অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ

আপনি যদি একটি বিষয়ের লক্ষ্য করে দেখেন যে সারারাত ধরে ঘুমানোর পরেও দিনের বেলা সব সময় আপনার প্রচন্ড পরিমানে ঘুম পাচ্ছে তাহলে এটিকে কখনোই অবহেলা করা ঠিক হবে না। একজন মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুম হওয়া এটি একটি খারাপ লক্ষণ। 
অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ
আজকেরে আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ এবং অতিরিক্ত ঘুম ভালো নাকি খারাপ। তাই আপনি যদি জানতে চান যে অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ তাহলে আর সময় নষ্ট না করে এখনই ভালোভাবে জেনে নিন। তাহলে চলুন এখনই শুরু করা যাক।

পোস্টের সূচিপত্রঃ অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ

ভূমিকা

ঘুম একজন মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুম সারাদিনের ক্লান্তিতে একদম দূর করে দেয়। সুস্থ মন এবং সুস্থ শরীরের জন্য ঘুমের কোন বিকল্প নেই। একজন মানুষের প্রতিদিন ছাদ থেকে আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। কিন্তু এই সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমের পরও যদি লক্ষ্য করা যায় যে সারাদিন প্রচন্ড পরিমাণে ঘুম পাচ্ছে তাহলে এদিকে অবহেলা করা কোনভাবে ঠিক হবে না আপনার জন্য। কারণে অতিরিক্ত ঘুম কিছু কিছু সময় কোন কোন রোগের লক্ষণ হয়ে দাঁড়ায়। 
তাই অতিরিক্ত ঘুম আসলে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আজকে আমরা আপনাকে জানাবো যে এই অতিরিক্ত ঘুমগুলো কোন রোগের লক্ষণ। এবং এটি থেকে কিভাবে আপনি মুক্তি পেতে পারেন সে বিষয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ঘুম কেন গুরুত্বপূর্ণ

ঘুম একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরের জন্য যেমন প্রতিদিন খাবারের প্রয়োজন রয়েছে তেমনি আমাদের শরীরের জন্য প্রতিদিন ঘুমের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। ঘুমের মাধ্যমে সারাদিনে শরীরে থাকা ক্লান্তি গুলো নিমিষেই দূর হয়ে যায়। এবং মনকে করে তোলে প্রফুল্ল এবং সতেজ। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কম ঘুমানোর পরেও কোন প্রকারের অলসতা অনুভব করে না। 
কিন্তু এমন অনেক মানুষ রয়েছে যা অতিরিক্ত ঘুমানোর পরেও সব সময় অলসতা অনুভব করে। তখন ভেবে নিতে হবে যে কোন না কোন সমস্যার কারণে তার এই ধরনের সমস্যাটি দেখা দিচ্ছে। তখন দেরি না করে তার উচিত হবে যে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং ডাক্তারের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করা।

সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব এর কারণ কি

সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব হওয়ার বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব এর কারণ কি।
পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হওয়াঃ সারাদিন ঘুম ঘুম ভাবের প্রথম কারণ হচ্ছে রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হওয়া। আপনার যদি রাতে যে পরিমাণ ঘুমের প্রয়োজন সেই পরিমাণ ঘুম না হয় তাহলে সারাদিন প্রচুর পরিমাণে ক্লান্তি লাগবে এবং শরীরের ভিতরে একটি অলসতা কাজ করবে। এছাড়া আপনার যদি রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হয় তাহলে সেটি আপনার মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

অতিরিক্ত চা বা কফি পান করাঃ আপনার সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব হবার কারণ হচ্ছে রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হওয়া এবং রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হওয়ার কারণ হচ্ছে সারাদিন অতিরিক্ত পরিমাণে চা বা কফি পান করা। আপনি যদি সন্ধ্যাবেলায় এক কাপ চা বা এক কাপ কফি পান করেন তাহলে যেন মনে হয় মনটা সতেজ এবং প্রফুল্ল হয়ে উঠেছে। কিন্তু কোন কোন মানুষকে দেখা যায় যে তারা সারাদিন প্রচুর পরিমাণে চা বা কফি পান করে। এই অতিরিক্ত পরিমাণে চা বা কফি পান করার ফলে রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম হয় না। এবং সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব হয় এবং ক্লান্তি লাগে।

পুষ্টির অভাবঃ আপনার শরীরের জন্য যতটুকু পুষ্টির প্রয়োজন ততটুকু পুষ্টি যদি আপনার শরীরের মধ্যে প্রবেশ না করে তাহলে আপনার শরীরের মধ্যে সব সময় ক্লান্তি অনুভব করবে। যে কোন কাজ করার সময় ক্লান্তি এবং অলসতা কাজ করবে। তার জন্য আমাদের শরীরে যতটুকু কষ্ট প্রয়োজন ততটুকু পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করাঃ আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করেন এবং কোন প্রকার পানি জাতীয় খাবার যদি আপনার শরীরের মধ্যে প্রবেশ না করে তাহলে আপনার শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যেতে পারে। আর আপনার শরীর যখন ডিহাইড্রেট হয়ে যাবে তখন আপনার শরীরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্লান্তি কাজ করবে এবং সারাদিন প্রচুর পরিমাণে ঘুম পাবে।

বাড়তি ওজনের কারণেঃ অনেক সময় একটি বিষয় দেখা যায় যে যাদের শরীরের ওজন প্রচুর পরিমাণে বেশি থাকে তাদের সব সময় শুধু ঘুম পায়। এছাড়া অতিরিক্ত ওজনের কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বলা যায় যে ব্যক্তি ওজনের কারণে ও সারাদিন প্রচুর পরিমাণে ঘুম পায়।

অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ

একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ ঘুমের মাধ্যমে সারাদিনের শরীরে থাকা ক্লান্তি গুলো দূর হয়ে। কিন্তু অনেক সময় মানুষ অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমায়। অনেক সময় দেখা যায় যে এই অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুম কোন কোন রোগের লক্ষণ হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ।
  • অতিরিক্ত ঘুম মানুষের মধ্যে ডিপ্রেশন তৈরি করে। অনেক সময় দেখা যায় যে মানুষ প্রচুর পরিমাণে ডিপ্রেশনের মধ্যে থাকে কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে এই ডিপ্রেশনের কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুম হওয়া।
  • এছাড়া অতিরিক্ত ঘুম মানুষের শরীরের হরমোনের উপরে বিরূপ প্রভাব। আর এই ঘুমের কারণে যখন মানুষের শরীরে হরমোনের উপর বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে তখন শরীরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্লান্তি কাজ করে এবং কোন ধরনের কাজ করতে গেলে শক্তি পাওয়া যায় না। যার ফলে তারা অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া শুরু করে এবং এর থেকে বেড়ে যায় রক্তের শর্করার মাত্র। এবং এ রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • এছাড়াও অতিরিক্ত ঘুমের কারণে হাইপারসোমনিয়া রোগ হতে পারে। বিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন যে এই হাইপারসোমনিয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিকসহ হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবং এই রোগ গুলো আপনাকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে।

অতিরিক্ত ঘুমালে কি ক্ষতি হয়

অনেকের মনে একটি প্রশ্ন এসে থাকে যে অতিরিক্ত ঘুমালে কি কোন ক্ষতি হয়। হ্যাঁ অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে যা আপনারা কখনো কল্পনাও করতে পারবেন না। অতিরিক্ত ঘুম আপনার অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতিরিক্ত ঘুমের কারণে ভালোভাবে আপনার মানসিক বিকাশ হয় না। এছাড়া অতিরিক্ত ঘুমের কারণে সারাদিন প্রচুর পরিমাণে ক্লান্তি অনুভব হয়। কোন প্রকারের কাজ করতে গেলে কোন শক্তি পাওয়া যায় না শুধু মনে হয় যে আর একটু ঘুমালে মনে হয় ভালো হতো।

অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায়

অতিরিক্ত ঘুম মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই এই অতিরিক্ত ঘুম সমস্যাটিকে অবহেলা না করে এটি থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় সে সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক যে অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায় কোনগুলো।
  • আপনার যদি মনে হয় যে আপনি সকালে ঠিকমতো ঘুম থেকে উঠতে পারছেন না তাহলে আপনি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে এলার্ম সেট করুন। এবং এর ফলে আপনি সকালে ঠিক সময়ে নিয়মিত ঘুম থেকে উঠতে পারবেন। আবার অনেকে একটি কাজ করে যে এলার্ম বাজার সাথে সাথে তারা আবার এলার্মটিকে বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে। এর জন্য চেষ্টা করবেন এলার্মটিকে হাতের কাছে থেকে দূরে রাখার জন্য। এতে করে আপনি এলার্মটি বন্ধ করার জন্য একবার হলেও বিছানা থেকে উঠে যাবেন।
  • প্রতিদিন আপনার জন্য যতটুকু পানির প্রয়োজন ততটুকু পানি পান করুন। কারণ পানির অভাবে অনেক সময় শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে যায়। এবং এই ডিহাইড্রেট হয়ে যাওয়ার ফলে শরীরের মধ্যে ক্লান্তি লাগে।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে চা বা কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ অতিরিক্ত পরিমাণে চা বা কফি পান করলে রাতে তেমন ঘুম আসতে চায় না এবং এর কারণে সারাদিন প্রচুর পরিমাণে ঘুম পায়।
  • নিয়মিত শরীর চর্চা করার চেষ্টা করুন। কারণ নিয়মিত শরীর চর্চা আপনার শরীরকে সুস্থ এবং ফিট রাখে। এছাড়া নিয়মিত শরীর চর্চা করার ফলে আপনার শরীরে থাকা ক্লান্তি গুলো দূর হয়ে যাবে এবং আপনার মন অনেক সতেজ এবং প্রফুল্ল থাকবে।
  • অনেকের একটি বদ অভ্যাস আছে যে তারা ইচ্ছা করে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। কিন্তু এই অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকার কারণে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে ঘুম পায় এবং শরীর প্রচুর ক্লান্ত লাগে। এর জন্য আপনার উচিত হবে যে রাতে সময় মত ঘুমিয়ে যাওয়া এবং সকালে আবার সময় মতো ঘুম থেকে উঠে যাওয়া।
  • রাতের বেলা ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে আর মনে থাকে না যে কতটা রাত পর্যন্ত জাগা হয়ে গেছে। এবং এর ফলে অনেক রাতে গিয়ে ঘুমাতে হয়। তাই আপনি চেষ্টা করবেন রাতে শোবার সময় ফোনের কাছে থেকে দূরে থাকার জন্য।

শেষ কথা

আপনি ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে অতিরিক্ত ঘুমের কারণ কি এবং অতিরিক্ত ঘুমালে কি হয় এ অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে কোন কোন রোগ হয় এবং এই অতিরিক্ত ঘুম থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায়। সে সকল বিষয় সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জেনে গেছেন। এছাড়া অতিরিক্ত ঘুমটাকে আপনার অবহেলা করা কখনোই উচিত হবে না। তা না হলে এই অতিরিক্ত ঘুমের কারণে আপনার এমন ক্ষতি হতে পারে যে আপনি তা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি। 

আজকের এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে আর্টিকেলটি অন্যদের কাছে শেয়ার করুন যাতে তারাও এইরকম বড় সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে। এরকম আরো নতুন নতুন পোস্ট পড়ার জন্য আমাদের পেজটি নিয়মিত ভিজিট করুন। ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url