জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ জেনে নিন

আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় প্রচুর পরিমাণে মানুষ এই জলাতঙ্ক রোগের কারণে মারা যাচ্ছে। কোন ব্যক্তির যদি জড়ো আতঙ্ক রোগের লক্ষণ দেখা যায় তাহলে তার মৃত্যুর হার প্রায় শতভাগ। অর্থাৎ একজন জলাতঙ্ক রোগীকে বাঁচানো অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই এই জলাতঙ্ক রোগকে অনেক বড় একটা মারাত্মক রোগ বলা হয়। 
জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ জেনে নিন
আজকে আমরা জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করব। আপনি পুরো আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে এই জল আতঙ্ক রোগের লক্ষণ গুলো জেনে নিন। তাহলে ভবিষ্যতে আপনিও এই মারাত্মক জলাতঙ্ক রোগ থেকে বেঁচে যেতে পারেন। তাহলে চলুন আর দেরি না করে এখনি জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ জেনে নিন।

পোস্টের সূচিপত্রঃ জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ জেনে নিন

ভূমিকা

জলাতঙ্ক রোগের আরেকটি নাম হচ্ছে হাইড্রোফোবিয়া। এটি এক ধরনের রেবিস ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এ রোগটি এতটাই মারাত্মক যে যদি কোন ব্যক্তির এই রোগ হয় তাহলে সেই ব্যক্তিকে বাঁচানোটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রতিবছর প্রায় প্রচুর পরিমাণে মানুষ এ রোগটির কারণে আমাদের দেশ থেকে মারা যাচ্ছে। এরকম কি সাধারণত কোন না কোন প্রাণীর মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এ কারণে এই রোগটিকে জুনোটিক রোগ ভালো হয়ে থাকে। সাধারণত আমরা বাড়িতে যে সকল প্রাণী রাখি বা বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীদের লালায় এই রেবিশ ভাইরাসটি থাকে। 
এবং তারা যদি কোন ব্যক্তিকে কামড় দেয় তাহলে সেখান থেকে হতে পারে জলাতঙ্ক রোগ। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে কুকুর এবং বিড়াল রয়েছে। এ প্রচুর পরিমাণে কুকুর এবং থাকার কারণে এ রোগের ঝুঁকিটা আমাদের দেশে অনেক বেশি। অনেক সময় আমরা পাগলা কুকুর দেখে থাকি। এ ধরনের কুকুর অনেক বেশি মারাত্মক হয়ে থাকে। কারণ এরা যে কোন সময় মানুষের উপরে আক্রমণ করতে পারে। এবং তার ফলও হয়ে যেতে পারে এই জলাতঙ্ক রোগ। তাই আমাদেরকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।

জলাতঙ্ক কি

জলাতঙ্ক হচ্ছে এমন একটি রোগ যা হাইড্রোফোবিয়া নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগটি সাধারণত কোন না কোন প্রাণীর দ্বারা হয়ে থাকে। এ রোগটি আফ্রিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু রাজ্যে দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, তাইওয়ান এগুলো দেশে জলাতঙ্ক রোগটি তেমন দেখা যায় না। সাধারণত মাংসাশী প্রাণী যেমন কুকুর, বিড়াল, শিয়াল এদের মাধ্যমে এই জলাতঙ্ক রোগটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এবং এ রোগটি ধীরে ধীরে এতটাই ভয়ানক হয়ে উঠে যে রোগীর মারা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ হয়ে পড়ে।

জলাতঙ্ক রোগের কারণ

মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগ সাধারণত প্রাণীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। প্রাণীর লালায় যে ভাইরাস থাকে সে ভাইরাস যদি কোন ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে তাহলে সেই ব্যক্তি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের যেমন কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, খরগোশ, বাদুড়, হায়েনা এসব প্রাণী যদি মানুষকে কামড়ায় তাহলে তার লালায় থাকা ভাইরাসের কারণে জলাতঙ্ক রোগ হয়ে যেতে পারে। এসব প্রাণী যদি কোন ব্যক্তির ঘাড়ে বা মাথায় কামড় দেয় তাহলে সেটি আরো বেশি মারাত্মক হয়ে পড়ে কারণ তাদের কামড় দেওয়ার ফলে ভাইরাসটি সরাসরি মস্তিষ্কের মধ্যে প্রবেশ করে। 
যার ফলে সে রোগীকে বাঁচানোটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাদের লালায় থাকা ভাইরাসটি যদি মানুষের শরীরের কোন পুরনো ক্ষতের, বা দাঁত বসিয়ে দেওয়া ক্ষতের মাধ্যমে কোন ভাবে যদি রক্তের সংস্পর্শে চলে আসে তাহলে সে ভাইরাসটি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের দেশে যতগুলো জলাতঙ্ক রোগী দেখা যায় তারপর ৯৫ ভাগই এই কুকুরের কামড়ে হয়ে থাকে।

জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ

যে প্রাণীর লালায় ভাইরাস থাকে সেই প্রাণী যদি কোন ব্যক্তিকে কামড় দেয় তাহলে তার ৯ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এই জলাতঙ্ক রোগটি দেখা দেয়। কোন ব্যক্তির মধ্যে যদি জলাতঙ্ক রোগ দেখা দেয় তাহলে তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পাগলামি বা অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। জলাতঙ্ক রোগের একটি লক্ষণ হল এ রোগে আক্রান্ত হলে মানুষের ক্ষুধা মন্দা বেড়ে যাবে, কোন প্রকার উদ্দেশ্য ছাড়াই ছুটে বেড়াবে এবং এক ধরনের বিকৃত আওয়াজ করবে। জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত রোগীগুলো সাধারণত পানি দেখলে খুব বেশি ভয় পায়। 

যার কারণে তাদের যদি পানি পিপাসা লাগে তারপরেও তারা পানি খেতে পারে না। এবং তারা যখন আলো বাতাসের সংস্পর্শে আসবে তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। এই জলাতঙ্ক রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলি হচ্ছে মাথা ব্যথা করবে, জ্বর হবে, গলা ব্যথা হবে এবং যে জায়গায় কোন প্রাণী কামড় দিয়েছে সে জায়গায় খিচুনি হবে। এছাড়া জলাতঙ্ক রোগ হলে মুখ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে লালা নিঃসরিত হবে। এছাড়া জলাতঙ্ক রোগ হলে যে কারোর উপরে আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দিতে পারে।

জলাতঙ্ক রোগের প্রতিকার

জলাতঙ্ক রোগের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশিরভাগ মানুষই মারা যায়। কারণ কোন এন্টিভাইরাস জাতীয় ওষুধি এ রোগের বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম হয় না। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ রোগ প্রতিকার করা সম্ভব। টিকা হচ্ছে এর প্রতিরোধের প্রথম উপায়। এ রোগের জন্য যে টিকা ব্যবহার করা হয় সেটিকার নাম হল হিউম্যান ডিপ্লয়েড সেল ভ্যাকসিন (HDCV)। কোন ভাইরাস জনিত প্রাণী যদি কামড় দেয় তাহলে সাথে সাথে টিকা নেওয়ার ফলে এ রোগের প্রতিকার করা সম্ভব। কিন্তু টিকা দিতে যদি খুব বেশি দেরি হয়ে যায় তাহলে এ রোগের প্রতিকার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

এছাড়া এই রোগে যাতে আক্রান্ত না হয় তার জন্য আপনার পোষা কুকুর বা প্রাণীকে নিয়মিত জলাতঙ্ক রোগের টিকা দিন। অনেকে একটি কাজ করে সেটি হল রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কুকুরের গায়ে ঢিল ছুড়ে মারে। কিন্তু এমনটি করলে কুকুরটির রেগে যাওয়াটা তো স্বাভাবিক। এবং এ রেগে যাওয়ার ফলে সেই কুকুরটি এসে সেই ব্যক্তির উপর আক্রমণ করে এবং কামড় দেয়। এবং এর ফলে এই জলাতঙ্ক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ করতে আমাদেরকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।

জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা

জলাতঙ্ক রোগীকে চিকিৎসা দিতে বেশি দেরি হয়ে গেলে তাকে বাঁচানোটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু কোন প্রাণীর কামড়ের সাথে সাথে যদি আপনি সেই কামড় দেওয়া স্থানে পানি এবং সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলে ভালো একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেন তাহলে জলাতঙ্ক রোগটি দূর করা সম্ভব। তাছাড়া কোন প্রাণীর কামড় দেওয়ার সাথে সাথে যদি জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয় বা টিকা দেওয়া হয় তাহলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া আপনার পোষা প্রাণীর কামড়ে যাতে আপনার জলতঙ্ক রোগ না হয় এজন্য আপনার পোষা প্রাণীকে নিয়মিত টিকা দিতে হবে। এতে করে আপনি এবং আপনার পোষা প্রাণী দুজনেই জলাতঙ্ক রোগ থেকে বেঁচে যাবেন।

শেষ কথা

আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি জলাতঙ্ক রোগ সম্পর্কে প্রায় সম্পন্ন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে জলাতঙ্ক রোগ কি, এই রোগ কিভাবে ছড়ায়, এ রোগের লক্ষণগুলো কি কি এবং এই রোগ কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় এবং কিভাবে এ রোগের চিকিৎসা নেওয়া যায় সেসব বিষয় সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জেনেছেন।

আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন যাতে করে তারাও জলাতঙ্ক রোগ সম্পর্কে জানতে পারে এবং জলাতঙ্ক রোগের কাছ থেকে বাঁচতে পারে। ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url