পিরামিড কেন তৈরি করা হয়েছিল - পিরামিডের রহস্য

আপনি কি মিশরের পিরামিড তৈরির পেছনের রহস্য সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। কেননা আজকের এই আর্টিকেলে মিশরের পিরামিড সম্পর্কে এবং মিশরের পিরামিড তৈরির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাই মিশরের পিরামিড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
মিশরের পিরামিড কিভাবে তৈরি হয়েছিল এবং কেন তৈরি হয়েছিল এর বিস্তারিত নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই এর বিস্তারিত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন চলুন তাহলে দেরি না করে মিশরে পিরামিড সম্পর্কে জেনে নিন

পোস্টের সূচিপত্রঃ পিরামিড কেন তৈরি করা হয়েছিল - পিরামিডের রহস্য

ভূমিকা: পিরামিড কেন তৈরি করা হয়েছিল

প্রাচীন সপ্তম দশকে আশ্চর্যকর আবিষ্কার গুলোর মধ্যে পিরামিড একটি। মিশরের ছোট বড় মিলে প্রায় ৭৫ টির মত পিরামিড আছে। প্রাচীনকালে যে শাসক বা রাজারা মিশর শাসন করত তাদেরকে ফিরাউন বলা হতো। তাদের মারা যাওয়ার পর তাদেরকে কবর বাস সমাধি দেওয়ার জন্য এই পিরামিড গুলো নির্মাণ করা হতো। তাদের কবরের উপর যে সমাজে মন্দির গুলো স্থাপন করা হতো সেগুলোকে পিরামিড বলা হতো। 

প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করত যে তাদের মৃত্যুর পরেও তাদের আত্মা বেঁচে থাকে। এর জন্য পরবর্তী জীবনে যাতে তাদের কোন সমস্যা না হয় এবং পরবর্তী জীবনটা যেন তারা ভালোভাবে উপভোগ করতে পারে সে চিন্তা করে মিশরীয়রা সবসময় অস্থির থাকতো। এজন্য তারা এগুলো কথা চিন্তা করে মারা যাওয়ার পরে তাদের দেহকে মমি করে পিরামিড করে রাখা হতো।

পিরামিডগুলো কিভাবে তৈরি করা হয়েছিল

প্রাচীনকালে মিশরের আবিষ্কার গুলোর মধ্যে পিরামিড অন্যতম। প্রাচীনকালে এই পিরামিড গুলো তৈরি করতে বিশাল বিশাল আকারের পাথর খন্ডের প্রয়োজন হয়েছিল। পিরামিড তৈরি করতে যে পাথরগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল তার এক একটি ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন এবং সেগুলোর দৈর্ঘ্য ছিল ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মত। প্রাচীনকালের সব থেকে বড় এবং আকর্ষণীয় পিরামিড টি খুফুর পিরামিড নামে পরিচিত।

এই পিরামিডের উচ্চতা ছিল প্রায় ৪৮১ ফুটের মতো। এই পিরামিড টি তৈরি করেছিল আনুমানিক প্রায় এক লাখ শ্রমিক এবং এটি তৈরি করতে তাদের প্রায় ২০ বছরের মতন সময় লেগেছিলো।মিশরের পিরামিডের বাইরের দেওয়াল গুলো তৈরি করা হয়েছিল চুনাপাথরের ব্লক দিয়ে এবং এই পিরামিড গুলোর ভেতরের দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল মূল্যবান গ্রানাইট পাথর দিয়ে। 

বাইরের দেওয়ালে যে ব্লক গুলো ব্যবহার করা হতো তার এক একটি ওজন ছিল প্রায় একটি প্রাইভেট কারের সমান এবং পিরামিডের ভেতরের এক একটি ব্লকের ওজন ছিল প্রায় ৪০ টি প্রাইভেট কারের সমান। এই ভারি ভারি পাথরের ব্লগগুলো একটি সাথে আরেকটি জোড়া দিয়ে এই পিরামিড গুলো তৈরি করা হতো।

পিরামিড তৈরির রহস্য

মিশরের পিরামিডের ইতিহাস প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ বছর আগের। ইজিপ্টের ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে পাওয়া যায় যে মিশরের পিরামিড তৈরির পেছনে রয়েছে অজস্র রহস্যময় কাহিনী। মিশরের এই পিরামিড নিয়ে মানুষের মধ্যে রহস্যের শেষ নেই। প্রাচীন মিশর যে রাজাগুলো শাসন করতো তাদেরকে ফেরাউন বলা হতো। প্রাচীন মানুষ মনে করত যে মৃত্যুর পরে আরেকটি জীবন রয়েছে এবং সে জীবনে যাতে কোন প্রকার কষ্ট না হয় আনন্দ এবং স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারে এজন্য পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল। 

তারা মৃত্যুর পরে মৃতদেহকে একপ্রকার ব্যান্ডেজ দিয়ে পুরোপুরিভাবে জড়িয়ে বেধে ফেলত। এরপর যখন ব্যান্ডেজ জড়ানোর প্রক্রিয়া শেষ হতো তারপর তারা মৃতদেহকে লাইলেন নামক দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলত এবং মৃতদেহ গুলো ভালোভাবে বাধা হয়ে গেলে সেগুলো কফিনের মধ্যে মমি করে রেখে দিত এবং সেগুলো পিরামিডের মধ্যে রেখে দিত। এই পিরামিড গুলো মকবরা নামে পরিচিত ছিল। চলতি ভাষায় এই পিরামিড গুলোকে মকবরা বলা হতো। ধারণা করা যায় যে মিশরের গ্রেট পিরামিড গুলো তৈরি করতে প্রায় ২০ থেকে ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিক লেগেছিল এবং প্রায় ২৩ বছরের মতো সময় লেগেছিল।

পিরামিড গুলো তৈরি করতে যে ব্লক ব্যবহার করা হয়েছিল অনেক বড় আকারের। অনুমান করা যায় যে পিরামিডের বাইরে যে ব্লক পাথরগুলো ব্যবহার করা হতো তার এক একটির ওজন ছিল প্রায় একটি প্রাইভেট কারের সমান এবং ভিতরে যে ব্লক গুলো ব্যবহার করা হতো তার এক একটির ওজন ছিল প্রায় ৪০টি প্রাইভেট কারের সমান। এত বড় বড় এবং ভারী পাথর ব্যবহার করার জন্য পিরামিড গুলোর ওজনও ছিল অনেক বেশি। অনুমান করা যায় যে গ্রেট পিরামিড গুলোর ওজন ছিল প্রায় ৫৭ লক্ষ টন।

পিরামিড কে তৈরি করেছে

প্রাচীন মিশরে যে রাজারা শাসন করতো তাদেরকে ফেরাউন বলা হতো। মৃত্যুর পরে তাদের মৃতদেহের যাতে কোন প্রকার সমস্যা না হয় এর জন্য বিশাল বিশাল আকারের পিরামিড তৈরি করা হতো। প্রাচীন একটি আরবি প্রবাদ ছিল,"মানুষ ভয় পায় সময় কে,আর সময় ভয় পায় পিরামিডকে"। আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রায় অনেক আগেই নির্মাণ করা হয়েছিল এই আশ্চর্যজন পিরামিড। মিশরের পিরামিড সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া গিয়েছিল গ্রীক দার্শনিক হেরাডোটাসের লেখায়।

তার লেখায় বলা হয়েছিল যে মিশরে পিরামিড গুলো তৈরি করতে প্রায় হাজার হাজার ক্রীতদাস লেগেছিল। ছোট-বড় মিলে মিশরে প্রায় একশোর‌ও বেশি পিরামিড রয়েছে। গিজার বিখ্যাত তিনটি পিরামিড পিরামিড গুলোর মধ্যে ছিল সবথেকে বড় এবং নিখুত আকৃতির। কলিজার সব থেকে বড় পিরামিডের নাম ছিল খুফুর। যার উচ্চতা ছিল তখন প্রায় ৪৮১ ফুটের মতো। যা এখনকার সময়ে ৫০ তলা বিল্ডিং এর চেয়েও উঁচু। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই পিরামিড গুলো তৈরি করা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মিশর বিশেষজ্ঞরা এখনো একমত হতে পারেনি।

পিরামিডের ভিতরে কি আছে

পিরামিড জ্যামিতিক আকৃতি ত্রিভুজের মতো দেখতে এবং পিরামিডের শীর্ষটি একটি বিন্দুতে গিয়ে মিলিত হয়। ভূমিগুলো বহুভুজের মতন দেখতে। প্রাচীনকালে যে শাসকরা যারা মিশর শাসন করতো, পিরামিডের মধ্যে সেই সকল রাজা এবং রানীসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের মৃতদেহ সংরক্ষিত করা রয়েছে।

প্রাচীনকালে মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো যে মৃত্যুর পরেও তাদের আত্মাগুলো জীবিত অবস্থায় থাকে এবং তাদের আত্মাগুলো যাতে কোন প্রকার সমস্যা না হয় এ কথা চিন্তা করে পিরামিড গুলো স্থাপন করা হতো। তারপর থেকে পিরামিডের মধ্যে মৃতদেহ গুলো সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা হতো।

মিশরের পিরামিডের কাহিনী

পিরামিড হচ্ছে প্রাচীন সপ্তম দশকের মিশরের একটি আশ্চর্যজনক আবিষ্কার। প্রাচীন মিশরীয়রা মনে প্রানে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে মৃত্যুর পরে তাদের মৃতদেহ জীবিত অবস্থায় থাকে। মৃত্যুর পরে তাদের মৃতদেহের যাতে করে কোন প্রকার সমস্যা না হয় এবং ভালোভাবে থাকতে পারে এর জন্য পিরামিড গুলো তৈরি করা হতো। এবং পিরামিড গুলোর মধ্যে তাদের রাজা এবং রানী সহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের মৃতদেহ সংরক্ষণ করে রাখা হতো।

এ পিরামিড গুলো তৈরি হতো বিশাল বিশাল আকারের পাথর খণ্ড দিয়ে এবং এই পাথরগুলো অনেক দূর দূরান্তের পাহাড় থেকে নিয়ে আসা হতো। পিরামিড তৈরি করতে বাহিরে যে ব্লক পাথরগুলো ব্যবহার করা হতো তার একেকটির ওজন ছিল প্রায় একটি প্রাইভেট কারের সমান এবং ভিতরে যে ব্লক গুলো ব্যবহার করা হতো তার একেকটির ওজন ছিল প্রায় 40 টি প্রাইভেট কারের সমান এবং একটি পাথর খন্ডের ওজন আনুমানিক ৬০ টনের মত।

এগুলোর দৈর্ঘ্য হিসাব করলে ধারণা পাওয়া যায় যে এগুলো দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট এর মত। এই পিরামিড গুলো তৈরি করতে প্রায় অসংখ্য দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়েছিল। সব থেকে বড় পিরামিডের নাম হচ্ছে খুফুর পিরামিড। মিশরে ১০০ টিরও বেশি প্রায় অসংখ্য পিরামিড রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই পিরামিড স্থাপন গুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেটির এখনো পুরোপুরি ভাবে ধারণা পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url