গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়

গরম এলেই মানুষের মধ্যে একটি সমস্যা দেখা যায় আর সেটি হলো ঘামাচি। ঘামাচি হলে যেন এই ঘামাচির অত্যাচারে আর থাকা যায় না। ঘামাচির চুলকানি যে কতটা অসহ্যকর সেটি একমাত্র তিনি বুঝেন যার ঘামাচি হয়ে থাকে। এছাড়া এই ঘামাচি যেমন অসহ্যকর তেমনই এটি আমাদের দৈহিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করে ফেলে। 
গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়
তবে আপনি বেশ কিছু নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই এই ঘামাচি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তাই আজকের আমাদের আলোচ্য বিষয়টি হলো গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়। আপনি যদি গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আর দেরি না করে এখনই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে নিন।

পোস্টের সূচিপত্রঃ গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়

ভূমিকা

গরমকালে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটি হয়ে থাকে সেটি হল ঘামাচি। এই ঘামাচি যেমন অসহ্যকর একটি বিষয় তেমনি এর চুলকানিও ততটাই যন্ত্রণা দায়ক। গরমকালে রোদের মধ্যে যাওয়ার ফলে শরীর ঘেমে সেখান থেকে তৈরি হয় ঘামাচি। এজন্য অনেক সময় গরমকালে পুরো শরীরে ঘামাচি হতে দেখা যায়। 
তাই আপনারা যাতে এই ঘামাচি সমস্যাটি থাকে মুক্তি পেতে পারেন এজন্য আজকের এই আর্টিকেলে আমরা গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানবো। আশা করা যায় যে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার পর আপনি আপনার ঘামাচি সমস্যাটিকে দূর করে ফেলতে পারবেন। তাহলে আর কথা বারে সময় নষ্ট না করে চলুন এখনই জেনে নেওয়া যাক।

ঘামাচি কি

সাধারণত গরমকালে যখন অতিরিক্ত গরমের ফলে শরীর ঘেমে যায় এবং এই ঘেমে যাওয়ার কারণে শরীরের লোমকূপ গুলো বন্ধ হয়ে শরীরে লাল লাল ছোট ছোট দানার মতন দেখা যায়। আর এগুলোকে বলা হয় ঘামাচি। ঘামাচি গুলো সাধারণত একদম ছোট আকৃতির হয়ে থাকে। কিন্তু এই ঘামাচি হওয়ার ফলে যে চুলকানি হয় সেটি একদম অসহ্যকর মনে হয়। এবং এই ঘামাচির চুলকানি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে। আশা করা যায় যে ঘামাচি কি সেটি আপনি ভালোভাবে বুঝে গেছেন এবং ঘামাচি দেখতে কেমন সেটিও আপনি বুঝতে পেরেছেন।

গরমে ঘামাচি হয় কেন

গরমে ঘামাচি হওয়া এই সম্পর্কে হয়তোবা আপনারা কম বেশি অনেকেই জানেন। কিন্তু তারপরও অনেকের প্রশ্ন থেকে যায় যে গরমে ঘামাচি হয় কেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক গরমে ঘামাচি হয় কেন।

অতিরিক্ত গরমে যখন শরীর ঘেমে যায় তখন এই ঘাম থেকে সৃষ্টি হয় ঘামাচির। প্রচন্ড গরমের ফলে শরীর ঘেমে যায় এবং লোমকূপ গুলো বন্ধ হয়ে যায়। এবং এর ফলে তৈরি হয় ঘামাচি। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে অতিরিক্ত জ্বরের কারণেও ঘামাচি হয়ে থাকে। গরমে যখন মানুষ প্রচন্ড পরিমানে ঘেমে যায় তখন সেই ঘামের মধ্যে এক ধরনের জীবাণু থাকে। এজন্য গরম কালে অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার ফলে এবং এই গ্রামের সাথে বিভিন্ন জীবাণু মিশে যাওয়ার ফলে শরীরে ঘামাচি দেখা দেয়। আশা করা যায় যে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তরটি ভালোভাবে পেয়ে গেছেন এবং বুঝতে পেরেছেন যে গরমে ঘামাচি কেন হয়।

গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়

বেশ কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো মেনে চলার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই গরমকালে আপনার ঘামাচি গুলোকে দূর করে ফেলতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে।
  • আপনি বরফের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার ঘামাচিকে দূর করে ফেলতে পারবেন। আপনার যে যে স্থানে ঘামাচি হয়েছে সেই স্থানগুলোতে বরফ ঘষতে থাকুন এভাবে নিয়মিত ঘষার ফলে দেখবেন আপনার ঘামাচি দূর হয়ে গিয়েছে।
  • মুলতানি মাটি দিয়েও অনেক সময় ঘামাচি দূর করা যায়। প্রথমে একটি পাত্রে চার থেকে পাঁচ চা চামচ পরিমাণ মুলতানি মাটি নিয়ে নিতে হবে এবং সেটির সাথে দুই থেকে তিন চা চামচ পরিমাণ গোলাপ জল মিশিয়ে নিতে হবে এবং সামান্য পরিমাণ পানি নিতে হবে। এরপর এগুলো একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এরপরে এই পেস্ট আপনার যে যে স্থানে ঘামাচি হয়েছে সেই সেই স্থানে লাগিয়ে দিতে হবে। এবং প্রায় দুই থেকে তিন ঘন্টা পরে সেগুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে ব্যবহার করার ফলে দেখবেন আপনার ঘামাচি ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাচ্ছে।
  • নিমপাতা দিয়ে খুব সহজেই ঘামাচি দূর করে ফেলা যায়। কারণ নিম পাতায় থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ঘামাচি দূর করতে খুবই ভালো কাজ করে থাকে। নিমপাতা দিয়ে ঘামাচি দূর করার জন্য প্রথমে নিমপাতা বেটে সেটির পেস্ট তৈরি করতে হবে। এরপর সে নিম পাতার পেস্ট আপনার ঘামাচি স্থানে লাগিয়ে দিন। এভাবে দিনে প্রায় চার থেকে পাঁচবার ব্যবহারের ফলে দেখবেন খুব সহজে ঘামাচি দূর হয়ে যাচ্ছে।
  • এছাড়াও আরো একটি পদ্ধতিতে নিম পাতা ব্যবহারের মাধ্যমে ঘামাচি দূর করা যায়। আর সেটি হল দুই কাপ পরিমাণ পানিতে কিছু পরিমাণ নিমপাতা নিয়ে সেগুলো ভালো করে সিদ্ধ করে নিন। এরপর সে পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে সেই পানিতে একটি পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে আপনার ঘামাচিযুক্ত স্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধরে লাগাতে থাকুন। এভাবে দিনে চার থেকে পাঁচবার ব্যবহারের ফলে আপনার ঘামাচি খুব সহজে দূর হয়ে যাবে।
  • লেবুর রস খাওয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই ঘামাচি দূর করে ফেলা যায়। কারণ লেবুর রসের রয়েছে এক ধরনের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ঘামাচি দূর করতে সহযোগিতা করে। ঘামাচি দূর করার জন্য প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চার গ্লাস লেবুর রস মিশ্রিত পানি পান করতে থাকুন।
  • অ্যালোভেরার জেল ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই আপনার শরীরের ঘামাচি গুলোকে দূর করে ফেলতে পারবেন। অ্যালোভেরা দিয়ে ঘামাচি ভালো করার জন্য এলোভেরার পাতা থেকে জেলগুলো বের করে নিয়ে সেই জেলগুলো আপনার ঘামাচিযুক্ত স্থানে প্রলেপ আকারে লাগিয়ে দিন। এবং এই জেলগুলো যখন শুকিয়ে যাবে তখন ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ব্যবহার করে ফলে আপনার ঘামাচি খুব সহজে দূর হয়ে যাবে।

ঘামাচি পাউডার কোনটা ভালো

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ঘামাচির পাউডার রয়েছে। এই ঘামাচি পাউডার গুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার ঘামাচি গুলোকে দূর করে ফেলতে পারবেন। বাজারে ঘামাচির জন্য ভালো মানের বেশ কিছু পাউডার রয়েছে। নিচে ঘামাচির জন্য ভালো কিছু পাউডারের নাম দেওয়া হলো।
  • তিব্বত ঘামাচি পাউডার
  • হিমালয়া প্লিকি হিট পাউডার
  • আইস কুল পাউডার
  • মিল্লাত ঘামাচি পাউডার
  • ডার্মি কুল পাউডার
  • মেরিল পাউডার
  • ট্যালকম পাউডার
এই পাউডার গুলো ব্যবহারের ফলে আপনি খুব সহজে আপনার শরীরের ঘামাচি গুলোকে দূর করে ফেলতে হবে।

ঘামাচি পাউডার এর দাম

এখন হয়তোবা আপনাদের মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে এই ঘামাচি পাউডার গুলোর দাম কত। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আমরা এখন বিভিন্ন ধরনের ঘামাচি পাউডার গুলোর দাম তুলে ধরবো।
  • হিমালয়া প্লিকি হিট পাউডার - ১২১ টাকা
  • মিল্লাত ঘামাচি পাউডার - ৭০ টাকা
  • আইস কুল পাউডার - ৬০ টাকা
  • তিব্বত ঘামাচি পাউডার - ৬৫ টাকা
  • মেরিল পাউডার - ৮৫ টাকা
  • মুলতানি মাটি পাউডার - ৯০ টাকা
  • ব্যানানা পাউডার - ২২৮ টাকা

আমাদের শেষ কথা

আশা করা যায় যে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণরূপে পড়ার মাধ্যমে আপনি খুবই ভালোভাবে জানতে পেরেছেন যে ঘামাচি কি এবং ঘামাচি কেন হয় এবং এই ঘামাচি কিভাবে আপনি দূর করতে পারবেন। আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ রূপে পড়ার পরে ঘামাচি দূর করতে আপনার আর কোন অসুবিধা হবে না বলে আমি মনে করি। 

আজকের এই আর্টিকেলটা যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে সেটা আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করবেন যাতে তারা ঘামাচি দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়া আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে সেটা আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন আমরা সেটির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url