দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় - দ্রুত মাসিক হওয়ার ঔষধ

সুপ্রিয় পাঠক আপনি হয়তোবা নিশ্চয়ই দীর্ঘদিন যাবত অনিয়মিত মাসিকের কারনে ভুগতেছেন। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় খুজতেছেন এবং সঠিক উপায় না জানার কারণে বিভিন্ন ধরনের উল্টাপাল্টা ওষুধ খাওয়ার ফলে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আজকের আমাদের আলোচ্য বিষয়টি হল মাসিক হওয়ার উপায়। 
দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় - দ্রুত মাসিক হওয়ার ঔষধ
তাই আজকে আমরা আপনাকে জানাবো যে কিভাবে অনিয়মিত মাসিক ঠিক করা যায়। তাই আপনি যদি দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে পুরো পোস্টটি ভালোভাবে মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এতে করে আপনার বিভিন্ন ধরনের উপকার হতে পারে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

পোস্টের সূচিপত্রঃ দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় - দ্রুত মাসিক হওয়ার ঔষধ

ভূমিকা

আপনি হয়তোবা অনেকদিন যাবত অনিয়মিত মাসিকের কারণে ভুগছেন। যখন কোন নারীর হরমোনের প্রভাবে জরায়ুর মাধ্যম দিয়ে রক্ত যোনি পথ দিয়ে বের হয়ে আসে তখন তাকে মাসিক বলা হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর নিয়মিত মাসিক হওয়াটা একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু যখন দেখা যাবে যে এই নিয়মিত মাসিক হওয়াটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে তখন বুঝে নিতে হবে যে তার মধ্যে কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে। 

যেহেতু মাসিক হওয়াটা একজন প্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই যদি এটি সময়মতো না হয় তাহলে এটিকে অবহেলা করা ঠিক হবে না। বেশি পরিমাণ সমস্যা দেখা গেলে প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তাছাড়া পরবর্তী্তে নানান ধরনের সমস্যা হতে পারে।

মাসিক না হওয়ার কারণ কী

সময়মতো মাসিক না হওয়াটা অনেক বড় একটি চিন্তার ব্যাপার। সময়মতো পিরিয়ড বা মাসিক হওয়াটা যেমন একটি ভালো লক্ষণ তেমনই অনিয়মিত মাসিক হওয়া তার উল্টোটা। অনিমিত মাসিক হওয়াটা একটি খারাপ লক্ষণ। অনিয়মিত মাসিক হওয়ার বা মাসিক না হওয়ার বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক মাসিক না হওয়ার কারণ কি।
গর্ভাবস্থাঃ অনেক সময় গর্ভাবস্থার কারণে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। গর্ভাবস্থায় মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়াটা একটি সাধারণ ব্যাপার। তাই এ বিষয়টি নিয়ে ঘাবড়ানো যাবে না। আপনি যদি যৌনভাবে সক্রিয় থাকেন এবং আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে আপনার দেরিতে মাসিক হচ্ছে তাহলে আপনার গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আপনার উচিত হবে এরকম সময় আপনার গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করে নেওয়া।

মানসিক চাপঃ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে প্রচন্ড পরিমাণে মানসিক চাপের মধ্যে থাকার ফলে মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে যায় বা দেরিতে হয়। তাই আপনার উচিত হবে অতিরিক্ত পরিমাণে মানসিক চাপের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসা। এবং সুস্থভাবে জীবন যাপন করা।

খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমে যাওয়াঃ যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে আপনার ওজন হঠাৎ করে কমে গেছে তাহলে এ কারণের জন্য মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা মাসিক দেরিতে হতে পারে। হঠাৎ করে খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমে যাওয়া এটি একটি খারাপ লক্ষণ। কারণ হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়ার ফলে আপনার খাবার রুচি অনেকটা কমে যায় এবং এর ফলে আপনার হরমোনের জন্য যে পরিমাণ খাবার প্রয়োজন সে পরিমাণ খাবার না খাওয়ার ফলে আপনার হরমোন পরিপূর্ণ হতে পারে না।

খুব বেশি পরিমাণে ব্যায়াম করাঃ আপনি যদি প্রতিদিন অনেক বেশি পরিমাণে ব্যায়াম করে থাকেন তাহলে এর ফলে ও আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা আপনার মাসিক দেরিতে হতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ব্যায়াম করার ফলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আপনার কখনো উচিৎ হবে না যে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যায়াম করা।

পুষ্টি ঘাটতির কারণেঃ আপনার শরীরে যে পরিমাণ পুষ্টির প্রয়োজন সেই পরিমাণ পুষ্টি যদি আপনার শরীরের মধ্যে প্রবেশ না করাতে পারেন তাহলে অনেক সময় এই কারণেও মাসিক দেরিতে হয় বা মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। তাই আপনার উচিত হবে যে নিয়মিত পুষ্টিকর জাতীয় খাবার খাওয়া।

মাসিক হওয়ার আগে কি কি লক্ষণ দেখা যায়

পিরিয়ড বা মাসিক হওয়ার সময় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার মধ্যে নানান ধরনের লক্ষন দেখা যায়। এবং সেই লক্ষণগুলো দেখার ফলে বোঝা যায় যে তার মাসিক হওয়ার সময় হয়ে এসেছে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক যে কোন কোন লক্ষণগুলো দেখা দেওয়ার ফলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার মাসিক বা পিরিয়ড হওয়ার সময় হয়েছে।
  • যখন আপনার মাসিক বা পিরিয়ড হওয়ার সময় হয়ে যাবে তখন আপনার আচরণে এবং আপনার মেজাজের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন করতে পারে। যেমন আপনার মেজাজ খিট খিটে হয়ে যেতে পারে এবং অল্পতেই কারো উপরে রেগে যেতে পারেন।
  • যখন আপনার পিরিয়ড বা মাসিকের সময় হয়ে আসবে তখন আপনার মধ্যে একটি ক্লান্তিকর ভাব দেখা যাবে। এবং আপনি করার সময় শক্তি একটু কম পাবেন।
  • অনেক সময় দেখা যায় যে মাসিকের আগে মাথা ব্যথা হতে পারে।
  • এছাড়া মাসিকের সময় আপনার তলপেটে ব্যথা হতে পারে।

দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায়

এমন অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা আছে যারা দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় জানতে হলে ভালোভাবে মনোযোগ সহকারে পড়ুন। চলন জেনে নেওয়া যাক দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় গুলো কি কি।
ব্যায়ামঃ আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে আপনার মাসিক নিয়মিত হচ্ছে না বা আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাহলে আপনি চাইলে ব্যায়াম করতে পারেন। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে অনিয়মিত মাসিক হওয়াটা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তবে আপনাকে একটি বিষয়ে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার প্রয়োজনের বেশি ব্যায়াম করা যাবে না। আপনি যদি আপনার প্রয়োজনের বেশি ব্যায়াম করেন তাহলে সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে আরো বড় সমস্যা হতে পারে।

ডুমুর ফল খাওয়াঃ যদি আপনি দেখতে পান যে আপনার মাসিক নিয়মিত হচ্ছে না তাহলে আপনি চাইলে ডুমুর ফল খেতে পারেন। কারণ ডুমুর ফল হল মাসিক সমস্যা দূর করার জন্য একটি মহা ঔষধ হিসেবে পরিচিত। তাই ডুমুর ফল কেটে সেগুলো সিদ্ধ করে সেটির পানি খাওয়ার ফলেও অনিয়মিত মাসিক সমস্যাটি দূর হয়ে যেতে পারে।

টক জাতীয় ফল খাওয়াঃ টক জাতীয় ফল যেমন তেতুল, জলপাই, আমড়া আরো অন্যান্য যেগুলো টক জাতীয় ফল রয়েছে সেই ফলগুলো খাওয়ার ফলেও আপনার অনিয়মিত মাসিক সমস্যাটি দূর হয়ে যেতে পারে। একটি পাত্রে কিছু তেঁতুল নিয়ে সেগুলো পানির মধ্যে ভিজিয়ে রেখে প্রতিদিন যদি নিয়মিত সেই পানি পান করা হয় তাহলে এর মাধ্যমেও অনিয়মিত মাসিক সমস্যাটি দূর হয়ে যেতে পারে।

দ্রুত মাসিক হওয়ার ঔষধ

আপনি যদি অনিয়মিত মাসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে এখন বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলো সেবন করার মাধ্যমে আপনার এ ধরনের সমস্যা দূর হয়ে যেতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক যে অনিয়মিত মাসিক সমস্যা দূর করার জন্য ওষুধগুলো সেবন করা যাবে।
  • Ethinor Tablet
  • Feminor Tablet
  • Menoral Tablet
  • Mensil N Tablet
  • Menohia Tablet
  • Norestin Tablet
  • Normens Tablet
  • Norcolut Tablet
  • Noteron Tablet
  • Remens Tablet

দ্রুত মাসিক হওয়ার ব্যায়াম

দ্রুত মাসিক হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন ব্যায়াম নেই। তবে দ্রুত মাসিক হওয়ার জন্য আপনি চাইলে একজন সাধারন মানুষ যে সব ধরনের ব্যায়াম করে থাকে আপনিও সেই সব ধরনের ব্যায়ামগুলো করতে পারেন। তাহলে এতে করে আপনার অনিয়মিত মাসিক সমস্যাটি দূর হয়ে যেতে পারে। তবে আপনার একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার কখনো উচিত হবে না যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যায়াম করা। তাহলে তো করে নানান ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

শেষ কথা

উপরোক্ত আলোচনা গুলো থেকে আপনি ইতিমধ্যে অনেক ভালোভাবে বুঝে গেছেন যে আপনি কিভাবে আপনার অনিয়মিত মাসিক বন্ধ করতে পারবেন এবং আপনি এটিও অনেক ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন যে দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় কোনগুলো। এছাড়াও আমি আপনাদের সামনে দ্রুত মাসিক হওয়ার কিছু ওষুধের নাম তুলে ধরেছি। আপনি যদি অনিয়মিত মাসিক সমস্যা করবেন তাহলে সে ওষুধগুলো সেবন করে দেখতে পারেন। এতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url