ডেঙ্গু কেন হয় - ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার

বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু জ্বর অনেক বেশি পরিমাণে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন মানুষ সব থেকে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এই ডেঙ্গু জ্বরে। কিন্তু আমরা কেউই জানিনা যে ডেঙ্গু জ্বর কেন হয় এবং ডেঙ্গু জ্বর কিভাবে প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা যায়। তাই আমরা আজকে এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনাদেরকে জানাবো যে ডেঙ্গু জ্বর কেন বা কিভাবে হয় এবং এটি কিভাবে প্রতিকার এবং প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
ডেঙ্গু কেন হয় - ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার
আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন। আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের খুবই ভালো একটি পরামর্শ পাবেন।

পোস্টের সূচিপত্রঃ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে মানুষ সব থেকে বেশি যে রোগে ভুগতেছে সেটি হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর। বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বর খুবই মারাত্মক একটি রোগে পরিণত হয়েছে। এবং এটি বিশাল আকারে অনেক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আমরা অনেকেই এটির প্রতিকার সম্বন্ধে জানি না। কিন্তু কোন কিছু প্রতিকার করতে হলে সবার আগে জানা উচিত যে সেটি কিভাবে হয় বা কোথা থেকে এসেছে। 

তাই আমাদেরকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এর আগে জানতে হবে যে ডেঙ্গু জ্বর কেন হয় এবং কিভাবে ছড়ায়। তাহলে আমরা এই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সফল হব। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গু কেন হয় এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানব। তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের এই আর্টিকেল।

ডেঙ্গু রোগের কারণ কি

ডেঙ্গু রোগের কারণ জানতে হলে প্রথমে আমাদেরকে জানতে হবে যে এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে কি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসকরা এটি সম্পর্কে গবেষণা করে বলেছেন যে না । তারা বলেছেন যে এডিস মশার মধ্যে যদি কোন ভাইরাস সংক্রমিত হয় তাহলে সেইসব মশার কামড়ে মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। বর্তমান সময়ে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। 

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কোন ব্যক্তিকে যদি জীবাণু বিহীন কোন এডিস মশা কামড়ায় তাহলে সেই ব্যক্তির দাড়াও মশাটি জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়ে যায়। এবং এই মশা পরবর্তীতে অন্য কাউকে কামড়ানোর ফলে সেই ব্যক্তি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে।

ডেঙ্গু ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়

ভাইরাস সংক্রমিত কোন এডিস মশার কামড়ে একটি মানুষ ডেঙ্গু জুড়ে আক্রান্ত হয়ে যায়। এছাড়া ডেঙ্গু জ্বর আরো বিভিন্নভাবে ছড়াতে পারে। আমাদের বাসার আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না রাখার কারণে অনেক অপরিষ্কার হয়ে থাকে। এ অপরিষ্কার অবস্থা থেকেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাসার আশেপাশে জঙ্গল থাকলে সেখান থেকে মশার উৎপত্তি হতে পারে এবং এভাবে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। আবার কারো কারো বাসার আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের ময়লার নলা নর্দমা এবং সেগুলোতে পচা এবং নষ্ট পানি থাকে। 

এইসব জায়গা থেকেও মশার উৎপত্তি হয়ে সে মশা কামড়ানোর ফলে ডেঙ্গু জ্বর ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাসার পাশে নারিকেলের খুলে পড়ে থাকলে সেগুলোতে বৃষ্টি হওয়ার মাধ্যমে পানি পড়ে পানি জমে এবং সেগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে মশা দেখা যায়। এইসব জায়গার আশেপাশে থাকলে মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে

বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে যে ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত দুই থেকে সাত দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক ব্যাধিতে পরিণত হতে পারে। তাই ডেঙ্গু মারাত্মক রোগে পরিণত হলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তাছাড়া পরবর্তীতে আরো ভয়াবহ অবস্থায় রূপান্তরিত হতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরে কি মানুষ মারা যায়

ডেঙ্গু জ্বর হয়ে তেমন কোন সিরিয়াস অবস্থায় পরিণত না হলে বা ডেঙ্গু জ্বরের মাধ্যমে সামান্য রক্তক্ষরণের জন্য ডেঙ্গু রোগী মারা যায় না। ডেঙ্গু রোগী বেশিরভাগ সময় মারা যায় যখন তাদের হৃৎস্পন্দন খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রক্তচাপ থেমে যায় অর্থাৎ পুরো শরীরে রক্ত চলাচল যখন বন্ধ হয়ে যেতে লাগে তখন একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মারা যাবার সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যায়। তাই ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক অবস্থায় পরিণত হয়ে গেলে এটিকে অবহেলা না করে আমাদের যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং ডাক্তারের থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা কি

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আমাদেরকে সব সময় বিশ্রাম অবস্থায় থাকতে হবে। এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি এবং তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে প্যারাসিটামল ঔষধ খাওয়া যাবে। এই প্যারাসিটামল ঔষধ গুলো অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া ডেঙ্গু জ্বরে বেশি আক্রান্ত হয়ে গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার

বর্তমানে ডেঙ্গু অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে তেমন অবগত নয় বা সে সম্পর্কে তেমন বেশি জানি না। যার জন্য ডেঙ্গু আরো বেশি করে আমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার করার জন্য আমাদের কিছু কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিকার ও প্রতিরোধ করতে আমাদের যেসব কাজগুলো করতে হবে তা নিচে আলোচনা করা হলো।
  • ডেঙ্গুর প্রধান কারণ হলো মশার কামড়ানো। তাই বাড়ির আশেপাশে যদি কোন জঙ্গল থাকে তাহলে সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে তাছাড়া সে জঙ্গল থেকে মশার উৎপত্তি হয়ে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে।
  • আমরা ঘুমানোর সময় অনেকেই মশারি ব্যবহার করতে বিরক্ত বোধ করি। কিন্তু আমাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে মশারির ব্যবহার করতে হবে। কারণ মশারি ব্যবহার করলে তার মধ্যে মশা ঢুকতে পারে না এবং মশা কামড়াতে পারে না।
  • তাছাড়া জানালার মধ্যে নেট লাগাতে হবে যাতে করে মশা ভিতরে প্রবেশ না করতে পারে।
  • মশা তাড়ানো বিভিন্ন ওষুধ রয়েছে সেগুলো বাসায় ব্যবহার করতে হবে।
  • আমাদের প্রত্যেকের উচিত বাইরে বের হওয়ার সময় ফুলহাতা জাতীয় জামাকাপড় পরা যাতে করে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

শেষ কথা

উপরে ডেঙ্গু কেন হয় এবং ডেঙ্গু কিভাবে প্রতিকার প্রতিরোধ করা যায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা উপরের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিকার প্রতিরোধ করার চেষ্টা করব। তাছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক অবস্থায় চলে যাবার আগেই আমরা দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করব।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url