দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হলে করণীয়

আপনি যদি না জেনে থাকেন যে দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হলে করণীয় কি? তাহলে আপনার উচিত এখনই এই বিষয়ে জেনে নেওয়া। কারণ একবার যখন দাঁতের মাড়িতে ব্যথা শুরু হয়ে যায় তখন ভোগান্তির কোন শেষ আর থাকে না। আজকে এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনাদেরকে জানানো হবে যে দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হলে করণীয় কি কি। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে আজকের এই আর্টিকেলটি তাড়াতাড়ি শুরু করা যাক।
দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হলে করণীয়

পোস্টের সূচীপত্রঃ দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হলে করণীয়

ভূমিকা

দাঁতের মাড়িতে ব্যাথা এমন সমস্যাটি অনেক মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগেন। তার মধ্যে দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হচ্ছে অন্যতম একটি সমস্যা। এই সমস্যাটি শুরু হলে আমাদের কোন কিছুই আর ভালো লাগেনা। কিন্তু দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হলে করণীয় কি সেসব বিষয় না জানার কারণে আমরা অনেকেই পরিপূর্ণভাবে দাঁতের যত্ন নিতে পারি না এবং বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হয়ে যায়। তাই আমাদের প্রত্যেকের এই বিষয়ে জানা উচিত।

দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় কেন

আমরা অনেকেই তো দাঁতের মাড়ির সমস্যা নিয়ে ভুগি। কিন্তু আমরা কখনো কি এটি জানার চেষ্টা করেছি যে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় কেন বা দাঁতের মাড়িতে এমন সমস্যা হচ্ছে কেন। কোন কিছুর উপায় জানতে হলে প্রত্যেকের উচিত আগে সেই বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যে এরকম সমস্যা কেন হচ্ছে এবং কোথা থেকে এসেছে। দাঁতের কেন্দ্রস্থলে যে সংক্রমিত টিস্যু রয়েছে সেই টিস্যু গুলোর সঞ্চয়ের ফলে দাঁতের মাড়ি ফুলে যেতে পারে। যখন দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় তখন খেয়াল করলে দেখা যাবে যে সেই ফোলা অংশটি লাল বা গোলাপি রং ধারণ করেছে। 

মুখের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য ভালো না থাকার কারণে দাঁতের মাড়ি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যেতে পারে। আমরা যদি নিয়মিত ব্রাশ না করি কিংবা দীর্ঘদিন যাবত যদি দাঁতের স্কেলিং না করি তাহলে দাঁতের ফাঁকে যে প্লাক বা পাথর আটকে থাকে এবং এগুলো খাবারের সাথে ব্যাকটেরিয়া মিশিয়ে দুর্গন্ধ তৈরি করে। এবং এর ফলে দেখা যেতে পারে দাঁতের মাড়ির সমস্যা। অনেক সময় দেখা যায় যে দাঁতের মাড়ি ফোলার কারণে সেই ফোলা স্থান থেকে পুঁজ বের হয়।

দাঁতের মাড়ি ফুলে পুঁজ পড়ার কারন

দাঁতের মাড়ির সমস্যা হচ্ছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক একটি বিষয়। কিন্তু এখন খুবই কম মানুষই জানে যে দাঁতের মাড়ি ফুলে গেলে বা দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হলে করণীয় কি। দাঁতের মাড়ির সমস্যার কারণে আমরা ভালোভাবে খেতে পারি না। খাবার খেতে গেলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এমনকি মাঝেমধ্যে সে ক্ষতস্থানে হালকা একটু আঘাত লাগার ফলে রক্ত বের হতে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় যে দাঁতের মাড়ি ফোলার কারণে পুঁজ পড়া শুরু হয়ে যায়। 

দাঁতের মাড়ি ফুলে যখন অস্বাভাবিকভাবে লাল হয়ে যায় তখন সেখান থেকে পুঁজ বের হয়। আবার অনেক সময় দাঁতের মাড়ি ফোলার পরে যদি আমরা ব্রাশ করতে যায় তাহলে সেই ব্রাশের আঘাতে সেখান থেকে পুঁজ বের হয় এবং মুখ থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ বের হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে আমাদের দাঁতের মাড়িতে যদি ভিটামিন সি এর অভাব দেখা যায় তাহলে মাড়ি দিয়ে অনেক সময় পুঁজ ও রক্ত পড়ে।

দাঁতের মাড়ি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

দাঁতের মাড়ি ফোলাটা যে কি পরিমান একটি কষ্টদায়ক ব্যাপার তা শুধুমাত্র তারাই জানেন যারা এই রোগে ভোগেন। আমাদের যখন অনেক বেশি পরিমাণ দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় এবং ব্যথা শুরু হয় তখন আমরা ডাক্তারের কাছে গিয়ে থাকি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে ডাক্তারের কাছে যেতে প্রায় অনেক সময় লেগে যায়। যার ফলে দাঁতের মাড়ির ব্যথা আরো তীব্র ভাবে বেড়ে যায়। তাই আমাদের কিছু ঘরোয়া উপায় জানা থাকলে প্রাথমিক অবস্থায় দাঁতের মাড়ির ব্যথা কমাতে পারি। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক দাঁতের মাড়ি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে।
  • কাঁচা রসুন দাঁতের মাড়ির ব্যথা কমাতে অনেক ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করে থাকে। আমাদের যখন দাঁতের মাড়ির ব্যথা শুরু হবে তখন যদি আমরা কাঁচা রসুন খেঁতলে আমাদের দাঁতের মাড়ির মধ্যে লাগিয়ে দেই তাহলে এই মাড়ির ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।
  • আবার দেখা যায় যে লবণ পানির কুলকুচা করার মাধ্যমে দাঁতের মাড়ির ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। এর জন্য আমাদের কুসুম গরম পানিতে এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে কুলকুচা করতে হবে। এই লবণ পানিগুলো মুখের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়া গুলো দূর করে ফেলে এবং দাঁতকে সুস্থ রাখে।
  • আবার অনেক সময় সরিষার তেলের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে সেটি দাঁতের মাড়িতে লাগিয়ে দিলে এবং কিছুক্ষণ পরে সেটি কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলি করে ফেললে দাঁতের মাড়ি ফোলা অনেকটাই কমে যায়।
  • আবার অনেক সময় দেখা যায় যে দাঁতের মাড়ি ফোলার পরে যদি আমরা পানির সাথে ফিটকিরি মিশিয়ে সে ফিটকির মেশানো পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলি করি তাহলে দাঁতের মাড়ি ফোলা এবং ব্যথা দুটোই কমে যায়।
  • আবার অ্যালোভেরার জেল লাগানোর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দাঁতের ব্যথা দূর করা যায়। কারণ এলোভেরার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা আমাদের মুখের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলোকে দূর করে।

দাঁতের মাড়ি ব্যথা কমানোর ঔষধের নাম

বর্তমানে দাঁতের মাড়ির ব্যথা কমানোর জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ দেখা যায়। এবং এই ওষুধগুলো খুবই ভালোভাবে কাজ করে। কিন্তু ওষুধগুলো ব্যবহার করার আগে আমাদের উচিত যে ডাক্তারের কাছ থেকে ভালোভাবে সে বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া। এবং ডাক্তার যে ওষুধটি ব্যবহার করতে বলবে সে ওষুধটি ব্যবহার করা
  • Etoricoxib Tablet
  • Napa One Tablet
  • Exilok 20 Tablet
  • Fenamic Tablet
  • Moxacil Tablet
  • Tory 60 Tablet
এই ওষুধগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে দাঁতের মাড়ির ব্যথা অনেকটাই কমানো যায়। তবে আমরা কখনোই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ ওষুধ সেবন করবো না।

শেষ কথা

উপরের আর্টিকেলটি যদি আপনি ভালোভাবে পড়েন তাহলে আপনি দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হলে করণীয় কাজগুলো কি সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জন করতে পারবেন। দাঁতের মাড়িতে সমস্যা হলে আমরা তো ডাক্তারের কাছে যাবোই। কিন্তু তার আগে ঘরোয়া উপায় গুলোর মাধ্যমে দাঁতের মাড়ির ব্যথা কিছুটা কমিয়ে ফেলতে পারবো। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দাঁতের মাড়ির ব্যথার ওষুধ সেবন করা এই কাজটি আমরা কখনোই করব না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url