সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়

সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয় সম্প্রতি এই প্রশ্নটি অনেক মানুষের মনের মধ্যেই রয়েছে। সকালে ঘুমালে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। অনেকেই চাই যে দিনের বেলা ঘুম থেকে একটু দেরি করে উঠবে। এবং রাতে দেরি করে ঘুমাতে যাবে। কিন্তু অনেকেই জানে না যে সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়। 
সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়
তাই সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয় এ বিষয়ে জানানোর জন্য আজকের আমাদের এই আর্টিকেলটি লেখা। আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়। আপনি যদি এ বিষয়ে সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ুন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

পোস্টের সূচিপত্রঃ সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়

ভূমিকা

দেহ এবং সুস্থ রাখার জন্য ঘুমের গুরুত্ব অপরিসীম। আপনি সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত সময়মত ঘুমাতে পারেন। তবে কিছু কিছু সময় রয়েছে যে সময়গুলোতে যদি আপনি ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে এই ঘুম আপনাকে সুস্বাস্থ্যের পরিবর্তে আরো বেশি অসুস্থ করে ফেলবে। তেমনি একটি সময় হচ্ছে সকালের ঘুম। 
সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয় সে বিষয়ে আপনাদেরকে সম্পূর্ণ একটি ধারণা দেওয়ার জন্য আমাদের আজকের এই আর্টিকেল সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়। আমি মনে করি আপনার অবশ্যই জানা উচিত যে সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়। তাহলে আর দেরি না করে চলুন খুব শীঘ্রই জেনে নেওয়া যাক যে সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়।

সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়

সকালে ঘুমালে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আপনি যদি প্রতিদিন সকালে ঘুমান তাহলে এই ঘুমের কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ আপনার মধ্যে বাসা বাঁধতে পারে। তাহলে চলো এখন জেনে নিন যে সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়।
  • আপনি যদি প্রতিদিন সকালে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমান তাহলে এটি আপনার মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতাকে দুর্বল করে ফেলবে। বিশেষ করে নারীরা যদি পাঁচ ঘন্টার কম সময় ঘুমায় অথবা ৯ ঘন্টার অধিক সময় ধরে ঘুমায় তাহলে তাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা দুই বছরের জন্য কমে যেতে পারে।
  • অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে বা সকালে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমানোর ফলে গর্ভধারণের সমস্যা হতে পারে। সকালে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমানোর ফলে গর্ভধারণের ক্ষমতা কমে যায়।
  • সকালে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমানোর ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কারণ একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে মানুষ যদি রাতে আট ঘণ্টার বেশি সময় পর্যন্ত ঘুমায় এবং সকালে ঘুমিয়ে থাকে এবং অনেক দেরি করে ঘুম থেকে উঠে তাহলে তার রক্তে গ্লুকোজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এবং এর ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • সকালে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমানোর ফলে মানুষের মধ্যে বিষন্নতার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
  • আপনি যদি প্রতিদিন সকালে খুব দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন বা সকালে ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে এটি আপনার ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
  • আপনি যদি প্রতিদিন নিয়মিত সকালে ঘুমাতে থাকেন তাহলে এটি আপনার আয়ু কমিয়ে ফেলতে পারে। কারণ বিভিন্ন ধরনের গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমায় বা রাতে ঘুমানোর পরে সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠে তাদের দ্রুত মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।
আপনি উপরের আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে আপনি যদি সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন বা সকালে ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে আপনার কি কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই আজ থেকে সকালে ঘুমানো অভ্যাসটিকে পরিহার করুন।

রাতে দেরিতে ঘুমালে কি হয়

একেকজনের ঘুমানোর অভ্যাস একেক রকম হয়ে থাকে। কেউ রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে আবার সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে যায়। আবার কেউ কেউ রাতে দেরি করে ঘুমায় এবং সকালেও দেরি করে ঘুম থেকে উঠে। তবে এ রাতে দেরি করে ঘুমানোর ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক যে রাতে দেরিতে ঘুমালে কি হয়।
  • বিভিন্ন ধরনের গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে আপনি যদি রাতে দেরি করে ঘুমান তাহলে এটা আপনার মস্তিষ্কের ওপর প্রচণ্ড পরিমাণে চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া রাতে দেরি করে ঘুমানোর ফলে আপনার ব্লাড প্রেসারের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
  • যারা অফিসে চাকরি করেন তাদেরকে অনেক সময় অফিস থেকে দেরিতে আসার জন্য রাতে ঘুমানো টাও একটু দেরিতে হয়ে যায় কিন্তু সকালে আবার খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে অফিসে যেতে হয়। তবে এই কম ঘুমানোর ফলে বাড়াতে দেরি করে ঘুমানোর ফলে আপনার শরীরের মধ্যে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষয় হতে পারে।
  • রাতে দেরি করে ঘুমানোর ফলে আয়ু অনেকটাই কমে যায় এবং দ্রুত মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।
  • আপনি যদি রাতে দেরি করে ঘুমান তাহলে এই দেরি করে ঘুমানোর ফলে আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে এবং আপনি দুর্বল হয়ে পড়বেন।
  • দিনের পর দিন যদি আপনি রাত জাগা শুরু করেন তাহলে এটি আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে দিতে পারে।

বিকেলে ঘুমালে কি হয়

অনেকেই মনে করেন যে বিকালে ঘুমানোটা খারাপ। এবং বিকালে ঘুমালে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। তবে আমি বলব যে আপনার এই ধারণাগুলো একদমই ভুল। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি তারা যদি বিকালে ঘুমায় তাহলে তাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ঠিক থাকে।। তবে এই ঘুম যেন অধিক সময় পর্যন্ত না হয় সেদিন কেউ লক্ষ্য রাখতে হবে। 

কেননা অধিক সময় পর্যন্ত যদি আপনি ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে এটি মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিবর্তে সে কর্ম ক্ষমতাটিকে আরো কমিয়ে ফেলতে পারে। তাই সব সময় পরিমাণ মতো ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। কারণ পরিমাণমতো ঘুমানোর ফলে মস্তিষ্কে থাকা চাপ দূর হয়ে যায় এবং স্মৃতিশক্তি সুরক্ষিত থাকে।

সকালে কখন ঘুম থেকে ওঠা উচিত

আমরা প্রত্যেকেই ছোটবেলায় বাবা-মার কাছে থেকে শুনেছি যে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমালে এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার হয় বা এটি শরীরের জন্য খুবই ভালো। তবে অনেকেই জানেন না যে সকালে কখন ঘুম থেকে ওঠা উচিত বা সকালে কখন ঘুম থেকে উঠলে বেশি ভালো হয়। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক যে সকালে কখন ঘুম থেকে ওঠা উচিত।

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য রাতে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। তাহলে আপনি যদি রাত ১১ টায় ঘুমান তাহলে আপনাকে সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে ছয়টার সময় বা সাতটার সময়। তবে আপনি সকাল ছয়টার সময় উঠবেন নাকি সাতটার সময় উঠবেন সেটি আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। 

আপনি আপনার দিন কখন থেকে শুরু করতে চাচ্ছেন সেটি আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখতে হবে তাহলে আপনি সে ঠিক সময় মত ঘুম থেকে উঠতে পারবেন। তবে এর থেকে বেশি ঘুমানো কখনোই আপনার জন্য উচিত হবে না। এর থেকে বেশি ঘুমানোর ফলে আপনার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।

কোন কোন সময় ঘুমানো নিষেধ

আপনি যদি একজন মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে ফজরের নামাজের পর ঘুমানোটা কখনোই আপনার জন্য উচিত হবে না। আপনি যদি ফজরের নামাজের পর আবার ঘুমান তাহলে এটি আপনাকে ধীরে ধীরে অলস বানিয়ে ফেলবে এবং আপনি কাজের প্রতি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলবেন। 

তাই কখনোই আপনার উচিত হবে না ফজরের পরে ঘুমিয়ে থাকা। আবার সকালে খুব একটা দেরি করে ঘুম থেকে উঠবেন না। সকালে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করবেন। আপনি যদি এর থেকে বেশি সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে তৈরি হতে পারে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। আপনার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাঁধতে পারে। 

আবার রাত্রে কখনোই বেশি রাত করে ঘুমাবেন না। কারণ বেশি রাত করে ঘুমানোর ফলেও তৈরি হতে পারে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। আমি যদি ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে উঠেন তাহলে আপনি চেষ্টা করবেন এশার নামাজের পরপরই ঘুমানোর জন্য এতে করে আপনার যেমন ঘুমের কমতে হবে না তেমনি আপনি ঠিক সময়েও ঘুম থেকে উঠতে পারবেন।

শেষ কথা

ঘুম একটি মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম যেমন মানুষের সুস্বাস্থ্যকে ধরে রাখে তেমনি অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুম মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি করে ফেলে। তাই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার পরে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে আপনার কখন ঘুমানো উচিত এবং কতটুকু ঘুমানো উচিত এবং কতক্ষণ পর্যন্ত ঘুমালে আপনার ক্ষতি হবে। আশা করা যায় যে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে। 

আজকের এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে সেটি অন্যদেরকে পড়ার সুযোগ করে দিন। যাতে করে তারাও জানতে পারে যে অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে বা সকালে ঘুমালে কি ক্ষতি হয়। এরকম আরো নতুন নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করার জন্য নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে থাকুন। ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url