রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো

আমরা রান্নার কাজে কোন তেল ব্যবহার করি তার উপরে আমাদের সুস্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে। তবে যে শুধু তেলের ধরনের উপর নির্ভর করে এমনটি নয়। আপনি রান্নার কাজে কি পরিমান তেল ব্যবহার করছেন এবং কিভাবে ব্যবহার করছেন সেটির উপরেও সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে। 
রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো
তাই আজকে আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাকে জানাবো যে রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো। আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো এবং কোন তেল খেলে সেটি আপনার শরীরের জন্য উপকারী দিবে। তাই আপনি যদি জানতে চান যে রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো তাহলে চলুন এখনই জেনে নেওয়া যাক।

পোস্টের সূচিপত্রঃ রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো

ভূমিকা

আমরাতো প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের রান্নার কাজে বিভিন্ন ধরনের তেল ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমরা কি জানি যে আমরা যে তেল আমাদের রান্নার কাজে ব্যবহার করছি সেটি আমাদের জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর বা নিরাপদ। আমরা অনেক সময় না জেনে বা না বুঝে বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর তেল আমাদের রান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকি।
এই ধরনের তেল জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। তাই আপনারা যাতে আর কোন ধরনের অস্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার না করেন এজন্য আজকে আমরা আপনাকে বলব যে রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো বা রান্নার কাজে কোন তেল ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ। 

আশা করা যায় যে আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার পর রান্নার সময় তেল ব্যবহারে আপনাকে আর কোন দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে থাকতে হবে না। আপনি নিঃসন্দেহে সে তেলগুলি আপনার রান্নার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। তাহলে চলুন আর দেরি না করে এখনি জেনে নেওয়া যাক রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো।

রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো

আমরা প্রতিনিয়তই রান্নায় বিভিন্ন ধরনের তেল ব্যবহার করে থাকি। তবে আমরা সবচেয়ে বেশি যে তেল গুলো ব্যবহার করে থাকি সেগুলো হচ্ছে সরিষার তেল এবং সয়াবিন তেল। যে তেল গুলোতে বিশেষ করে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে সেগুলো রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই যেসব তেলে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এর মাত্রা বেশি থাকে সে সকল তেলগুলো রান্নার কাজে ব্যবহার করা অনেকটা নিরাপদ। 

তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে সব সময় তেল কিনার আগে তেলের উপাদান এবং ফ্যাটের মাত্রাগুলো দেখে কিনতে হবে। আপনি বাজারে গিয়ে তেল কেনার সময় যদি দেখেন যে কোন তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এর পরিমাণ ৩৫ শতাংশ এবং আনস্যারচুরেটেড ফ্যাট এর পরিমাণ ৫০ শতাংশ সেই তেল গুলো আপনি কিনবেন। কারণ এই ধরনের তেল গুলো শরীরের জন্য খুবই ভালো এবং নিরাপদ। তাহলে চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন তেল শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ।

রান্নার জন্য অলিভ অয়েল তেলের ব্যবহার

বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার কাজে অলিভ অয়েল তেল ব্যবহার করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ এই ধরনের অলিভ অয়েল তেল গুলো হয়ে থাকে একদম বিশুদ্ধ। এবং যার ফলে আপনি যদি অলিভ অয়েল তেল দিয়ে রান্না করা কোন খাবার খান তাহলে আপনাকে কোন ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে না। এ ধরনের তেল গুলো এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোতে সৌখিন রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে ইউরোপের বিভিন্ন ধরনের দেশগুলোতে এই তেল প্রচুর পরিমাণে রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

জলপাই তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মনোআনস্যাচুরেটেড এবং পলিআনস্যাচুরেটেড জাতীয় উপাদান। এ ধরনের তেল গুলো হার্টের জন্য খুবই ভালো। আপনি যদি নিয়মিত এই অলিভ অয়েল তেল বা জলপাইয়ের তেল আপনার রান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনার হার্টের কোন ধরনের সমস্যা হবে না। এই তেলগুলো নিয়মিত রান্নার কাজে ব্যবহার করার ফলে এবং এই তেল জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে শরীর থাকে স্বাস্থ্যকর এবং ফিট। এছাড়া জলপাই এর তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট খুবই কম পরিমাণে থাকে।

রান্নার জন্য নারিকেল তেলের ব্যবহার

নারিকেল তেল যে শুধু এখন চুলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ঠিক এমনটি নয় এটি এখন বর্তমানে রান্নার কাজেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপনি যদি কিটো ডায়েট করেন তাহলে আপনার নিয়মিত রান্নার কাজে এই নারিকেল তেল ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নারিকেল তেলে রয়েছে 90% পরিমাণ স্যাচুরেটেড ফ্যাট। অনেক গবেষণা করে দেখা গেছে যে নিয়মিত খাবারের নারিকেল তেল ব্যবহার করার ফলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে দেয়। 

বর্তমানে যে শুধু বাংলাদেশে এ নারিকেল তেল ব্যবহার করা হয় এমনটি নয়। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ নারিকেল তেল চুলে ব্যবহার করার পাশাপাশি রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ নারিকেল তেল ব্যবহার করে আপনি উচ্চতা পেয়ে খাবার রান্না করতে পারবেন। এই নারিকেল তেলতে অন্যান্য তেলের চেয়ে অনেকটাই বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে কখনোই এটির অতিরিক্ত ব্যবহার করবেন না। রান্নার কাজে ঠিক যতোটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করতে হবে।

রান্নার কাজে সূর্যমুখীর তেলের ব্যবহার

রান্নার কাজের সূর্যমুখী তেলের ব্যবহার করা অনেকটাই স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ। কারণ এই সূর্যমুখীর তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই। গবেষণা করে দেখা গেছে যে আপনি এক চা চামচ পরিমাণ সূর্যমুখীর ফেলে পেয়ে যাবেন প্রায় 28% ভিটামিন ই। আপনি যদি কোন খাবারকে ডিপ ফ্রাই করতে চান তাহলে এই সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করতে পারেন। 

এই সূর্যমুখীর তেল রান্নার কাজে ব্যবহারের ফলে আপনার হার্টের কোন ধরনের সমস্যা হবে না। যার কারণে রান্নার কাজে এই সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করা অনেকটাই নিরাপদ। এ সূর্যমুখীর তেলের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। এই তেলের কোন আলাদা স্বাদ নেই, তাই এই তেল দিয়ে রান্না করা খাবারেরও কোন আলাদা করে তেলের স্বাদ নেই। আপনি যদি উচ্চতা পেয়ে কোন কিছু রান্না করতে চান তাহলে এই সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করতে পারেন। 

এই তেলে ওমেগা - ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড এর পরিমাণ বেশি থাকায় আপনি যদি এই তেল অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করেন তাহলে শরীরে প্রদাহ হতে পারে। তাই এই তেল কখনোই খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহার করবেন না। তাই আপনি যদি রান্নার কাজে একটি ভালো এবং স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ তেল ব্যবহার করতে চান তাহলে নিঃসন্দেহে এই সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করতে পারেন।

রান্নার জন্য সরিষার তেলের ব্যবহার

প্রাচীন কাল থেকে আমরা দেখে আসছি যে রান্নার কাজে সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়। রান্নার কাজে সরিষার তেল ব্যবহার করা অনেকটাই স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ। সরিষার তেলে আপনি যে কোন ধরনের ডিপ ফ্রাই রান্না করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। সরিষার তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর সরিষার তেলে থাকা এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে। 

এছাড়া আপনার পেটে যদি জীবাণুর সংক্রমণ থাকে তাহলে এই সরিষার তেল আপনার পেটে থাকা জীবাণুর সংক্রমণ দূর করে ফেলতে পারে। সরিষার তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকার কারণে এটি যদি আপনি নিয়মিত আপনার রান্নার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন তাহলে সেটি হার্টের জন্য খুবই ভালো। নিয়মিত সরিষার তেল রান্নার কাজে ব্যবহার করা হলে এবং সেই সরিষার তেল জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। 

তবে সরিষার তেল খাওয়াটা স্বাস্থ্যকর হলেও এটির একটি খারাপ দিক আছে। আর সেই খারাপ দেখতে হলো এটিতে রয়েছে ৩৫-৪৮% ইউরিক অ্যাসিড। এই ইউরিক অ্যাসিড কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তাই এই সরিষার তেলের ব্যবহার আমেরিকা সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আমাদের শেষ কথা

কোন তেলটি রান্নার ক্ষেত্রে ব্যবহার করার স্বাস্থ্য জনক এবং কোন তেল আপনার জন্য নিরাপদ হবে সেটি সম্ভবত আপনি খুবই ভালো হবে জানতে পেরেছেন। আশা করা যায় যে এখন থেকে রান্নার কাজে তেল নির্বাচন করতে আপনাকে আর কোন ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে না। এছাড়াও কোন তেলটি স্বাস্থ্যের জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং কোন তেলটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো সেটি আপনি নিশ্চয়ই ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। 

আজকের আর্টিকেলটা যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে সেটা অন্যদেরকে পড়ার সুযোগ করে দিন যাতে তারাও জানতে পারে রান্নায় কোন তেল খাওয়া ভালো। এছাড়াও আজকের আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে সেটা আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাবেন। ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url