ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায়

আপনাদের প্রত্যেকের কাছেই ডায়াবেটিস শব্দটি একটি অতি পরিচিত শব্দ। বর্তমানে এখন কম বেশি প্রতিটি মানুষেরই এই ডায়াবেটিস সমস্যাটি দেখা যায়। এখন বর্তমানে এমন কোন পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না যে পরিবারের একজন ডায়াবেটিসের রোগীর নেই। তবে তারা ডায়াবেটিসের রোগী হওয়ার পরেও এই ডায়াবেটিস রোগটিকে অবহেলা করে থাকে। এবং যার ফলে তাদের পরবর্তীতে পড়তে হয় নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে। 
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায়
তাই ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায় সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে। আজকের এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায় সম্পর্কে খুব ভালোভাবে একটি ধারণা পাবেন। তাহলে চলুন এখনই জেনে নাও যাক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায় সম্পর্কে।

পোস্টের সূচিপত্রঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায়

ভূমিকা

বর্তমানে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে অনেকেই মনে করেন যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডায়াবেটিস রোগের সমস্যা ঠিক হয়ে থাকে। কিন্তু এ ধারণাটি একদমই ভুল। ডায়াবেটিস রোগের সাথে বয়সের কোনো সম্পর্ক নেই। যেকোনো বয়সের মানুষই এই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তবে এমন কিছু উপায় রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি ডায়াবেটিস রোগটিকে আপনার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারবেন। তাই আগে সেসব নিয়ম সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী। আজকের আমাদের এই আলোচনার মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিসের লক্ষণ, ডায়াবেটিস কিভাবে ভাল করা যায়, ডায়াবেটিস কিভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, ডায়াবেটিস কেন হয় ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলাপ আলোচনা করা হবে।

ডায়াবেটিস কেন হয়

একজন মানুষের শরীরে যখন ইনসুলিন তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় বা এই ইনসুলিন ঠিকঠাক মতো কাজ না করে তখন একটি মানুষের শরীরে ডায়াবেটিস রোগটি দেখা যায়। আমরা যখন বিভিন্ন ধরনের খাবার খায় তখন আমাদের শরীর সেই খাবারগুলোর শর্করা ভেঙ্গে সেগুলোকে চিনিতে (গ্লুকোজ) রূপান্তরিত করে ফেলে। এই চিনিগুলো শরীরের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে থাকে। কিন্তু রক্তে যখন এই চিনির পরিমাণ বেশি হয়ে যায় বা ইনসুলিন ঠিকঠাক মতো কাজ না করে বা ইনসুলিন তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় তখন একজন মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। 
তাই যখন একজন মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয় তখন সেই মানুষটির শরীরের মধ্যে আলাদাভাবে ইনসুলিন প্রবেশ করানো হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে যাদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হওয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু তারপরও যদি তাদের শরীরে ইনসুলিন প্রবেশ না করানো হয় তাহলে অনেক সময় সে ডায়াবেটিসের রোগীটি মৃত্যুবরণও করতে পারে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ

একজন মানুষের শরীরে ডায়াবেটিসের বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এবং সে সব লক্ষণ দেখা দিলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি ধীরে ধীরে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এবং তৎক্ষণাৎ উচিত হবে আপনার একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার। তাহলে চলুন দেখে নিন কোন কোন লক্ষণ ব্যবস্থা দেওয়ার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার শরীরে ডায়াবেটিস রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে।
  • ঘনঘন ক্ষুধা লাগা এটি ডায়াবেটিস রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।
  • আপনার শরীরে যদি ডায়াবেটিস রোগটি দেখা যায় তাহলে আপনার শরীরের ওজন খুবই তাড়াতাড়ি কমে যাবে।
  • ডায়াবেটিস রোগের আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।
  • আপনার শরীরে যদি ডায়াবেটিস রোগটি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আপনি ধীরে ধীরে চোখে ঝাপসা দেখা শুরু করবেন।
  • আপনার শরীরে যদি ডায়াবেটিস রোগ হয়ে থাকে তাহলে আপনি যে কোন কাজ করতে গিয়ে অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন।
  • ডায়াবেটিস রোগের আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে আপনার ঘন ঘন পিপাসা লাগবে।
  • মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া এটি হচ্ছে ডায়াবেটিস রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।
  • আপনার যদি ডায়াবেটিস রোগ হয় তাহলে আপনার শরীরের কোন স্থানে যদি কেটে যায় তাহলে সেটি ঠিক হতে অনেক সময় লেগে যায়।
  • এছাড়া ডায়াবেটিস রোগ হলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায়

আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন যে ডায়াবেটিস রোগটি কেন হয় এবং কি কি লক্ষণ দেখা দিলে বোঝা যায় যে ডায়াবেটিস রোগটি হয়েছে। তাহলে এখন আপনাকে জানতে হবে যে এই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায় কি। আর এ বিষয়ে যদি আপনার ধারণা না থাকে তাহলে আপনি কোনভাবেই আপনার ডায়াবেটিসের রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন না। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায়।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার প্রথম উপায় হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম করা। আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, নিয়মিত দ্রুত হাঁটাচলা করেন, নিয়মিত দৌড়ান বা সাইকেল চালান এবং সাঁতার কাটে তাহলে দেখবেন যে ধীরে ধীরে আপনার ডায়াবেটিস রোগটি আপনার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
  • ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণের আরেকটি উপায় হচ্ছে আপনি আপনার নিয়মিত খাদ্য তালিকা থেকে চিনি এবং শর্করা জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে দিবেন। কারণ চিনি জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে। তাই চেষ্টা করতে হবে চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য।
  • অনেকেই একটি কাজ করেন আর সেটি হল তারা নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করেন না। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করেন তাহলে এটি আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা টিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারবে। তাই আপনার উচিত হবে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায় হচ্ছে ফাইবার জাতীয় খাবার যেমনঃ- বাদাম, টমেটো, গাজর, আপেল ইত্যাদি খাবার গুলো নিয়মিত খাওয়া। এগুলো খাবার খাওয়ার ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুবই জরুরী। কারণ আপনি যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাবেন না তখন আপনার শরীরের গ্রোথ হরমোন কমে যাবে। তাই একজন ডায়াবেটিস রোগীর উচিত হবে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো।
  • দারুচিনি ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে খুবই ভালো কাজ করে থাকে। আপনি যদি নিয়মিত দারুচিনি চায়ের সাথে বা অন্য কোন খাবারের সাথে মিশিয়ে খান তাহলে খুব সহজেই ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারবেন।
  • আপনার ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সর্বদা আপনার শরীরের ওজনকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। কারণ শরীরের অতিরিক্ত ওজন হওয়ার ফলে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি আরো বহুগুনে বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা

একজন ডায়াবেটিস রোগীকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য তালিকা মেনে চলতে হয়। আর যদি সেই ব্যক্তি কোন খাদ্য তালিকা মেনে না চলে তাহলে তার শরীরে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি আরো বেড়ে যেতে পারে। তাহলে আসুন জেনে নিন ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে।

শাকসবজিঃ একজন ডায়াবেটিস রোগীর উচিত হবে নিয়মিত শাকসবজি খাওয়া। শাকসবজি গুলোর মধ্যে রাখতে হবে সবুজ শাক, গাজর, টমেটো, ব্রকলি, মরিচ, আলু ইত্যাদি। তবে এগুলো পরিমাণমতো খেতে হবে।

ফলঃ ফলের মধ্যে রয়েছে কলা, তরমুজ, আপেল, কমলা, আঙ্গুর ইত্যাদি ফল খেতে পারবেন।

প্রোটিন জাতীয় খাবারঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার গুলোর মধ্যে যেগুলো খেতে পারবেন সেগুলো হলো ডিম, বাদাম, চিনা বাদাম, শুকনো মটরশুঁটি, চামড়া ছাড়া মুরগি, শিম ইত্যাদি।

শর্করা জাতীয় খাবারঃ শর্করা জাতীয় খাবার গুলোর মধ্যে যেগুলো খেতে পারবেন সেগুলো হলো লাল আটার রুটি, পাউরুটি, নান রুটি, কাঁচকলা, লাল বা বাদামি চালের ভাত।

শস্য জাতীয় খাবারঃ শস্য জাতীয় খাবার গুলোর মধ্যে যেগুলো খেতে পারবেন সেগুলো হলো গম, চাল, বার্লি ইত্যাদি।

কোন ফল খেলে ডায়াবেটিস কমে

বিভিন্ন ধরনের ফল রয়েছে যেগুলো খাওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সে সফল ফলের নাম সম্পর্কে।
  • কামরাঙ্গা
  • আপেল
  • পেয়ারা
  • স্ট্রবেরি
  • বেদানা
  • আঙ্গুর
  • ব্লুবেরি
  • তরমুজ
  • চেরি ফল
  • পেঁপে
  • কমলালেবু

শেষ কথা

আপনি ইতিমধ্যে ডায়াবেটিস রোগটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ একটি ধারণা পেয়ে গেছেন। এবং কিভাবে এ ডাইবেটিস রোগটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায় সে বিষয়েও একটি পরিপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন। এখন আপনি যদি একজন ডায়াবেটিস রোগের রোগী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার উচিত হবে উপরের দেওয়া নিয়ম গুলো মেনে চলা। এবং উপরে যে খাবারগুলোর নাম দেওয়া আছে সেগুলো নিয়মিত খাওয়া। তাহলে আপনি খুব সহজেই এই ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারবেন। আজকের এই পোস্টটি আপনার কাছে কেমন লাগলো আমাদেরকে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url