যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ কী কী - যক্ষ্মা রোগ কিভাবে ছড়ায়

সুপ্রিয় পাঠক আপনি কি যক্ষা রোগের লক্ষণ কি কি এবং যক্ষা রোগ কিভাবে ছড়ায় সে বিষয়ে সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে হ্যাঁ আপনি ঠিক জায়গাতে এসেছেন। বর্তমানে এখন প্রায় অনেক মানুষ যক্ষা রোগের কারণে ভুগতেছে। কিন্তু এই যক্ষার কিভাবে ছড়ায় এবং এই যক্ষা রোগের লক্ষণ গুলো কি কি সেইসব বিষয়ে না জানার কারণে তারা এই যক্ষা রোগ থেকে পরিপূর্ণভাবে মুক্তি পাচ্ছেন না। 
যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ কী কী - যক্ষ্মা রোগ কিভাবে ছড়ায়
তাই আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাকে জানাবো যে যক্ষা রোগের লক্ষণ কি কি এবং যক্ষা রোগ কিভাবে ছড়ায়। আপনি যদি একজন যক্ষা রোগী হয়ে থাকেন তাহলে এ বিষয়ে জানার কারণে আপনি যক্ষা রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তাহলে আর নয় দেরি এখনই জেনে নেওয়া যাক যে যক্ষা রোগের লক্ষণ কি কি এবং যক্ষা রোগ কিভাবে ছড়ায়।

পোস্টের সূচিপত্রঃ যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ কী কী - যক্ষ্মা রোগ কিভাবে ছড়ায়

ভূমিকা

যক্ষা রোগ বর্তমানে আমাদের দেশে একটি অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মুখে এখন একটি কথা শোনা যায় যে, যক্ষা হলে রক্ষা নেই। সারা বিশ্বের প্রায় অনেক মানুষ এই এই যক্ষা রোগের কারণে মারা যাচ্ছে। তাই এই যক্ষা রোগ প্রতিরোধ করা উচিত। তবে যক্ষা রোগ প্রতিরোধ করতে হলে আমাদেরকে প্রথমে জানতে হবে যে কি কি লক্ষণ দেখা দেওয়ার মাধ্যমে বোঝা যায় যে তার যক্ষা রোগ হয়েছে বা যক্ষা রোগ কোথায় থেকে উৎপত্তি হয়। 

এবং যক্ষা রোগ কিভাবে ছড়ায় সে সম্পর্কে জানতে হবে। তা না হলে আমরা যক্ষা রোগের প্রতিকার পরিপূর্ণভাবে করতে পারবো না। প্রাচীনকালে যক্ষা রোগ একটি অত্যন্ত ভয়াবহ রোগ ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে এই যক্ষা রোগের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা বের হয়েছে। নিয়মিত সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার ফলে এ যক্ষা রোগ ভালো হয়ে যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক যক্ষা রোগের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে।

যক্ষা রোগ কেন হয়

যক্ষা রোগ হওয়ার বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে। সারা বিশ্বের মারাত্মক রোগ গুলোর মধ্যে যক্ষা রোগ হচ্ছে একটি। এটি এক ধরনের জীবাণুর কারণে এই যক্ষা রোগ হয়ে থাকে। অনেক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে আপনি যদি জনাকীর্ণ বাস বা ট্রেনের মধ্যে ভ্রমণ করেন তাহলে আপনার এই যক্ষা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
যক্ষা রোগের আরেকটি নাম হচ্ছে টিবি রোগ। এছাড়াও আপনি যদি একটি অস্বাস্থ্যকর জীবনধারার মধ্য দিয়ে যান এবং আপনার মধ্যে যদি পুষ্টির অভাব দেখা যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে আপনার যক্ষা রোগ হতে পারে। এছাড়া যেখানে সেখানে যদি থুতু ফেলেন বা যেখানে সেখানে হাতি বা হাসি দিলে এই যক্ষা রোগ হতে পারে।

যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ কী কী

বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দেওয়ার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার যক্ষা রোগটি হয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নিন কোন কোন লক্ষণ দেখা দেওয়ার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার যক্ষা রোগ হয়েছে।
  • আপনি যদি রাতে ঘুমানোর সময় লক্ষ্য করেন যে আপনার শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম বের হচ্ছে তাহলে যক্ষা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • আপনার যদি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাশি হয়ে থাকে তাহলে আপনার যক্ষা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • অনেক সময় এমনটি দেখা যায় যে কাশি দেওয়ার সময় কাশির সাথে রক্ত বের হয়ে আসছে তাহলে তখন বুঝে নিতে হবে যে এটি একটি যক্ষা রোগের লক্ষণ।
  • তাছাড়া আপনার যখন যক্ষা রোগ দেখা দিবে আপনার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্লান্তি এবং দুর্বলতা কাজ করবে। কোন কাজ করতে তেমন শক্তি পাওয়া যাবে না।
  • এছাড়াও আপনার যদি যক্ষা রোগ হয় তাহলে আপনার ওজন খুবই দ্রুত কমে যাবে।
  • এছাড়া আপনার যদি যক্ষা রোগ হয় তাহলে খেয়াল করবেন যে আপনার মধ্যে ক্ষুধামন্দা দেখা দিচ্ছে।
  • এছাড়া যক্ষা রোগ হলে মাঝে মাঝে বুকে ব্যথা হতে পারে।
  • যক্ষা রোগ হলে অনেক সময় প্রসাবের সঙ্গে রক্ত বের হতে দেখা যায়।
  • এছাড়া যক্ষা রোগ হলে নিঃশ্বাসের দুর্বলতা দেখা যেতে পারে এবং আপনার নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে।
  • আপনার যদি যক্ষা রোগ হয় তাহলে খেয়াল করে দেখবেন যে সন্ধ্যা বাড়াতে দিকে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে। এরকম যদি সমস্যা হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে যে এটিও একটি যক্ষা রোগের লক্ষণ।
  • যক্ষা রোগ হলে অনেক সময় দেখা যায় যে পেটের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ব্যথা হচ্ছে।
  • এছাড়া আপনার যদি যক্ষা রোগ হয় তাহলে খেয়াল করবেন যে হাচি বা কাশি দেওয়ার সময় প্রচুর পরিমাণে ব্যথা হচ্ছে।
  • এছাড়া যক্ষা রোগ হলে দেখা যায় যে অনেক সময় যক্ষা রোগী খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।

যক্ষা কি ছোঁয়াচে রোগ

অনেকের মনে একটি প্রশ্ন এসে থাকে যে যক্ষা রোগ কি আসলেই ছোঁয়াচে রোগ। অনেক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে যক্ষা রোগ একটি ছোঁয়াচে রোগ। যক্ষা রোগের জীবাণু সরাসরি ফুসফুসে গিয়ে আক্রান্ত করে এবং পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আপনি যদি কোন যক্ষা রোগীর সংস্পর্শে যান তাহলে সেই যক্ষা রোগের জীবাণু আপনার শরীরে প্রবেশ করার অনেক সম্ভাবনা থাকে। 
এমনকি কোন যক্ষা রোগী যদি আপনার সামনে এসে হাচি বা কাশি দেয় তাহলে সে জীবাণু আপনার দেহে প্রবেশ করার অনেক সম্ভাবনা থাকে। আবার কোন যক্ষা রোগী যদি আপনার সামনে এসে কথা বলে তাহলে তার কথা বলার মাধ্যমেও আপনার শরীরে যক্ষা রোগের জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। তাই সব সময় যক্ষা রোগী থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এবং যক্ষা রোগীকে কারো সামনে আসতে হলে মাক্স পড়ে আসতে বলতে হবে।

যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর নাম কি

যে জীবাণুর মাধ্যমে যক্ষা রোগ ছড়ায় সেটির নাম হলো Mycobacterium tuberculosis (মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস)। এই জীবাণুটি মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া রোগটি ছড়ায়। এই জীবনগুলি সরাসরি গিয়ে একটি মানুষের ফুসফুসে আক্রমণ করে এবং পরে এটি ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। যক্ষা রোগীর কাশি দেওয়ার মাধ্যমে এই জীবাণুটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

যক্ষ্মা রোগ কিভাবে ছড়ায়

যক্ষা রোগ ছড়ানোর বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে। যক্ষা রোগ ছড়ানোর প্রথম কারণটি হচ্ছে কোন যক্ষা রোগী যদি আপনার সামনে এসে হাঁচি বা কাশি দেয় তাহলে তার হাচি বা কাশি দেওয়ার মাধ্যমে সেখান থেকে জীবাণু আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যক্ষা রোগের জীবাণুকে সাধারনতা বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। তাই যক্ষা রোগী যদি মুখে হাত না দিয়ে হাসি বা কাশি দেয় তাহলে সে যক্ষা রোগের জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে অন্যের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 

প্রচন্ড ঘনবসতীর মধ্যে থাকলে, পুষ্টির অভাব দেখা দিলে, নোংরা পরিবেশে বসবাস করলে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এই যক্ষা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ যক্ষার রোগটি সাধারণত শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এবং পরে এটি ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে।

যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা

আপনার যদি যক্ষা রোগ দেখা যায় তাহলে আপনার উচিত হবে এটিকে অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব এর চিকিৎসা নেওয়া। যক্ষা রোগের বেশ কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা রয়েছে। আজকে আমরা আপনাকে সেই যক্ষা রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে কিছু ধারনা দিব। চলুন তাহলে জেনে নিন যে যক্ষা রোগের সেই ঘরোয়া চিকিৎসা গুলো কি।

রসুনঃ আপনি হয়তোবা প্রতিদিনই রসুন খেয়ে থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই রসুন খাওয়ার মাধ্যমে আপনার যক্ষা রোগ ভালো হতে পারে। কারণ রসুনে রয়েছে এক ধরনের সালফিউরিক অ্যাসিড যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। রসুন থেকে যে নির্যাস বের হয় তা একজন যক্ষা রোগীর জন্য খুবই কার্যকরী।

আমলাঃ যক্ষা রোগের জন্য আমলা খুবই ভালো একটি উপাদান। এটি যক্ষা রোগ সারাতে খুবই ভালো কাজ করে থাকে। প্রতিদিন যদি একটি করে আমলা খান তাহলে এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। আমলাতে থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য একজন মানুষের শরীরে ইমিউন সিস্টেমকে অনেক শক্তিশালী করে। এছাড়াও প্রতিদিন আমলা খাওয়ার মাধ্যমে আপনার ত্বক অনেক ভালো থাকে এবং সুরক্ষিত থাকে।

কালো মরিচঃ কালো মরিচ অনেক রোগ সারাতে কাজ করে। কালো মরিচ একজন মানুষের ফুসফুস কে পরিষ্কার রাখে। এছাড়া কালো মরিচ খাওয়ার মাধ্যমে যক্ষা রোগের বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ যেমন হাঁচি, কাশি ইত্যাদি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই কালো মরিচ যক্ষা রোগের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলার জন্য খুবই ভালো একটি উপাদান।

আনারসঃ আনারস যক্ষা রোগের চিকিৎসায় খুবই দুর্দান্ত কাজ করে। আপনি যদি প্রতিদিন আনারস খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরের জন্য খুবই ভালো এবং এটি আপনার শরীরকে সুস্থ রাখে। আপনি যদি প্রতিদিন এক গ্লাস করে আনারসের জুস পান করেন তাহলে এটি যক্ষা রোগের জন্য খুবই ভালো। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে বাজার থেকে কিনা প্যাকেট জুস সেবন না করে বাড়িতে বানানো আনারসের জুস পান করা।

গ্রিন টিঃ গ্রিন টি তে রয়েছে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়াও এই গ্রিন টি পান করার মাধ্যমে এটা আপনার শরীরে থাকা যক্ষা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে।

শেষ কথা

আপনি ইতিমধ্যে নিশ্চয়ই খুবই ভালো ভাবে জেনে গেছেন যে যক্ষা রোগ হলে কোন কোন লক্ষণ দেখা যায় বা যক্ষা রোগের লক্ষণ গুলো কি কি এবং যক্ষরোগ কিভাবে ছড়ায়। এবং আপনি আরো কিছু বিষয়ের সম্পর্কে জেনেছেন যে যক্ষা রোগের চিকিৎসা কি কি এবং কোন কোন জীবাণুর মাধ্যমে এবং কিভাবে যক্ষা রোগ ছড়ায়। তাই যদি আপনার মধ্যে যক্ষা রোগের লক্ষণ দেখা যায় তাহলে এটিকে অবহেলা করবেন না। 

যত দ্রুত সম্ভব ঘরোয়া চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে এবং ওষুধ সেবন করতে হবে। তাছাড়া পরবর্তীতে এটি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। তাহলে আজকের মত এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে আরো নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমাদের এই পেজটিতে ফলো রাখুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url