দ্রুত জ্বর কমানোর উপায়

যখন হঠাৎ করে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং জ্বর এসে যায় তখন আমরা অনেক দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে যায়। এবং দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়ে ফেলি। কিন্তু সঠিক ওষুধ না খাওয়ার ফলে আমাদের জ্বর কোন ভাবেই কমেনা। কিন্তু আপনাদের উচিত সেই সময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়া। 
দ্রুত জ্বর কমানোর উপায়
আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা আপনাকে জানাবো যে আপনার যদি হঠাৎ করে জ্বর চলে আসে তাহলে কিভাবে বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে আপনি আপনার জ্বর কে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে পারবেন। আপনি যদি দ্রুত জ্বর কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে পুরো আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ুন। পুরো আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ার মাধ্যমে আপনি জ্বর কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন।

পোস্টের সূচিপত্রঃ দ্রুত জ্বর কমানোর উপায়

ভূমিকা

যখন আমরা হঠাৎ করে জ্বরের মধ্যে পড়ে যায় তখন আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের চিন্তাভাবনা কাজ করে। এবং আমরা চাই যে সব সময় কিভাবে দ্রুত জ্বর কমানো যায়। তবে হালকা বা সামান্য জ্বরে তেমন ঘাবড়ানোর কোন বিষয় নেই। তবে জ্বর যখন খুব বেশি পরিমাণে হয়ে যাবে তখন আপনাদের উচিত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা। কখনোই উচিত হবে না যে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভুলভাল কোন ওষুধ খাওয়া। 
যখন কোন কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকেন তখন যদি জ্বর আসে তাহলে অনেক চিন্তার মধ্যে পড়ে যেতে হয়। কিভাবে দ্রুত জ্বর ভালো করা যায় সেই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের চিন্তাভাবনা মনের মধ্যে কাজ করে। কিন্তু কিছু উপায় রয়েছে যেগুলো না জানার কারণে আপনি আপনার জ্বরকে দ্রুত কন্ট্রোল করতে পারেন না। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে দ্রুত জ্বর ভালো করা যায়।

জ্বর হলে কি গোসল করা যাবে

জ্বর হওয়ার পরে অনেকের মনে হয়তোবা একটি প্রশ্ন এসে থাকে যে জ্বর হলে কি গোসল করা যাবে। আবার অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা থাকে যে জ্বর হলে গোসল করলে জ্বর আরো বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। তবে অনেক ডাক্তার রয়েছে যারা জ্বর হলে গোসল করার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ জ্বর হলে গোসল করার মাধ্যমে আপনার শরীর ঠান্ডা থাকে। জ্বর হলে আপনার শরীরে তাপমাত্রা যখন প্রচন্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে তখন যদি আপনি হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করেন তাহলে আপনার শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। 
জ্বর আসলে অনেকেই শরীরে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে থাকেন। কিন্তু শরীরে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে থাকার কারণে আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমার বদলে অনেক সময় বাড়তে পারে। তবে আপনি যদি জ্বর আসার পরে গোসল করেন তাহলে আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। এজন্যই অনেক ডাক্তার বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি জ্বর এলে গোসল করার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

জ্বর কত হলে ওষুধ খাওয়া উচিত

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক সময় জ্বরের লক্ষণ দেখা যায়। বর্তমানে এখনো হুটহাট করে অনেক সময় জ্বর চলে আসে। জ্বর হওয়ার পরে অনেকে একটি কাজ করেন যে তারা ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়েই বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেয়ে ফেলেন। কিন্তু এমনটি করা কখনোই উচিত নয়। জ্বর হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্যারাসিটামল বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাবার ফলে নানান ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে আপনার উচিত হবে যে হালকা জ্বরে কোন প্রকার প্যারাসিটামল বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ না খাওয়া। কারণ আপনাদের শরীরে এক প্রকার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে। হালকা বা সামান্য জ্বর আপনাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এটিকে সারিয়ে তোলে।

দ্রুত জ্বর কমানোর উপায়

আপনি হয়তোবা জ্বরে ভুগতেছেন। এবং দ্রুত জ্বর কমানোর উপায় খুজতেছেন। তাই জ্বর হওয়ার কারণে ঘাবড়িয়ে না গিয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক কি কি ঘরোয়া উপায় মেনে চলার মাধ্যমে দ্রুত জ্বর কমানো যায়।

গোসল করাঃ জ্বর হলে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন এসে থাকে যে, জ্বর হলে কি আসলেই গোসল করা যাবে। কিন্তু অনেক সময় জ্বর হলে ডাক্তাররা গোসল করার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা অনেক গুণ বেড়ে যায়। তাই শরীরের তাপমাত্রা কে কমানোর জন্য হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে।

ভেজা কাপড় ব্যবহারঃ যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার জ্বর এসেছে তখন আপনার উচিত হবে একটি পাত্রে সামান্য পরিমাণ পানি নিয়ে সেখানে একটি সুতি কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে পুরো শরীর ভালোভাবে মুছে নিন। এরপর পুরো শরীর মুছা হয়ে গেলে সেই কাপড়টি আবার ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে পুনরায় শরীর মুছেন। এভাবে কয়েকবার করতে থাকুন তাহলে আপনার জ্বর কমে আসবে।

ঝাল জাতীয় খাবার খাওয়াঃ আপনার যখন জ্বর আসবে আপনি চেষ্টা করবেন ঝাল জাতীয় খাবার খাওয়ার জন্য। আপনার যখন জ্বর আসবে তখন কোন খাবারের সাথে বেশি পরিমাণ মরিচ বা অন্যান্য ঝাল জাতীয় জিনিস মিশিয়ে খাবার চেষ্টা করুন। কারণ ঝাল জাতীয় জিনিস খাবার ফলে আপনার শরীর থেকে ঘাম ঝরিয়ে ফেলে আপনার জ্বর কমাতে সহযোগিতা করবে।

আদা খাওয়াঃ আপনার যখন জ্বর আসবে আপনি আপনার জ্বর কমানোর জন্য আদা খেতে পারেন। কারণ আঘাতে রয়েছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং এই এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে এবং আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমাতেও সহযোগিতা করে।

তুলসী পাতা খাওয়াঃ আপনার যদি প্রচন্ড পরিমাণে জ্বর দেখা যায় তাহলে আপনি তুলসী পাতা খেতে পারেন। কারণ তুলসী পাতাতে থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সহযোগিতা করে থাকে।

সরিষার তেল ব্যবহার করাঃ আমাদেরকে যখন ছোটবেলায় জ্বর হওয়ার পরে মাথায় সরিষার তেল দিয়ে দেওয়া হতো তখন আমরা হয়তোবা অনেকেই বিরক্ত হতাম। কারণ তখন আমরা জানতাম না যে সরিষার তেল ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বর কমে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। তাই আপনার জ্বর হলে মাথায় সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন।

দ্রুত জ্বর কমানোর ওষুধ

দ্রুত জ্বর ভালো করার জন্য এখন ফার্মেসিতে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ওষুধ গুলোর নাম।
  • Napa
  • Napa Extra
  • Napa Extend
  • Napa Rapid
  • Ace
  • Ace Plus
  • Fast
  • Fast Plus
  • Xcel
  • Xcel Plus
  • Zimex 250mg
  • Zimex 500mg
  • Azin 250mg
  • Azin 500mg
  • Adiz 250mg
  • Adiz 500mg

জ্বর কমানোর খাবার

জ্বর হলে মনে হয় যে মুখের রুচি যেন হারিয়ে গিয়েছে। জ্বর হলে কোন কিছুই খেতে ভালো লাগে না। জ্বর হলে সব খাবার তিতা লাগে। কিন্তু কিছু কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমানো যায়। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই সকল খাবার সম্পর্কে।
  • জ্বর হলে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার যেমন আপেল, কমলা লেবু, আঙ্গুল, আনারস এ সকল খাবার খেতে হবে। এছাড়া জ্বরের সময় ফ্রুট সালাদ বেশি করে খেতে হবে।
  • জ্বর হলে বিভিন্ন ধরনের সবজি জাতীয় খাবার খেতে হবে। এছাড়া জ্বর হলে আপনি ডিম সেদ্ধ করে খেতে পারেন। জ্বরের রোগীর কখনো সে সকল খাবার খাওয়া উচিত নয় যেগুলো খাবার দ্রুত হজম হয় না।
  • জ্বর হলে আপনি কিসমিস খেতে পারেন। কারণ কিসমিসের রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অক্সিডেন্ট উপাদান যা আপনার শরীরে এনার্জি যোগাতে সহযোগিতা করবে।
  • জ্বর হলে তুলসী পাতা খেতে হবে। এছাড়া আপনি চাইলে তুলসী পাতার রসের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে করে তুলসী পাতার রস খেতে কোন অসুবিধা হবে না।
  • জ্বরের সময় কমলালেবু খাবার কোন বিকল্প নেই। আপনি চাইলে প্রতিদিন দুইবার করে কমলা লেবুর রস খেতে পারেন এতে করে আপনার বিভিন্ন ধরনের উপকার হবে।

শেষ কথা

আপনি হয়তোবা দ্রুত জর ভালো করার উপায় খুজতেছিলেন। এবং আপনি ইতিমধ্যে খুবই ভালোভাবে জেনে গেছেন যে কিভাবে দ্রুতজর ভালো করা যায়। উপরে দ্রুত যার ভালো করে বিভিন্ন ধরনের উপায় এবং বেশ কিছু ওষুধের নাম রয়েছে যেগুলো খাবার ফলে জ্বর খুবই তাড়াতাড়ি ভালো করা যায়। আজকে আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার বন্ধুবান্ধব বা অন্য কারো কাছে শেয়ার করে দিন যাতেকরে তারাও জানতে পারে যে কিভাবে দ্রুতজর ভালো করা যায়। এছাড়া আপনার যদি কোন মন্তব্য থাকে তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url