মাথা ব্যাথা কোন রোগের লক্ষণ

মাথাব্যথা যে কত বড় একটি সমস্যা সেটি একমাত্র তিনিই বুঝেন যিনি এই রোগে ভুগেন। একবার মাথা ব্যাথা শুরু হলে যেন মনে হয় পৃথিবীর কোন কিছুই আর তার কাছে ভালো লাগে না। সবকিছু অত্যন্ত বিরক্তকর মনে হয়। মাথা ব্যথা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। আজকের আমাদের আর্টিকেলের মূল বিষয়টি হলো মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ। 
মাথা ব্যাথা কোন রোগের লক্ষণ
মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ এ বিষয়টি জানতে হলে আপনাকে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে ভালোভাবে পড়তে হবে। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন এখনই শুরু করা যাক এবং জেনে নেওয়া যাক যে মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ।

পোস্টের সুচিপত্রঃ মাথা ব্যাথা কোন রোগের লক্ষণ

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে মাথাব্যথা প্রায় অনেক মানুষের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু অনেক সময় মানুষ এই মাথাব্যথা কে বেশি গুরুত্ব দেয় না। এবং পরবর্তীতে যখন এটি একটি রোগে পরিণত হয় তখন বিভিন্ন ধরনের গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। মাথা ব্যাথার বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময় মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদেরকে জানতে হবে যে মাথা ব্যথার রোগটি কোন রোগের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। 

মাথা ব্যথা কোন বয়স অনুযায়ী হয় না। যেকোনো বয়সের মানুষেরই মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। যখনই মাথা ব্যথা খুবই তীব্র পরিমাণে হয়ে থাকে তখন আমরা এটিকে কোন একটি রোগের লক্ষণ হিসেবে ধরে থাকি। তাহলে চলুন আজই জেনে নেওয়া যাক যে মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ।

মাথা ব্যথার কারণ কি কি

আপনি কি মাথা ব্যথা রোগে ভুগছেন এবং এটি থেকে মুক্তি পেতে চাচ্ছেন। কিন্তু মাথা ব্যাথার রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে আপনাকে সবার প্রথমে জানতে হবে যে মাথা ব্যথার কারণ গুলো কি কি। যদি আপনি মাথা ব্যথার কারণ কি কি সে সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন তাহলে এই মাথা ব্যথার রোগ থেকে সহজে মুক্তি পেতে পারেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। প্রতিটি মাথাব্যথারই কোন না কোন কারণ রয়েছে। তাই আপনার উচিত হবে না যে এই মাথাব্যথা কে অবহেলা করা। কেননা এ মাথা ব্যথা কি আপনি যত অবহেলা করবেন এটি ধীরে ধীরে রোগে পরিণত হবে। আসুন জেনে নিন মাথা ব্যথার কারণ গুলো কি কি -
  • এলার্জির কারণে অনেক সময় মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। কোন মানুষের যখন শরীরে এলার্জি দেখা দেয় তখন তার স্নায়ুতন্ত্রে ব্লকেজ এর সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে মাথায় অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে মাথা ব্যথা হয়ে থাকে।
  • আমাদের অনেকের মধ্যেই দেখা যায় যে আমরা অনেক সময় যাবত মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকি। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ যাবত এই কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করার ফলে মাথা ব্যথা হতে পারে।
  • কোন কোন মানুষ দেখা যায় যে তারা ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে একদম ঠান্ডা খাবার খায়। কিন্তু অনেক সময় এই অতিরিক্ত পরিমাণে ঠান্ডা খাবার খাওয়ার ফলেও মাথা ব্যথা হয়ে থাকে।
  • যারা অতিরিক্ত পরিমাণে কাজের প্রেসারে থাকে তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণের মানসিক চাপ দেখা দেয়। এই অতিরিক্ত পরিমাণে মানসিক চাপ দেখা দেওয়ার কারণে ও মাথা ব্যথা হয়ে থাকে।
  • কোন রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ যদি সরাসরি নাকের মধ্যে ঢুকে যায় তাহলে সেখান থেকে মাথাব্যথা শুরু হয়ে যেতে পারে।
  • অনেক মেয়ে মানুষ আছে যারা তাদের চুলগুলো অনেক টাইট করে বেঁধে রাখে। বেশিক্ষণ যাবৎ চুল টাইট করে বেঁধে রাখার কারণেও মাথা ব্যথা হতে পারে।
  • বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় জিনিস শরীরের মধ্যে প্রবেশ করার ফলে মাথাব্যথা দেখা যায়।

মাথা ব্যাথা কোন রোগের লক্ষণ

যদিও মাঝেমধ্যে মাথা ব্যথা তেমন কোন বড় সমস্যায় হিসেবে ধরা হয় না। কিন্তু কোন কোন মাথা ব্যথা মাঝেমধ্যে কোন কোন রোগের লক্ষণ হিসেবেও ধরা হয়। চলুন জেনে নিন মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ -
টেনশন মাথাব্যথাঃ টেনশনের মাথা ব্যথাগুলো সাধারণত মাথার চারপাশে হয়ে থাকে। এই ধরনের মাথা ব্যথাগুলো যখন মাথায় প্রচন্ড পরিমাণে চাপ সৃষ্টি হয় এছাড়া মাথার বিভিন্ন পেশীতে টান লাগে তখন এ মাথাব্যথা তৈরি হয়। 

মাইগ্রেনঃ যখন একটি মানুষের মাইগ্রেনের মাথা ব্যথা শুরু হয় তখন সেটি অত্যন্ত তীব্র পরিমাণে হয়ে থাকে। এবং এ ধরনের মাথাব্যথা হওয়ার ফলে অনেক সময় বমি বমি ভাব দেখা যায়। এ ধরনের মাথা ব্যথা গুলো সাধারণত মাথার যেকোনো এক পাশে হয়ে থাকে।

সাইনাসের মাথাব্যথাঃ সাইনাসের মাথা ব্যথা গুলো সাধারণত সাইনাস সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। এ ধরনের মাথাব্যথা দেখা দিলে জ্বর দেখা যায় এবং নাক দিয়ে পানি পড়ে।

রিবাউন্ড মাথাব্যথাঃ অনেক মানুষ আছে যারা সামান্য কিছু মাথা ব্যথার কারণে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খায়। অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যথার ওষুধ খাওয়ার ফলেও মাঝেমধ্যে যে মাথা ব্যথা দেখা দেয় সেটি হল রিবাউন্ড মাথা ব্যথা।

উচ্চ রক্তচাপের মাথাব্যথাঃ অনেক সময় দেখা যায় যে উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যার কারণে বিভিন্ন মাথাব্যথা দেখা দেয়। এ ধরনের মাথা ব্যথা দিলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোক সহ আরো বিভিন্ন ধরনের গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

হ্যাংওভার মাথা ব্যথাঃ অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল সেবন করার ফলে একটি মানুষের শরীরে ডি হাইড্রেশন হতে পারে। এবং এই ডিহাইড্রেশন হওয়ার ফলে যে মাথাব্যথা দেখা যায় তাকে হ্যাংওভার মাথা ব্যথা বলে।

হরমোনের মাথাব্যথাঃ অনেক সময় মহিলাদের যখন মাসিক চক্র দেখা দেয়, হরমোনের মাত্রা যখন খুবই বেশি পরিমাণ উঠানামা করে তখন যে মাথা ব্যথা দেখা যায় সেটিকে আমরা হরমোনের মাথা ব্যথা বলে থাকি।

মাথার পিছনে ডান পাশে ব্যথা হওয়ার কারণ

অনেক সময় দেখা যায় যে আমাদের মাথার পিছনে ডান পাশে ব্যথা হয়। কিন্তু আমরা কি জানি যে মাথার পিছনে ডান পাশে ব্যথা হওয়ার কারণ কি। যদি আপনি না জেনে থাকেন যে মাথার পিছনে ডান পাশে ব্যথা হওয়ার কারণ কি তাহলে এই পোস্টটি শুধুমাত্র আপনার জন্য। আসুন জেনে নিন মাথার পিছনে ডান পাশে ব্যথা হওয়ার কারণ সম্পর্কে।

মাথার ডান পাশের ব্যাথাকে আমরা সাধারণত মাইগ্রেনের সমস্যা হিসেবে ধরে থাকি। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মনিটর ব্যবহার করার ফলে দেখা যাচ্ছে যে একটি মানুষের চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং সেই সমস্যাগুলো থেকেই মাইগ্রেনের সমস্যা তৈরি হয়। এ মাইগ্রেনের সমস্যা কোন বয়স দেখে হয় না। যে কোন বয়সের মানুষেরই মাইগ্রেনের সমস্যা হতে পারে। তাই যদি মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা যায় তাহলে সেটিকে অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মানসিক চিন্তা মাথার ডানপাশের ব্যথার আরও একটি বড় কারণ। মানসিক সমস্যা একটি মানুষের জন্য অত্যন্ত খারাপ একটি দিক। এমন অনেক মানুষ আছে যারা অতিরিক্ত পরিমাণে সবসময় মানসিক চিন্তা করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় অতিরিক্ত পরিমাণে মানসিক চিন্তার কারণে মাথাব্যথা সৃষ্টি হয়। চাই আমাদের উচিত কখনো অতিরিক্ত পরিমাণে মানসিক চিন্তা না করা।

যখন একটি মানুষ দীর্ঘদিন যাবত চোখের কোন না কোন সমস্যায় ভুগেন তখন কোন কোন সময় দেখা যায় যে তার মাথাব্যথা তৈরি হয়। এবং এই মাথা ব্যথা হওয়ার কারণে যখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরেও সেই রোগটি ধরা না পড়ে তারপর যখন চোখের ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয় তখন সেই রোগটি ধরা পড়ে যায়।

মাথা ব্যাথা হলে করণীয়

যখন কোন মানুষের মাথা ব্যথা দেখা যায় তখন কোন কোন মানুষ সেটিকে অবহেলার চোখে দেখে। এবং এই অবহেলা করার ফলে যখন মাথা ব্যথাটি আরো বেশি পরিমাণে বেড়ে যায় তখন তারা ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটি করে। কিন্তু কিছু কিছু উপায় রয়েছে যেগুলো অবলম্বন করার ফলে এই মাথা ব্যথাগুলো প্রথমেই দূর করা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক মাথা ব্যথা হলে করণীয় কাজগুলো কি কি।
  • আদা একটি মানুষের মাথাব্যথা কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তার কারণ হলো আদতে থাকে ব্যথা নাশক প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সিনথেসিস পদার্থ। আপনার যদি পছন্দ করি মানে মাথা ব্যথা দেখা যায় তাহলে আপনি চাইলে আধা চিবিয়ে খেতে পারেন। অথবা কিছুক্ষণ পরপর আদা চা বানিয়ে খেতে পারেন।
  • বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের আইস ব্যাগ কিনতে পাওয়া যায়। এই আইস ব্যাগ গুলোর মধ্যে বরফ ঢুকিয়ে সেটি কিছুক্ষণ মাথার উপরে ধরে থাকার ফলে অনেক সময় মাথাব্যথা কমে যায়। কিন্তু যাদের ঠান্ডার সমস্যা রয়েছে তাদের এটি ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ তাদের এটি ব্যবহারের ফলে কাজের পরিবর্তে এর বিপরীত‌ও হতে পারে।
  • যখন মাথা ব্যথা দেখা দিবে তখন প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়া দরকার। এবং রাতে কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। এছাড়াও বেশি রাত পর্যন্ত জাগা যাবে না।
  • পুদিনা পাতার রস মাথা ব্যথা কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যখন খুবই তীব্র পরিমাণে মাথা ব্যথা দেখা যাবে তখন আপনি চাইলে পুদিনা পাতার রস করে খেয়ে দেখতে পারেন।
  • পেটে ক্ষুধা থাকার কারণে ও অনেক সময় মাথা ব্যাথা দেখা যায়। তাই প্রতিদিন সময় মত খাবার খাওয়াটাই উত্তম।

মাথা ব্যাথার ঔষধ

মাথা ব্যাথার বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে। আপনি কি জানেন মাথা ব্যথার ঔষধ কোনগুলো। যদি আপনি না জেনে থাকেন মাথা ব্যথার ঔষধ কোনগুলো তাহলে চলুন জেনে।
  • Anilic (এনিলিক) 200 mg
  • Arin (আরিন) 200 mg
  • Migratol (মিগ্রাটল) Tablet 200 mg
  • Tufnil (টাফনিল) Tablet 200 mg
  • Minopa (মিনোপা) Tablet 200 mg
  • Rizaming (রিজামিং) Tablet 5 mg
  • Migrex (মিগরেক্স) Tablet 200 mg
  • Tolmic (টলমিক) 200 mg
  • Mygan (মাইগান) Tablet 200 mg
  • Namitol (নামিটোল) Tablet 200 mg
  • Suma (সুমা) 10 mg
  • Miotrol (মিওট্রল) Tablet 2.5 mg
এইসব ওষুধগুলো খাওয়ার ফলে অনেকটাই মাথা ব্যথা থেকে দূরে থাকা যায়। কিন্তু আমি আপনাদেরকে একটি উপদেশ দেবো যে ওষুধগুলো ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার পরে ব্যবহার করুন যাতে করে কোন প্রকার সাইড ইফেক্ট না হয়।

শেষ কথা

আপনারা যারা জানতে চেয়েছিলেন যে মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ, তারা পুরো আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন যে মাথাব্যথা কোন রোগের লক্ষণ এবং এটি কিভাবে প্রতিকার করা যায়। তাহলে আসুন আমার মাথা ব্যথাকে অবহেলা না করে মাথা ব্যথা হওয়ার শুরুতেই সেটিকে প্রতিহার করতে পারি।

এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এছাড়াও আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য থাকে তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন আমরা যথাসাধ্য সে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url