ব্যায়াম করার সঠিক সময় - ব্যায়াম করার নিয়ম

প্রিয় পাঠক, আজকের আমাদের এই আর্টিকেলের আলোচ্য বিষয়টি হল ব্যায়াম করার সঠিক সময় এবং ব্যায়াম করার নিয়ম। আমরা সকলে জানি যে ব্যায়াম আমাদের শরীরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তার কারণ ব্যায়াম আমাদের শরীরকে ভালো রাখে। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে ব্যায়াম করার সঠিক সময় এবং ব্যায়াম করার নিয়ম কোনটি। 
ব্যায়াম করার সঠিক সময় - ব্যায়াম করার নিয়ম
তাই আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা সেসব বিষয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করি আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন এবং আমাদের সাথে থাকবেন।তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের এই আর্টিকেল।

পোস্টের সূচিপত্রঃ ব্যায়াম করার সঠিক সময় - ব্যায়াম করার নিয়ম

ভূমিকা

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। নিয়মিত ব্যায়াম করা আমাদের স্বাস্থ্য এবং মন দুটোকেই সুন্দর এবং সুস্থ সবল রাখে। নিয়মিত ব্যায়াম করার মাধ্যমে আমাদের সকল প্রকার কাজের উপর ভালোভাবে মনোযোগ বসে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের শরীরকে ফিট রাখতে সহায়তা করে। তার জন্যই বলা হয় যে নিয়মিত ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। 

শরীরের সুস্থতা রক্ষার্থে ব্যায়ামকে একটি আশ্চর্যজনক ঔষধ হিসেবে মনে করা হয়। তবে এই ব্যায়াম কখন করতে হয় এবং কিভাবে করতে হয় এ বিষয়টি আমাদের অনেকের কাছেই অজানা হয়ে রয়েছে। আজকে সেই অজানা বিষয় সম্পর্কে আমরা জানবো।

ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা

ব্যায়াম হচ্ছে এমন এক ধরনের শরীর চর্চা যা আমাদের শরীর এবং মনকে সুস্থতা দান করে। শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। আর এই নিয়মকানুন গুলোর মধ্যে প্রথমেই ব্যায়ামের কথাটি চলে আসে। আমাদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগের দেখা দেয়। ব্যায়াম আমাদের শরীরকে সেই সব রোগ কে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা দিয়ে থাকে। 

আমাদের ঘুমের মান ঠিক করতে ব্যায়াম এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ব্যায়াম আমাদের বিভিন্ন ধরনের ডিপ্রেশন থেকে রক্ষা করে। আমাদের হার্টের অসুখ দূর করতে ব্যায়ামের প্রয়োজন রয়েছে এবং এই ব্যায়ামের মাধ্যমে আমাদের যে দীর্ঘস্থায়ী লোকগুলো আছে সেগুলো থেকে অনেকাংশের ঝুঁকি কমায়। এজন্য শারীরিক সুস্থতার জন্য ডাক্তারদের প্রথম পরামর্শ হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম করা। যাতে করে আমাদের শরীর সুস্থ এবং সবল থাকে।

সকালে কোন ধরনের ব্যায়াম করা উচিত

আমরা বেশিরভাগ সময় সকালে ব্যায়াম করি। কিন্তু সকালে কোন ধরনের ব্যায়াম করা উচিত সে বিষয় সম্পর্কে আমরা জানিনা। ব্যায়াম সাধারণত দুটি সময় করা হয়ে থাকে একটি হল সকালে এবং অপরটি সন্ধ্যায়। তবে সকালবেলা ব্যায়াম করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সকালবেলা ব্যায়াম আমাদের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা দিয়ে থাকে। সকালের ব্যায়াম গুলোর মধ্যে কার্ডিও ব্যায়াম গুলো আমাদের জন্য খুবই উপকারী। 

এই কার্ডিও জাতীয় ব্যায়ামগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটা, দৌড়ানো, জাম্পিং করা, সাইকেলিং করা, পুশ আপ করা ইত্যাদি আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম রয়েছে। সকালবেলা ব্যায়াম করার মাধ্যমে আমাদের শরীরের ওজন দ্রুত কমানো যায়। সকাল বেলার ব্যায়াম আমাদের মধ্যে মনমুগ্ধকর এবং শান্তির সৃষ্টি করে। সকালবেলা ব্যায়ামগুলো আমাদের শরীরের মধ্যে অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রবেশ করাতে সহযোগিতা করে।

সকালে খালি পেটে ব্যায়াম করা কি ভালো

আমাদের সকলের মনে সব সময় একটি প্রশ্ন এসে থাকে যে সকালে খালি পেটে ব্যায়াম করা কি ভালো। এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকার করে নাকি ক্ষতি করে। তবে বিভিন্ন ধরনের গবেষণার মাধ্যমে বলা যায় যে সকাল বেলা খালি পেটে ব্যায়াম করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনে। খালি পেটে ব্যায়াম করার মাধ্যমে আমাদের পেশিগুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এছাড়া খালি পেটে ব্যায়াম আমাদের শরীরকে সুস্থ এবং ফিট রাখতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকে। 

খালি পেটে ব্যায়াম করার মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সৃষ্টি হয়। খালি পেটে ব্যায়াম আমাদের অধিক ওজন কমাতে সহযোগিতা করে কারণ হলো খালি পেটে ব্যায়াম করার মাধ্যমে আমাদের প্রচুর পরিমাণে শক্তি খরচ হয় এবং প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট বার্ন হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে খালি পেটে ব্যায়াম করার কিছু অসুবিধা রয়েছে। 

খালি পেটে ব্যায়াম করার প্রথম অসুবিধা হলো খালি পেটে ব্যায়াম করার মাধ্যমে আমাদের কিছু কিছু সময় বমি বমি ভাব আসতে পারে। এছাড়া খালি পেটে ব্যায়ামের মাধ্যমে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের পেশিতে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ব্যায়াম করার আগে সামান্য পরিমাণ হালকা গরম পানিতে লেবু জল মিশিয়ে পান করে নিলে শরীরের জন্য ভালো হয়।

প্রতিদিন কত মিনিট ব্যায়াম করা উচিত

প্রতিদিন কত মিনিট ব্যায়াম করতে হয় এ বিষয়টি সম্পর্কে হয়তো বা আমরা অনেকেই অজানা। আর এজন্যই আমরা ব্যায়াম করার সঠিক সময় সম্পর্কে অনেকেই বুঝতে পারিনা। শরীর চর্চা যেমন আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী তেমনি অতিরিক্ত শরীর চর্চা আমাদেরকে ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। অনেক মানুষ এটা মনে করেন যে তাদের প্রতিনিয়ত ৩০ মিনিট শরীর চর্চা করলেই বোধহয় যথেষ্ট পরিমাণ হয়। 

তবে বিভিন্ন ধরনের ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা অনেক গবেষণা করে জানিয়েছেন যে পুরো সপ্তাহ জুড়ে মোট ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করাটাই যথেষ্ট। তবে এই ব্যায়াম করার জন্য সব সময় জিমে যেতে হবে এমন কোন মানে নেই। আপনি চাইলে আপনার নিজের বাসায় বসেও বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করতে পারেন। এছাড়া চাইলে আপনি রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করেও ব্যায়াম করতে পারেন। 

পুকুরে সাঁতার কাটার মাধ্যমে এবং সাইকেল চালানোর মাধ্যমেও ব্যায়াম করা হয়। আবার আপনি যদি ইচ্ছা করেন তাহলে জিমেও যেতে পারেন। তবে নিয়মিত শরীর চর্চায় কোন ফাঁকি দেওয়া যাবে না। সঠিক সময় এবং সঠিক পদ্ধতিতে ব্যায়াম আমাদের শরীরকে ভালো এবং সুস্থ রাখবে।

কত বছর বয়স থেকে ব্যায়াম করা যায়

কত বছর বয়স থেকে ব্যায়াম করা যায় যদি এরকম প্রশ্ন আমাদের মনে এসে থাকে তাহলে তার উত্তরে বলা যায় যে সকল প্রকার মানুষই ব্যায়াম করতে পারবেন। তবে ব্যায়ামের মধ্যে কিছু ধরন রয়েছে। এবং সেই ধরন গুলোর উপর বিবেচনা করে ছোটদের জন্য এবং বড়দের জন্য আলাদা আলাদা ব্যায়াম রয়েছে। আপনি যদি ব্যায়ামের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করা, সাইকেল চালানো, সাতার করা এই ব্যায়ামগুলো করতে চান তাহলে এই ব্যায়ামগুলো করতে কোন বয়সের প্রয়োজন হয় না। 

ছোট থেকে বড় সকল প্রকার মানুষই এই ধরনের ব্যায়ামগুলো করতে পারবে। তবে জিম করার ক্ষেত্রে সেগুলো আলাদা ভাবে বিবেচনা করা হয়। ১৭ থেকে ১৮ বৎসর এই বয়সটি হল জিম করার জন্য একটি মানুষের আদর্শ বয়স। এই বয়স থেকে একটি মানুষ জিমে যোগদান করতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যায়ামগুলো করতে পারে। কারণ এই বয়সের মানুষগুলোর শরীরের বিভিন্ন ধরনের পেশিগুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠে যার কারণে তারা বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করতে সক্ষম হয়।

ব্যায়াম করার পর কি খাওয়া উচিত

ব্যায়াম করার পর আমাদের কি ধরনের খাবার খাওয়া উচিত এই বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেকেই চিন্তায় পড়ে যাই। ব্যায়াম করার পরে আমাদের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে খিদা লক্ষ্য করা যায়। তাই ব্যায়াম করার পরে আমাদের প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াটাই উত্তম। এছাড়া আমরা ব্যায়াম করার পরে বিভিন্ন ধরনের কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেতে পারি। 

এছাড়াও আমরা ব্যায়াম করার পরে বিভিন্ন ধরনের শর্করা জাতীয় খাবারও খেতে পারি। এছাড়া আমরা ব্যায়াম করার পরে বিভিন্ন রকমের বাদাম খেতে পারি। এছাড়া ব্যায়াম করার পরে হালকা কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে লেবু পানি করে খেতে পারি। যা আমাদের দ্রুত ওজন কমাতে সহযোগিতা করে থাকে।

ব্যায়াম করার উপকারিতা

আমরা জানি যে স্বাস্থ্যই হচ্ছে সকল সুখের মূল। আর এই সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়াও ব্যায়াম করার অনেক উপকারিতা রয়েছে। ব্যায়াম আমাদের শরীর এবং মন দুটোকেই অনেক ভালো রাখে। এছাড়াও দৈনন্দিন ব্যায়াম করার মাধ্যমে আমাদের মন ভালো এবং প্রফুল্ল থাকে। এছাড়া ব্যায়াম আমাদের অতিরিক্ত মেদ ভুঁড়ি কমিয়ে আমাদেরকে ফিট রাখতে এবং আমাদের শরীরের বাড়ীতে ওজন কমাতে সহযোগিতা করে। ব্যায়ামের মাধ্যমে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। 

নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের শরীরকে সতেজ রাখে। আমাদের বিভিন্ন ধরনের মানসিক অবসাদ দূর করে থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের শরীরের শক্তি যোগায়। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের হৃদরোগ থেকে বাঁচাতে সহযোগিতা করে। নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়াও ব্যায়াম করার নিয়ম অর্থাৎ সঠিক নিয়ম মেনে ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরের মধ্যে অনেক উপকারিতা লক্ষ্য করা যায়।

শেষ কথা

বিভিন্ন ধরনের গবেষকদের গবেষণার মাধ্যমে বলা যায় যে নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের শরীর এবং মন দুটোর জন্যই খুব উপকারী। এছাড়াও নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। উপরের আলোচনা গুলো থেকে বোঝা যায় যে সঠিক সময় মত ব্যায়াম করা এবং সঠিক নিয়ম মেনে ব্যায়াম করা আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা সকলেই চেষ্টা করব নিয়মিত ব্যায়াম করার এবং নিয়ম মেনে ব্যায়াম করা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url