টমেটো চাষের আধুনিক পদ্ধতি

টমেটো হচ্ছে একটি শীতকালীন সবজি। টমেটো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং পুষ্টিকর একটি সবজি। এজন্য সারা বছরই বাজারে টমেটোর ব্যাপক চাহিদা থাকে। এজন্য অনেক কৃষকের এখন টমেটো চাষ করাতে বেশি আগ্রহ থাকে। কিন্তু সঠিক উপায় না জানার কারণে তারা টমেটো চাষে তেমন সফলতা অর্জন করতে পারে না।
টমেটো চাষের আধুনিক পদ্ধতি
তাই আজকে আমরা টমেটো চাষের আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে আপনাদের কাছে আলোচনা করবো। আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করবেন। আপনি যদি টমেটো চাষের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান তাহলে পুরো আর্টিকেলটি ভালোভাবে মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোস্টের সূচিপত্রঃ টমেটো চাষের আধুনিক পদ্ধতি

ভূমিকা

টমেটো একটি শীতকালীন সবজি হওয়াই এবং সারাবছর এ টমেটোর ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে অনেক কৃষক এখন টমেটো চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। টমেটো হচ্ছে এক ধরনের লাভজনক ফসল। তবে আপনি যদি সঠিকভাবে টমেটো চাষ করতে পারেন তাহলে ভালো ফলাফল পাবেন। আর যদি আপনি টমেটো চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে না জানেন তাহলে আপনি টমেটো চাষে সফল হতে পারবেন না। 
আপনি যাতে টমেটো চাষের সফল হতে পারেন এজন্য আমরা আপনাকে শিখাবো আধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে টমেটো চাষ করতে হয়। আশা করা যায় যে আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনিও আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ করতে পারবেন। এবং এই আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করার ফলে টমেটো চাষে সফল হতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক যে কিভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করতে হয়।

টমেটো চাষের সময় এবং মাটি নির্বাচন

যেহেতু টমেটো হচ্ছে এক ধরনের শীতকালীন সবজি তাই টমেটো চাষের সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে শীতকাল। অর্থাৎ কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহ অর্থাৎ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ হচ্ছে টমেটো বীজতলায় লাগানোর জন্য উপযুক্ত একটি সময়। আপনি যদি এই সময়ের মধ্যে বীজতলায় টমেটোর চারা রোপন করতে পারেন তাহলে অনেক ভালো ফলাফল পাবেন। 

এজন্য সব সময় চেষ্টা করবেন অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টমেটোর চারা গুলো বীজতলায় রোপন করার জন্য। টমেটো প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা হয়। তবে আপনি যদি বেলে দোআঁশ আস মাটিতে টমেটোর চাষ করতে পারেন তাহলে এটি অনেক ভালো ফলাফল দেবে। 

টমেটো লাগানোর জন্য জমি চাষ করা হয়ে গেলে আপনি মাটি থেকে ১০-১৫ সে.মি. উঁচু করে বেড তৈরি করবেন এবং বেডের চারপাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা রাখবেন। আপনি যখন টমেটো গাছের চারা রোপন করবেন ঠিক তখনই সেখানে পানি দিয়ে দিবেন। টমেটো গাছের একটি সারি থেকে অপর সারির দূরত্ব হবে ৫০ সে.মি. এবং চারাগুলো একটি অপরটির মধ্যে ৫০ সে.মি. দূরত্ব রেখে রোপন করবেন।

টমেটোর জাত নির্বাচন

টমেটোর বিভিন্ন ধরনের জাত হয়ে থাকে। তবে কোন জাতের টমেটো চাষ করলে বেশি ভালো ফলাফল পাওয়া যায় এবং ভালো টমেটো হয় সেটি আপনাকে প্রথমে নির্বাচন করতে হবে। আপনি যদি ভালো যাতের টমেটো নির্বাচন না করতে পারেন তাহলে কখনোই টমেটো চাষে সফল হতে পারবেন না। 

টমেটোর অনেকগুলো জাতের মধ্যে কয়েকটি জাতের নাম হলোঃ বাহার, বিনা টমেটো-৪, বিনা টমেটো-৫, বারি টমেটো-৩, বারি টমেটো-৪। আর হাইব্রিড জাতের মধ্যে যেসব টমেটো ভালো সেগুলো হলো সবল, মিন্টু ও বারি টমেটো-৫। এই টমেটোগুলো চাষে আপনি অধিক বেশি ফলন পাবেন।

টমেটো গাছের জন্য চারা কিভাবে তৈরি করতে হয়

আপনি যদি মনে করেন যে সরাসরি জমিতে বীজ বুনে দিবেন তাহলেও টমেটো চাষ করা যায়। তবে আপনি যদি দ্রুত ফলাফল পেতে চান তাহলে প্রথমে টমেটো গাছের জন্য চারা তৈরি করে নিতে হবে এবং সেই চারাগুলো বীজতলায় রোপণ করতে হবে। টমেটো গাছের চারা তৈরি করার জন্য একটি রোজ যুক্ত স্থান নির্বাচন করতে হবে। এবং একটি পরিষ্কার স্থান নির্বাচন করতে হবে। আপনি যে জায়গায় টমেটো গাছের চারা তৈরি করবেন সেই জায়গাটি ভালো হবে চাষ দিয়ে নিতে হবে। 

মাটি চাষ দেওয়া হয়ে গেলে সেই জায়গাটি সমান করে নিতে হবে এবং ১ মিটার উঁচু করে একটি বেড তৈরি করতে হবে। ছাড়া তৈরি করার জন্য বেড খুব একটা বেশি লম্বা করবেন না। আপনি চাইলে টমেটোর বীজগুলো ছিটিয়ে বপন করতে পারেন। টমেটোর বিষ ছিটিয়ে বপন করার জন্য প্রতি বর্গমিটার জায়গায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম টমেটোর বীজ ব্যবহার করতে হবে। টমেটোর বীজ থেকে চারা তৈরি হতে প্রায় ৬ থেকে ১৪ দিনের মতো সময় লেগে যায়। বীজ বোনার সঠিক সময় হল কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ মাস।

টমেটোর চারা কিভাবে রোপন করতে হয়

টমেটো গাছের চারার বয়স যখন ২৫ থেকে ৩০ দিন হয়ে যাবে তখন সেটি আপনি আপনার জমিতে রোপন করতে পারবেন। টমেটোর চারাগুলো বীজতলা থেকে তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে করে টমেটো গাছের শিকড় না ছিড়ে যায়। এরপর টমেটোর চারা তোলা হয়ে গেলে সেগুলো আপনি আপনার জমিতে রোপণ করতে পারবেন। টমেটোর চারা রোপন করার জন্য একটি চারা থেকে অপর চারার দূরত্ব রাখতে হবে ৫০ সেন্টিমিটার। বিকেলের পড়ন্তরোদে চারা রোপন করলে বেশি ভালো হয় এবং চারা রোপন করার সাথে সাথে সেখানে পানি দিয়ে দিতে হবে।

টমেটো গাছের জন্য সার প্রয়োগ

টমেটোর গাছ লাগানোর আগে যখন জমিতে চাষ দিয়ে নিবেন তখন শেষ চাষ দেওয়ার আগে জমিতে কিছু পরিমাণ গোবর সার এবং কিছু পরিমাণ টিএসপি সার জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। এরপর চারা লাগানোর ১৫ দিন পর এবং ৩৫ দিন পর ইউরিয়া ও পটাশ সার সমপরিমাণ নিয়ে সেটি প্রয়োগ করতে হবে। 

প্রতি একর জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করবেন ৮০ থেকে ১০০ কেজি,টিএসপি সার ৬০ থেকে ৮০ কেজি, জিপসাম ২০ থেকে ৩০ কেজি, বোরন ১ থেকে ২ কেজি, এমপি ৬৮ থেকে ৯২ কেজি এবং গোবর সার প্রায় ৪ টন এর মতো প্রয়োগ করতে হবে। 

জমির অবস্থা বুঝে অর্থাৎ যখন খরা দেখা দিবে তখন টমেটোর গাছে পানি দিতে হবে। এবং চারা লাগানোর পরে যদি টমেটোর গাছের গোড়ায় কোন প্রকার আগাছা দেখতে পান তাহলে সেগুলো পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

টমেটো গাছের পোকামাকড় দমন

আপনি যদি টমেটো চাষে ভালো ফলাফল পেতে চান তাহলে টমেটো গাছে যেন কোন প্রকার রোগ না হয় বা কোন প্রকার পোকামাকড় দমন করতে না পারে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। টমেটো গাছে এক ধরনের ছিদ্রকারি পোকা হয়ে থাকে এ ধরনের পোকা গুলো দমন করার জন্য প্রতি ৫ শতাংশ জমিতে সবিক্রন ৪২৫ ইসি ২০মি.লি. ১০ লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে টমেটো গাছগুলোতে ভালোভাবে স্প্রে করে দিতে হবে। 

আবার কোন কোন টমেটোর গাছে কৃমি রোগ বা গোড়া পচা জাতীয় রোগ লক্ষ্য করা যায়। এই সকল রোগ যাতে না হয় এজন্য টমেটোর চারা লাগানোর পূর্বেই ফুরাডন-৩ জি দিয়ে মাটি ভালো হবে শোধন করে নিতে হবে। তাহলে আর এ ধরনের রোগ হবে না।

শেষ কথা

আপনি ইতিমধ্যে খুবই ভালো হবে জেনে গেছেন যে আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ কিভাবে করতে হয়। এবং কিভাবে টমেটো চাষ করলে অধিক ভালো ফলন পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি টমেটো চাষে অধিক ভালো ফলাফল পেতে চান তাহলে উপরের দেওয়া নিয়মগুলো মেনে টমেটো চাষ করতে পারেন। 

আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে কেমন লাগলো সেটা আমাদেরকে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। আর প্রতিনিয়ত এরকম নতুন নতুন আর্টিকেল করার জন্য আমাদের এই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url