সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

সুপ্রিয় পাঠক, কালোজিরাকে বলা হয় বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার এক মহা ঔষধ। আপনি কালোজিরা খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কারণ কালোজিরাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গুণাগুণ যা মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকেই জানেন না যে কখন এবং কিভাবে কালোজিরা খেতে হয় বা কোন সময় খেলে বা কিভাবে খেলে বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়। 
সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম
তাই আজকের আমাদের আলোচ্য বিষয়টি হলো সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম। আপনি যদি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি পুরোপুরিভাবে পড়েন তাহলে সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবেন। তাহলে চলুন এখনই জেনে নেওয়া যাক সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

পোস্টের সূচিপত্রঃ সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

ভূমিকা

কালোজিরা কি আমরা প্রতিনিয়তই মসলা হিসেবে খাবারে ব্যবহার করে থাকি। মসলার পাশাপাশি কালোজিরা হচ্ছে এমন এক ধরনের আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও কবিরাজি ওষুধ য েটির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রাচীনকাল থেকেই এই কালোজিরা বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। কালোজিরার যে এত পরিমান গুনাগুন রয়েছে যা কখনো বলে শেষ করা যাবে না।
কিন্তু এখন অনেক মানুষই জানেন না যে কখন এবং কোন উপায়ে কালোজিরা খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আমরা আজকের এই সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আর্টিকেলটি লিখছি। যাতে করে আপনারা জানতে পারেন যে সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে এবং কিভাবে খেতে হয়। তাহলে আর কথা বাড়িয়ে সময় নষ্ট না করে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা

কালোজিরা খাওয়ার যে কতগুলো উপকারিতা রয়েছে তা কখনো বলে শেষ করা যাবে না। কালোজিরা খাওয়ার বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা রয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কালোজিরা খেলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যায়।
  • কালোজিরা খেলে আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে। কারণ হলো কালোজিরাতে থাকা এন্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপ্টিক পদার্থ মানুষের মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দিতে সহযোগিতা করে। এবং এই রক্ত সঞ্চালনের কারণে মানুষের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
  • কালোজিরা যে কোন কিছু হজম করাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনি যদি প্রতিদিন এক থেকে দুই চামচ কালোজিরা বেটে নেওয়ার পরে সেটি পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার হজম শক্তিকে বাড়িয়ে তুলবে।
  • আপনার যদি পেট ফাঁপা সমস্যা থেকে থাকে তাহলে এই কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে আপনার পেট ফাঁপা সমস্যাটি দূর হয়ে যেতে পারে।
  • আপনার যদি অতিরিক্ত ফ্যাট থেকে থাকে বা আপনি যদি ডায়েট অবস্থায় থাকেন তাহলে কালোজিরা আপনার জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চা চামচ মধুর সাথে আধা চামচ কালোজিরা মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরের অতিরিক্ত চর্বিগুলোকে কমিয়ে ফেলবে।
  • কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতাকে ধরে রাখতে পারবেন।
  • কালোজিরা নিয়মিত খাওয়ার ফলে আপনার মুখে যদি ব্রণ থাকে বা ব্রণের দাগ থাকে তাহলে সেই ব্রণ বা ব্রণের দাগ খুব সহজে দূর হয়ে যাবে।
  • আপনি যদি কালোজিরার তেল এবং লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুইবার সেটি আপনার মুখে ব্যবহার করেন তাহলে এটা আপনার উজ্জ্বলতাকে ধরে রাখবে।
  • প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মাথা ব্যথা থেকে দূরে রাখার জন্য একটি ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আপনার যদি মাথা ব্যথা হয়ে থাকে এবং আপনি যদি সামান্য পরিমাণ কালোজিরা তেল আপনার মাথায় ভালোভাবে মালিশ করেন তাহলে আপনার মাথা ব্যথা দূর হয়ে যাবে।
  • কালোজিরার তেল আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে বাড়িয়ে তুলবে।
  • আপনি যদি প্রতিদিন কালোজিরা সেবন করেন তাহলে এটি আপনার চুল পড়াকে বন্ধ করে ফেলবে।

সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

সকালে কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে আপনি যদি সকালে কালোজিরা খেতে চান তাহলে আপনি যদি সেটি খালি পেটে খেতে পারেন তবে এক্ষেত্রে আরও বেশি উপকারিতা পাবেন। কারণ সকালে খালি পেটে খালি জিরা খাবার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । 
এছাড়া সকালে খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে এটি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। আপনি চাইলে সকালে এক চা চামচ মধুর সাথে হাফ চা চামচ পরিমাণ কালোজিরা মিশিয়ে সেবন করে নিতে পারেন। আপনি যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এভাবে মধুর সাথে কালিজিরা সেবন করেন তাহলে অনেক উপকার পাবেন।

ওজন কমাতে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

আপনি আপনার অতিরিক্ত ওজন কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই কমিয়ে ফেলতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে কালোজিরা খেলে আপনার ওজন কমবে।
  • ওজন কমানোর জন্য এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা নিয়ে ভালোভাবে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এরপর সেই কালোজিরার গুড়ো গুলো এক গ্লাস হালকা কুসুম গরম পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর সেখানে আরো দুইটি উপাদান যুক্ত করতে হবে আর সেই দুটি উপাদান হলো এক চা চামচ পরিমাণ মধু এবং এক চা চামচ পরিমাণ লেবুর রস সেটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এবং এই মিশ্রণটি খালি পেটে পান করতে হবে। আপনি যদি নিয়মিত এভাবে খেতে থাকেন তাহলে আপনার অতিরিক্ত ওজন খুব সহজে কমে যাবে।
  • কালোজিরা দিয়ে ওজন কমানোর আরেকটি উপায় হলো একটি বাটিতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ টির মতন কালোজিরা নিয়ে সেটিতে অর্ধেক পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। এবার সেই মিশ্রণটি রোদের মধ্যে দুই থেকে তিন দিন রেখে দিতে হবে। আপনি আপনার ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন সেখান থেকে দুই থেকে চারটি করে কালোজিরা খেতে থাকুন। এভাবে খেতে থাকলে আপনার ওজন কমে যাবে।
  • ওজন কমানোর আরেকটি ভালো উপায় হচ্ছে সরাসরি পানির সাথে কালোজিরা সেবন করা। এভাবে খাওয়ার জন্য কয়েকটি সামান্য পরিমাণ কালিজিরা নিতে হবে এবং সেই কালিজিরা গুলো হালকা গরম পানি দিয়ে গিলে ফেলতে হবে। আর যদি এভাবে খেতে না চান তাহলে প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস পানির মধ্যে ৮ থেকে ১০ টি কালোজিরা ভিজিয়ে রাখুন। এবং সকালে সেই কালোজিরার পানি ভালোভাবে ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে পান করুন। এভাবে খেতে থাকলে আপনার অতিরিক্ত ওজন কমে যাবে।

মধু ও কালোজিরার তেল খাওয়ার নিয়ম

মধু এবং কালোজিরা তেল যদি আপনি একসঙ্গে প্রতিনিয়ত সেবন করতে পারেন তাহলে এটি আপনাকে দিবে বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা। মধু ও কালোজিরা তেল নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে এটা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করবে। এছাড়া মধু এবং কালোজিরা তেল একসাথে খাওয়ার ফলে এটি আপনাকে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্তি দেবে। 

মধু এবং কালোজিরার তেল খাওয়ার জন্য প্রথমে এক চা চামচ পরিমাণ মধু নিতে হবে এবং সেখানে হাফ চা চামচ পরিমাণ কালোজিরার তেল মিশিয়ে নিতে হবে। এবং সেই মধু এবং কালোজিরার তেলের মিশ্রণটি আপনি যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেতে পারেন তাহলে আপনি আরও বেশি উপকার পাবেন। এছাড়া এই খালি পেটে খাবার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

সর্দি ও কাশি সারাতে কালোজিরার ব্যবহার

ওরে দিও কাশি সারাতে কালিজিরার তেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনার যদি সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে থাকে। তাহলে রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য পরিমাণ কালোজিরার তেল বন্ধ হওয়া নাকে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। এছাড়া আপনার যদি সব সময় ঠান্ডার কারণে কাশি লেগে থাকে তাহলে প্রতিদিন সকালে সামান্য পরিমাণ কালোজিরার দানা বানিয়ে দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। এভাবে যদি আপনি খেতে থাকেন তাহলে আপনার সর্দি এবং কাশি দুটোই খুবই ভালোভাবে সেরে যাবে।

শেষ কথা

কালোজিরার যে কতটা উপকারী একটি উপাদান তা হয়তোবা আপনি ইতিমধ্যে খুবই ভালোভাবে জেনে গেছেন। কালোজিরার তেল বা কালোজিরা নিয়মিত খাওয়ার ফলে এটি আপনাকে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্তি দিবে। কারণ কালোজিরাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক গুনাগুন। এছাড়া এই কালোজিরা প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগমুক্তির মহা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। 

আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে কেমন লাগলো সেটি আমাদেরকে অবশ্যই জানাবেন। এছাড়া আজকের এই আর্টিকেল সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে সেটা আমাদেরকে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url