কম্পিউটার কি - কম্পিউটার কি কি নিয়ে গঠিত

ডিজিটাল এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার নামটি শুনে নেই এমন মানুষ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কম্পিউটার হচ্ছে আমাদের নিত্যদিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস। যার মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। প্রিয় পাঠক আজকে আপনি নিশ্চয়ই কম্পিউটার কি এবং এতে কি কি কাজ করা হয় এসব বিষয়ে ধারণা পেতে এসেছেন।  
কম্পিউটার কি - কম্পিউটার কি কি নিয়ে গঠিত
আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা কম্পিউটার সম্পর্কে যাবতীয় ধারনা আপনার সামনে তুলে ধরব। আশা করি আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়বেন। যাতে করে কম্পিউটার সম্পর্কে বিভিন্ন কিছু ধারণা পেতে পারেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের এই আর্টিকেল।

সূচিপত্রঃ কম্পিউটার কি - কম্পিউটার কি কি নিয়ে গঠিত

ভূমিকা

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান এই সময়ে অনেক মানুষ বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা অনেক অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারি। কম্পিউটার ব্যবহার হয় না এমন কাজ খুঁজে পাওয়া আজ বড়ই কঠিন। 

আমাদের কমবেশি সকল প্রকার কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। আজকে আমরা জানবো কম্পিউটার আমাদের কি কি কাজে ব্যবহার করা হয়। এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে আমরা কিভাবে উপকৃত হতে পারি।

কম্পিউটার কী

কম্পিউটার নামটি এখন পর্যন্ত শুনেনি বর্তমান সময়ে এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছোট থেকে বড় বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষই এখন কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে। কম্পিউটার কি এই প্রশ্নটির উত্তর যদি সহজ ভাবে দিতে যাই তাহলে বলা যায় যে কম্পিউটার হচ্ছে এক ধরনের গণনাকারী যন্ত্র। Computer শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Compute থেকে এসেছে। সহজ কথায় বলা যায় যে যে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে এবং সেগুলো সমাধান করে বিভিন্ন মাধ্যমে আউটপুট হিসাবে প্রদান করে থাকে তাকে কম্পিউটার বলা হয়। 
কম্পিউটার খুবই কম সময়ের মধ্যে অনেক বড় বড় এবং জটিল কাজ খুব সহজেই করে ফেলতে পারে। এ কম্পিউটারের মাধ্যমে অনেক বড় বড় এবং জটিল গাণিতিক হিসাব গুলো খুবই অল্প সময়ের মধ্যে এবং খুব সহজেই করে ফেলা যায়। এজন্য বলা যায় যে কম্পিউটার ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই।

কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেন

কম্পিউটার হচ্ছে প্রাচীন সময়ের একটি আশ্চর্যজনক আবিষ্কার যা এখন বর্তমানে মানুষের বিভিন্ন ধরনের কাজে সহযোগিতা করে থাকে। সর্ব প্রথম কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেছেন এই কথাটির উত্তরে বলা যায় যে ১৮৩০ দশকের মাঝামাঝি সময়ের দিকে চার্লস ব্যাবেজ অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামক একটি মেকানিক্যাল ইঞ্জিন তৈরির ধারণা দিয়ে থাকেন এবং সেই ধারণা থেকেই কম্পিউটারের আবিষ্কার হয়েছে বলে জানা যায়। 
তবে কম্পিউটার কোন একা মানুষের তৈরি নয়। অনেক গবেষকের এবং অনেক পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে এই আধুনিক কম্পিউটার। যা এখন বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে আবিষ্কারের শুরুতে কম্পিউটার গুলো এখনকার কম্পিউটারের মত ছিল না। ধীরে ধীরে এগুলো আপডেট হয়ে বর্তমান সময়ে এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস হয়ে উঠেছে।

প্রথম আবিষ্কৃত কম্পিউটারের নাম কি

বর্তমান সময়ে কম্পিউটার এখন অনেক মানুষের জন্য একটি মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়ে উঠেছে। এক কথায় বলা যায় যে কম্পিউটার ছাড়া এখন অনলাইনে কোন কাজে সম্পন্ন করা যায় না। তবে আপনার মাথায় কি কখনো এ প্রশ্নটি এসেছে যে বিশ্বের প্রথম কম্পিউটারটি কোনটি ছিল এবং সেটির নাম কি ছিল। যদি এটি আপনার অজানা থাকে তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের প্রথম কম্পিউটারটি কোনটি ছিল। বিশ্বের প্রথম কম্পিউটারের নাম হলো ENIAC(Electronic Numerical Integrator and Computer).

কম্পিউটার আবিষ্কারের ইতিহাস

কম্পিউটার এখন বর্তমানে আধুনিক মানব সভ্যতার চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে এই কম্পিউটার আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে অনেক ইতিহাস এবং অনেক পরিশ্রম এবং ব্যর্থতার গল্প। আর এই বর্তমান সোনার কম্পিউটার এবং প্রাচীন সময়ের কম্পিউটারের মধ্যেও রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আদিম সময়ে মানুষ তাদের বিভিন্ন ধরনের বড় বড় হিসাব-নিকাশ অনেক জটিলতার সাথে সম্পন্ন করতো। এবং তাদের সেই হিসাব নিকাশ গুলো সংরক্ষণের কোন উপায় ছিল না। 

কিন্তু কম্পিউটার আবিষ্কারের পর থেকে তাদের এ সমস্যার সমাধান অনেক সহজেই হয়ে গিয়েছে। তবে কম্পিউটার কখনো রাতারাতি তৈরি হয়নি এই কম্পিউটার তৈরি করতে প্রয়োজন হয়েছে অনেক গবেষকের রাত দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম। এরই মাধ্যমে আনুমানিক প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ বছর আগে অ্যাবাকাস নামক একটি কম্পিউটার যন্ত্র আবিষ্কার করা হয়। শুরুর দিকে এই কম্পিউটারের মাধ্যমে রাজস্ব আয় ব্যায়ের বিভিন্ন ধরনের হিসাব নিকাশ করা হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে এগুলো বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। 

১৮৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজ "এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন" নামক একটি যন্ত্রের আবিষ্কার করার ধারণা দিয়ে থাকেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হয় আধুনিক কম্পিউটার। এজন্য চার্লস ব্যাবেজ কে বলা হয় আধুনিক কম্পিউটারের জনক। এখন বর্তমানে ঘরে ঘরে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক কম্পিউটার এসে গিয়েছে। যা মানুষের বিভিন্ন ধরনের কাজে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকে। মানুষ এখন অনলাইনের বিভিন্ন ধরনের কাজে তাদের কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে।

কম্পিউটার এর ব্যবহার

কম্পিউটার আমাদের নিত্যদিনের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অনলাইনের বিভিন্ন ধরনের কাজে কম্পিউটার এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস। আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি। কম্পিউটার ব্যবহারের কিছু দিক নিচে তুলে ধরা হলো
  • আমরা আমাদের অফিস আদালতের বিভিন্ন ধরনের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি।
  • অনলাইনের বিভিন্ন ধরনের কাজে আমরা কম্পিউটারে ব্যবহার করে থাকি।
  • চিকিৎসা ক্ষেত্রে এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধরনের কার্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
  • বিভিন্ন ধরনের সংবাদপত্র প্রকাশনার কাজেও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে কম্পিউটার অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
  • ব্যাংকিং ক্ষেত্রে এবং ব্যাংকের বিভিন্ন ধরনের কার্যকর্মের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়
  • বিনোদনের বিভিন্ন ধরনের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
  • শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস।
  • যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম্পিউটার বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়।
  • কৃষি ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। 

কম্পিউটার কি কি নিয়ে গঠিত

একটি পরিপূর্ণ কম্পিউটার তৈরি করতে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। সহজ ভাবে বলতে গেলে কম্পিউটার মূলত ৪টি মূল অংশ নিয়ে গঠিত হয়। কম্পিউটারের মূল চারটি অংশ হলো ইনপুট ইউনিট, আউটপুট ইউনিট, প্রসেসর ইউনিট এবং মেমরি ইউনিট।

ইনপুট ইউনিট

যে ডিভাইস গুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য কম্পিউটারের মধ্যে প্রবেশ করানো হয় সেই ডিভাইস গুলোকে ইনপুট ইউনিট বলা হয়।

আউটপুট ইউনিট

কম্পিউটারের মধ্যে ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে যে তথ্যগুলো প্রবেশ করানো হয় সেগুলো সমাধান করে যে ডিভাইস গুলোর মাধ্যমে ফলাফল প্রদর্শন করা হয় সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বলে।

প্রসেসর ইউনিট

প্রসেসর ইউনিটের কাজ হল কম্পিউটারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের তথ্য গুলোকে সহজ ভাষায় সমাধান করা বা প্রসেসিং করা। সহজ কথায় বলা যায় যে কম্পিউটারের মধ্যে ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রবেশ করানোর পরে প্রসেসরের মাধ্যমে সেগুলো বিভিন্নভাবে প্রসেসিং করে সমাধান করার পরে সেগুলো আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ফলাফল প্রদর্শন করা হয়।

মেমোরি ইউনিট

কম্পিউটারে যে তথ্যগুলো প্রবেশ করানো হয় সেগুলো যেখানে সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে তাকে মেমোরি বলা হয়। মেমোরি ইউনিট কম্পিউটারের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

কত ধরনের কম্পিউটার আছে

বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার লক্ষ্য করা যায়। তবে কম্পিউটারকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
  1. এনালগ কম্পিউটার
  2. ডিজিটাল কম্পিউটার
  3. হাইব্রিড কম্পিউটার
ডিজিটাল কম্পিউটার আবার চার ধরনের হয়ে থাকে
  1. সুপার কম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. মিনি কম্পিউটার
  4. মাইক্রো কম্পিউটার
মাইক্রো কম্পিউটার কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়
  1. ল্যাপটপ কম্পিউটার
  2. ডেস্কটপ কম্পিউটার

শেষ কথা

উপরোক্ত আলোচনা গুলো থেকে বলা যায় যে কম্পিউটার আমাদের নিত্য প্রতিদিনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সঙ্গী। কম্পিউটার ছাড়া বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম করা খুবই কঠিন। কম্পিউটারের মাধ্যমে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং অনেক কঠিন কাজ খুবই অল্প সময়ের মাধ্যমে এবং খুবই সহজেই করে ফেলতে পারি। কম্পিউটারের কারণে বর্তমান সময় আমাদের কাছে খুবই সহজ হয়ে উঠেছে। 

আশা করি আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কম্পিউটার সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছেন। এবং বিভিন্ন ধরনের অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এছাড়াও কম্পিউটার নিয়ে যদি আপনার মনের মধ্যে কোন ধরনের প্রশ্ন এসে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন আমরা সেগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url