ভালো চা চেনার উপায়

প্রত্যেকেই চা পান করতে অনেক বেশি পছন্দ করেন। প্রত্যেকদিন যদি সকালে বা সন্ধ্যায় যদি এক কাপ চা পান না করা হয় তাহলে যেন পুরো দিনটাই মাটি হয়ে যায়। চা পান করা হাজার বছরের ঐতিহ্যের একটি অংশ। সর্বপ্রথম চীন দেশে চায়ের প্রচলন ছিল এবং পরবর্তীতে এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 
ভালো চা চেনার উপায়
তবে বর্তমানে এখন মানুষ ভালো চা চিনতে পারেন না। যার কারণে তারা অনেক সময় বাজার থেকে ভেজাল জাতীয় চা কিনে নিয়ে আসে। তাই আমরা আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদেরকে শিখাবো ভালো চা চেনার উপায়। আপনি যদি ভালো চা চেনার উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোস্টের সূচিপত্রঃ ভালো চা চেনার উপায়

ভূমিকা

চা হচ্ছে বাঙালির ভীষণ প্রিয় একটি পানীয় খাবার। সকালে যদি চায়ের কাপে চুমুক না দেওয়া যায় তাহলে যেন সারাদিনটা আর চলে না। চা পান করা বাঙালির এখন অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে। শুধু যে বাঙালিরা চা পান করতে পছন্দ করে এমনটি নয় বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষই চা পান করতে ভীষণ পছন্দ করেন। তবে আপনি যে চা খাচ্ছেন আপনি কি আদৌ জানেন যে আপনি ভালো চা খাচ্ছেন নাকি ভেজাল চা খাচ্ছেন। 
আপনি যদি ভালো চা চেনার উপায় সম্পর্কে না জানেন তাহলে কখনোই বুঝতে পারবেন না যে আপনি ভালো চা খাচ্ছেন নাকি ভেজাল চা খাচ্ছেন। আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার পর থেকে আপনিও বুঝতে পারবেন যে আপনি যে চা টি খাচ্ছেন সেটি ভাল নাকি ভেজাল মেশানো। তাহলে চলুন ভালো চা চেনার উপায় সম্পর্কে জেনে নিন।

ভালো চা চেনার উপায়

ভালো চা চেনার বিভিন্ন ধরনের উপায় রয়েছে। আপনি চাইলে বিভিন্ন উপায়ে পরীক্ষা করতে পারবেন যে আপনি যে চা খাচ্ছেন সেটি ভালো নাকি ভেজাল।
স্পর্শ করে দেখার মাধ্যমে
আপনি যে চা খাচ্ছেন সেটা ভালো নাকি ভেজাল সেটা আপনি স্পর্শ করে দেখার মাধ্যমে বুঝতে পারবেন। কারণ যেগুলো ভালো মানের চা পাতা সেগুলো একটু মসৃণ হয়ে থাকে। অনেক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে আপনি চাইলে হাতের তালুতে চা পাতা রেখে সেটিকে পরীক্ষা করতে পারবেন। হাতের তালুতে চা পাতা নেওয়ার পর যদি কোন চা পাতাই রুক্ষতা পরি লিখিত হয় তাহলে সেটি ফেলে দেওয়াটাই ভালো হবে।

ঘ্রাণ শক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে
আপনি চায়ের পাতার সুগন্ধ অনুভব করেও ভালো চা এবং ভেজাল চা পরীক্ষা করতে পারবেন। আপনি যদি কোন চায়ের পাতায় বিবর্ণ গন্ধ পান তাহলে সেই চা তেমন ভালো মানেন না। কারণ ভালো মানের চা পাতায় রয়েছে শক্তিশালী এবং তাজা সুগন্ধ যেটির মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন যে চা টি ভেজাল নাকি ভালো।

চা পাতার চেহারা দেখে যাচাই করা
আপনি চা পাতার চেহারা দেখেও যাচাই করতে পারবেন যে চা টি ভালো নাকি খারাপ। আপনি যদি কোন চা পাতায় দাগ বা ডালপালা দেখতে পান এবং বেশি চূর্ণ-বিচূর্ণ দেখতে পান তাহলে সেটি হচ্ছে খারাপ মানের চা। এছাড়া চা পাতাগুলিতে যেন কাঠের টুকরা না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ কাঠের টুকরো থাকার ফলে এটি চায়ের সুগন্ধকে কমিয়ে ফেলতে পারে।

চা খেয়ে দেখার মাধ্যমে
আপনি চা খেয়েও বুঝতে পারবেন যে চা টি ভালো নাকি খারাপ। কারণ ভালো মানের চা তার স্বাদের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয় যে সেটি ভালো নাকি খারাপ। আপনি যে চা পছন্দ করেন না কেন আপনি সেই চা একবার চুমুক দিলে বুঝতে পারবেন যে সেই চা টি কতটা ভালো।

ভেজাল চা পাতা চেনার উপায়

ভেজাল চা পাতা চেনারও বিভিন্ন ধরনের উপায় রয়েছে। চলুন তাহলে এখন জেনে নেওয়া যাক যে আপনি কিভাবে বুঝবেন যে চা পাতা ভেজাল নাকি ভালো।
  • ভেজাল চা চেনার প্রথম উপায় হল একটি টিস্যু পেপারে ২ চা চামচ পরিমাণ চা পাতা নিয়ে সেখানে কয়েকফোঁটা পানি দিয়ে কিছুক্ষণ রোদে রেখে দিবেন। এরপর কিছুক্ষণ পরে টিস্যু পেপার থেকে সে চা পাতাগুলো তুলে নিতে হবে। চা পাতাগুলো তুলে ফেলার পরে আপনি যদি সে টিস্যু পেপার এ দাগ দেখতে পান তাহলে বুঝে নিবেন যে সেই চায়ে ভেজাল রয়েছে। আর যদি সেই ব্যাপারে কোন প্রকার দাগ বা চিহ্ন না থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে যে সেই চা পাতাটি ভালো।
  • চা পাতার ভেজাল চেনার আরেকটি উপায় হলো এক গ্লাস পরিমাণ ঠান্ডা পানি নিয়ে সেটিতে এক থেকে দুই চামচ চা পাতা মিশে দিতে হবে এবং এক মিনিট সময় পর্যন্ত রেখে দিতে হবে। যদি চাপাতা থেকে অল্প সময়ের মধ্যে রং বের হয়ে যায় তাহলে বুঝে নিতে হবে যে সেই চায়ে ভেজাল রয়েছে। কারণ যেটি ভালো মানের চা সেটিতে কখনোই এত তাড়াতাড়ি রং বের হবেনা তাও আবার ঠান্ডা পানির মধ্যে।
  • চা পাতার ভেজাল চেনার আরেকটু উপায় হচ্ছে আপনি হাতে কিছু পরিমাণ চা পাতা নিয়ে সেগুলো এক থেকে দুই মিনিট ধরে ঘষতে থাকুন। এক থেকে দুই মিনিট ঘষার পরে যদি হাতের তালুতে কোন রং দেখতে পান তাহলে বুঝে নিতে হবে যে সেই চায়ে কোন ধরনের ভেজাল মেশানো আছে।

চা পানের উপকারিতা

চা পানের বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা রয়েছে। তাহলে আসুন এখন জেনে নিন যে চায়ের উপকারিতা গুলো কি কি।
  • নিয়মিত চা পান করার মাধ্যমে এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল গুলোকে দূর করে ফেলে ভালো কোলেস্টেরল তৈরি করে।
  • নিয়মিত চা পান করার মাধ্যমে এটি মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে ফেলে।
  • নিয়মিত চা পান করার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। তার কারণ হলো নিয়মিত চা পান করলে রক্তের শর্করার মাত্র নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এটি ইনসুলিনের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে ফেলে।
  • চায়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। আরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের কারণে হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি সমস্যা থেকে দূরে রাখে।
  • নিয়মিত চা পান করা মাথাব্যথা কমাতে সহযোগিতা করে। কারণ চায়ে রয়েছে এক ধরনের ক্যাফিন নামক উপাদান এটি মাথা ব্যথা কমাতে সহযোগিতা করে।
  • আপনি যদি নিয়মিত গ্রিন টি পান করেন তাহলে এটি আপনার বাতের ব্যথাকে দূর করে দিবে। কারণ গ্রিন টিতে থাকা এন্টি ইনফ্লেমেটরি বাতের ঝুঁকি কমাতে সহযোগিতা করে।
  • নিয়মিত চা পান ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।
  • নিয়মিত চা পান করার ত্বক এবং চুলের জন্য খুবই উপকারী।

অতিরিক্ত চা পানের ক্ষতিকর দিক

অতিরিক্ত চা পান করার ফলে যেসব ক্ষতি হয় আসুন জেনে নিন।
  • অতিরিক্ত চা পান করার ফলে শরীর আয়রন গ্রহণ করার ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে।
  • অতিরিক্ত চা পান করার ফলে মানসিক চাপ এবং অস্থিরতাকে বাড়িয়ে ফেলে।
  • অতিরিক্ত চা পান করার ফলে ঘুম আসে না।
  • অতিরিক্ত চাপা পান করার ফলে অনেক সময় বমি বমি ভাব দেখা যায়।
  • অতিরিক্ত চা পান করার ফলে হজমের সমস্যা হতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চা পান করলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
  • অতিরিক্ত চা পান মাথাব্যথা এবং মাথা ঘুরানোর সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
  • অতিরিক্ত চা পান ক্যাফেইনের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল করে তোলে।

চায়ের লিকার দিয়ে রূপচর্চা

আপনি চাইলে চা খাওয়ার পরে সে লিকার ফেলে না দিয়ে সেটি দিয়ে রূপচর্চা করতে পারবেন। তাহলে আসুন জেনে নিন যে চায়ের লিকার দিয়ে কিভাবে রূপচর্চা করতে হয়।
  • আপনার যদি চোখ ফুলে থাকে তাহলে চা খাওয়ার পরে সে একটি ব্যাগ ফেলে না দিয়ে সেই টি ব্যাগটি কিছুক্ষণ চোখের উপরে রেখে দিন। কিছুক্ষণ পরে দেখবেন যে আপনার চোখের ফোলা ভাব কমে গেছে।
  • আপনি টি ব্যাগ ব্যবহার করে চোখের ডার্ক সার্কেল দূর করতে পারবেন।
  • চায়ের লিকার দিয়ে আপনি আপনার শরীরের রোদে পোড়া দাগ গুলোকে দূর করে ফেলতে পারবেন।
  • আপনি চা খাওয়ার পরে সেই টি ব্যাগটি ফেলে না দিয়ে সেই টি ব্যাগটি কেটে সেখান থেকে লিকার গুলো বের করে নিয়ে সেগুলো স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে মসৃণ।
  • গোসলের সময় চুলের শ্যাম্পু করার পরে চা পাতা ফুটানো পানি দিয়ে যদি আপনি আপনার চুল ধুয়ে ফেলেন তাহলে আপনার চুল হয়ে উঠবে মসৃণ এবং ঝলমলে।

শেষ কথা

আপনিতো ইতিমধ্যে জানলেন যে ভালো চাপাতা কিভাবে চেনা যায় এছাড়াও ভেজাল চা-পাতা কিভাবে চেনা যায় এবং চা পানের উপকারিতা ও অতিরিক্ত চা পানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অনেক ভালোভাবে জেনেছেন। তাহলে আশা করা যায় যে আপনি এখন খুব সহজেই চিনতে পারবেন যে আপনি যে চা খাচ্ছেন সেটি ভালো নাকি ভেজাল যুক্ত। আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকলে এবং উপকারী মনে হলে সেটি অন্যদেরকে পড়ার সুযোগ করে দিন। ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url