহলে জেনে নিন যে রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত।
  • যেহেতু রক্তে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে তাই আপনার উচিত হবে রক্ত দেওয়ার পর প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা।
  • এছাড়া রক্ত দেওয়ার পরে প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেতে হবে যাতে শরীরে প্রচুর পরিমাণে শক্তি যোগায়।
  • রক্ত দেওয়ার সাথে সাথে ব্যস্ততার উচিত গ্লুকোজ পান করা। কারণ এই গ্লুকোজ শরীরের জন্য খুবই উপকারী।
  • রক্ত দেওয়ার পরে ধূমপান বা মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে
  • শরীরে যাতে আবার নতুন করে রক্ত তৈরি হয় এজন্য একজন রক্তদানকারী উচিত হবে যে রক্ত দেওয়ার পরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন জাতীয় খাবার খাওয়া। কারণে আয়রন জাতীয় খাবার রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহযোগিতা করে।
  • রক্ত দেওয়ার পরপরই কোন প্রকার শারীরিক ব্যায়াম যেমন দৌড়াদৌড়ি করা, জিমনেসিয়াম ইত্যাদি শারীরিক ব্যায়াম থেকে দূরে থাকতে হবে।
উপযুক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে একজন রক্তদান কারীর রক্ত দেওয়ার পরে কোনরকম সমস্যায় পড়তে হবে না।

রক্ত দিলে কি ওজন কমে

একজন মানুষ রক্ত দান করলে তার শরীর থেকে প্রায় ৬৫০ ক্যালরির মতো খরচ হয়। এই ক্যালারি কমার ফলে রক্তদানকারীর ওজন কিছুটা কমে যায়। এছাড়া রক্তদান করার ফলে অনেক ধরনের রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া রক্ত দেওয়া একজন মানুষের শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্তদান করার ফলে হার্ট অ্যাটাক জাতীয় সমস্যা থেকে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখে।

রক্ত দানের উপকারিতা

রক্তদানের অনেকগুলো উপকারিতা রয়েছে। নিয়মিত রক্তদান করা শরীরের জন্য অনেক ভালো এবং নিয়মিত রক্ত দান করার ফলে অনেক ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রক্তদানের কিছু উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
  • নিয়মিত রক্তদান করার ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়।
  • নিয়মিত যদি রক্ত দেওয়া যায় তাহলে শরীরের রক্তের লোহিত কণিকা তৈরির হার অনেকাংশে বেড়ে যায়। এছাড়া রক্তের স্বল্পতা ও পূরণ হয়ে যায়।
  • নিয়মিত রক্ত দেওয়ার ফলে শরীর থেকে রক্তচাপ কমে যায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখে।
  • নিয়মিত রক্ত দেওয়ার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তোলে।
  • একজন মানুষের শরীর পরীক্ষা করতে হলে ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটি করতে হয় এবং এই খরচটা অনেক বেশি পড়ে যায়। কিন্তু নিয়মিত রক্তদান করার ফলে এই সমস্যায় পড়তে হয় না। এছাড়া নিয়মিত রক্তদান করার ফলে আপনার শরীরে থাকা রোগগুলো ধরা পড়ে যাবে।

শেষ কথা

যেহেতু নিয়মিত রক্ত দেওয়ার ফলে একজন মানুষের শরীর সুস্থ থাকে এবং ভালো থাকে তাই প্রতিটি মানুষের উচিত হবে যে নিয়মিত রক্তদান করা। এছাড়া আপনার এক ব্যাগ রক্ত বাঁচাতে পারে একটি মানুষের প্রাণ। নিয়মিত রক্ত দেওয়ার ফলে যেহেতু অনেক রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তাই প্রত্যেকের উচিত হবে নিয়মিত রক্তদান করা। আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে রক্ত দেওয়ার পর কি খাওয়া উচিত বা রক্তদানের পর করণীয় কাজ কি। এরকম নতুন নতুন পোস্ট পড়তে সব সময় আমাদের সাথে থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url