বিটকয়েন থেকে আয় করার উপায়

আপনি যদি অনলাইনে কোন ধরনের কাজ না ও জানেন তারপরও আপনি বিটকয়েনের মাধ্যমে সহজেই ইনকাম করতে পারবেন। অনেকেই হয়তোবা মনে করেন যে বিটকয়েন থেকে ইনকাম করতে হয়তো বা কম্পিউটার ল্যাপটপ এবং ভালো ভালো মোবাইল প্রয়োজন হয়। 
বিটকয়েন থেকে  আয় করার উপায়
কিন্তু বিটকয়েন থেকে আয় করার জন্য এগুলোর কিছুই প্রয়োজন হয় না আপনার যদি একটু মোবাইল ফোন থাকে তাহলে আপনি বিটকয়েন থেকে আয় করতে পারবেন। কিন্তু অনেকেই এখন জানে না যে বিটকয়েন থেকে কিভাবে আয় করতে হয়। তাই আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা আপনাদেরকে জানাবো বিটকয়েন থেকে আয় করার উপায়। আপনি যদি বিটকয়েন থেকে আয় করার উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোস্টের সূচিপত্রঃ বিটকয়েন থেকে আয় করার উপায়

ভূমিকা

বর্তমানে যারা ছাত্রছাত্রী রয়েছে তারা চায় যে বিটকয়েনের মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে। এজন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখে বা বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল পড়ে বিটকয়েন সম্পর্কে। কিন্তু কোন জায়গায় সঠিক উপায় না পাওয়ার কারণে বিটকয়েন থেকে আয় করতে পারে না। কিন্তু আজকে আমরা এমন কিছু উপায় নিয়ে আপনাদের সামনে আমাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আলোচনা করব যেটির মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি দিয়ে আপনি বিটকয়েন থেকে আয় করতে পারবেন। 
বিটকয়েন থেকে আয় করাটা অনেকটা সহজ। এ বিটকয়েন থেকে আয় করার জন্য আপনাকে কোন প্রকার পরিশ্রম করতে হবে না। আপনি খুব সহজেই ঘরে বসেই বিটকয়েন আয় করতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক বিটকয়েন থেকে আয় করার উপায় সম্পর্কে।

বিটকয়েন কি

বিটকয়েন হচ্ছে এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি। অর্থাৎ সাধারণ ভাষায় বলতে গেলে বিটকয়েন হচ্ছে এক ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা। যার বাস্তবে কোন রূপ নেই। এটি শুধুমাত্র অনলাইন এর মাধ্যমে কেনা বেচা করা যায়। অর্থাৎ বলা যায় যে এই বিটকয়েন আপনি আপনার পকেটে রাখতে পারবেন না, এটাকে আপনি ধরে ছুঁয়ে দেখতে পারবেন না কারণ এটার কোন অস্তিত্ব নেই। এই বিটকয়েন বর্তমানে ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। 

এখন আপনার মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে এই ক্রিপ্টোকারেন্সি আবার কি জিনিস। বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যেগুলোতে বিভিন্ন কিছু কাজ করার ফলে ভার্চুয়াল পয়েন্ট গিফট দেওয়া হয়। এই অ্যাপগুলো থেকে আপনি যে ভার্চুয়াল পয়েন্ট গুলো পাবেন সেগুলো দিয়ে পরবর্তীতে আপনি বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা করতে পারবেন। এই গিফটের পয়েন্ট গুলো কে বলা হয়ে থাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি। বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে।

বিটকয়েন এর মূল্য কত

যত দিন যাচ্ছে বিটকয়েনের মূল্য ততই বেড়েই চলেছে। তাই বিটকয়েনের মূল্য কত এটি কখনো সঠিকভাবে বলা সম্ভব না। তবে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থেকে পাওয়া গেছে যে একটি বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ২৯ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫২৭ টাকা ২৭ পয়সা এর সমান। অর্থাৎ আপনি বুঝতে পারছেন যে আপনার কাছে যদি একটি বিটকয়েন থাকে তাহলে এই বিটকয়েনের মূল্য কী পরিমাণ হতে পারে। 

তবে দিন দিন যেহেতু এ বিটকয়েনের মূল্য বেড়েই চলেছে তাই পরবর্তীতে এ বিটকয়েনের মূল্য আরো বাড়তে পারে। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে এই বিটকয়েনের মূল্য কিছু কিছু সময় কম বা বেশি হয়ে থাকে। তাহলে এখন আর বুঝতে বাকি নেই যে আপনার কাছে যদি একটি বিটকয়েন থাকে তাহলে আপনি প্রায় কত টাকার মালিক হয়ে যেতে পারবেন।

বিটকয়েন আয় করার উপায়

বিটকয়েন থেকে আয় করার বিভিন্ন ধরনের উপায় রয়েছে। চলুন তাহলে বিটকয়েন থেকে আয় করার উপায় গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মাইনিং করে বিটকয়েন থেকে আয়
আপনি মাইনিং করার মাধ্যমে খুব সহজেই বিটকয়েন থেকে আয় করতে পারবেন। তবে এই মাইনিং করে বিটকয়েন আয় করাকে বিটকয়েন উপার্জন বলা হয় না বরং এটিকে বিটকয়েন উৎপাদন করা বলা হয়। মূলত কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে এই বিটকয়েন গুলো তৈরি করা হয়ে থাকে। যারা সাধারণত পেশাদার ভাবে বিটকয়েনের ব্যবসা করে থাকেন তারা বিটকয়েন মাইনার মাধ্যমে বিটকয়েন তৈরি করে থাকেন। 

তাদের এই তৈরিকৃত বিটকয়েন গুলো অনলাইনে বিক্রি করে থাকেন। তবে এই বিটকয়েন যে কেউই তৈরি করতে পারবে। শুধু তার জন্য প্রয়োজন হবে কিছু দক্ষতা এবং উচ্চমানের গ্রাফিক্স কার্ড। যদিও গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে সীমাহীন বিটকয়েন তৈরি করা যায়। তবে একটি রুম ভর্তি গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে সারাদিনের সর্বোচ্চ একটি বিটকয়েন মাইনিং করা হয়।

স্টক মার্কেট থেকে বিটকয়েন আয়
অনলাইনে বিটকয়েনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তেমনি শেয়ার বাজারে এই বিটকয়েনের প্রভাব অনেকটাই বেড়ে গেছে। মানুষ এখন টাকা বা ডলারের পরিবর্তে বিটকয়েন দিয়ে লেনদেন করে থাকেন। আপনি চাইলে খুব সহজেই স্টক মার্কেটে টাকা বা ডলারের পরিবর্তে বিটকয়েন বিনিয়োগ করতে পারেন। বিটকয়েন বিনিয়োগে ঝুঁকি কম থাকায় সারা বিশ্বে এই বিটকয়েনের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। টাকা বা ডলার বিটকয়েনে বিনিময় করার মাধ্যমে বিটকয়েন থেকে আপনি উপার্জন করতে পারবেন।

বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে বিটকয়েন আয়
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানি রয়েছে যারা যেকোনো কাজের বিনিময়ে ডলার বা টাকার পরিবর্তে বিটকয়েন দিয়ে থাকে। আবার এমন অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা টাকা বা ডলারকে বিটকয়েনে রূপান্তর করার মাধ্যমে তাদের কর্মীদের বিটকয়েনের মাধ্যমে তাদের পারিশ্রমিক প্রদান করে থাকে। তাই আপনিও যদি বিটকয়েন আয় করতে চান তাহলে এইসব কোম্পানিগুলো থেকে কিছু ছোট ছোট কাজ করার মাধ্যমে বিটকয়েন আয় করতে পারবেন। 

তবে বাংলাদেশ বা ভারত থেকে এ ধরনের কাজ করে বিটকয়েন আয় করাটা একটু কঠিন কারণ এ ধরনের কোম্পানির গুলো বেশিরভাগই মার্কিন কেন্দ্রিক যার কারণে তারা বাংলাদেশ বা ভারতের সাথে এ ধরনের ছোট ছোট কাজ করে না।

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিটকয়েন আয়
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে খুব সহজে বিটকয়েন আয় করা যায়। বাংলাদেশ বা ভারত থেকে এ ধরনের অ্যাপ গুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বিটকয়েন আয় করতে পারবেন। এ ধরনের কাজগুলো শিক্ষার্থীরা বেশি করে থাকে তার কারণ হলো এই অ্যাপগুলো থেকে বিটকয়েন আয় করার জন্য কোন ধরনের বিনিয়োগ করতে হয় না। 

তবে কোন ধরনের বিনিয়োগ ছাড়াই এইসব অ্যাপগুলো থেকে বিটকয়েনের আই খুবই ধীর গতিতে হলেও পরবর্তীতে এটি বাড়ানো যায়। তাই আপনি বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিটকয়েন আয় করতে পারবেন।

বিটকয়েন আয় করার অ্যাপ

বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই বিটকয়েন আয় করা সম্ভব। এই অ্যাপগুলোতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার মাধ্যমে অ্যাপ মালিকরা বিটকয়েন প্রদান করে থাকে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক বিটকয়েন আয় করার অ্যাপ গুলোর নাম।
  • Crypto Tab (ক্রিপ্টোট্যাব)
  • Sweatcoin (সোয়েট কয়েন)
  • Blockchain Game (ব্লকচেইন গেম)
  • Lawnmower (লনমাওয়ার)
  • Alien Run (এলিয়েন রান)
  • CashPirate (ক্যাশ পাইরেট)
  • Strom Play (স্ট্রম প্লে)
  • Crypto.com (ক্রিপ্টো.কম)
  • FeaturePoints (ফিচার পয়েন্টস)
  • Honeygain (হানি গেইন)
  • Pawns/IPRoya (পাওয়ান্স বা আইপিরয়াল)

বিটকয়েনের সুবিধা

বিটকয়েন ব্যবহারে বা বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেনের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তাহলে চলুন বিটকয়েনের সুবিধা গুলো জেনে নেওয়া যাক‌
  • বিশ্বের যে কোন জায়গায় বিটকয়েন ব্যবহার করা যায়। একেক দেশে একেক মুদ্রা হওয়ার কারণে বিটকয়েন সব দেশেই ব্যবহার করা সম্ভব।
  • বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ করতে গিয়ে কোন ঝামেলার মধ্যে করতে হয় না।
  • বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ করতে কোন তৃতীয় মাধ্যমের কাছে যেতে হয় না।
  • বিটকয়েন আর্নিং করার জন্য আপনাকে কোন প্রকার পার্সোনাল ইনফরমেশন দিতে হবে না। তাই বর্তমানে বিটকয়েন আর্নিং করা অনেকটাই সহজ।
  • বর্তমানে এখন বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান বিটকয়েন গ্রহণ করে থাকে। এজন্য বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটার জন্য মাস্টার কার্ডের পরিবর্তে বিটকয়েন ব্যবহার করা যায়।
  • বিটকয়েন ব্যবহারে কোন প্রকার করে দিতে হয় না তার কারণ হলো বিটকয়েন এর উপরে সরকারের কোন প্রকার হাত নেই।
  • বিটকয়েন ব্যবহারের ফলে অর্থের উপর যে কারো হস্তক্ষেপ করার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

শেষ কথা

বিটকয়েন কি, বিটকয়েনের মূল্য কত এবং কিভাবে বিটকয়েন আয় করা যায় এবং কোথায় থেকে আয় করা যায় সেইসব বিষয় সম্পর্কে পুরো আর্টিকেলে ভালোভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে থাকেন তাহলে এরপর থেকে বিটকয়েন সম্পর্কে বুঝতে আর কোন অসুবিধা হবে না আপনার। 

এছাড়াও উপরে যে মোবাইল অ্যাপ গুলোর নাম দেওয়া হয়েছে সেই অ্যাপ গুলোর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বিটকয়েন আর্নিং করতে পারবেন। বিটকয়েন সম্পর্কে যদি আপনার আর কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে সেটা আমাদেরকে জানাবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url