গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখার নিয়ম

বর্তমানে সিলিন্ডার গ্যাস রান্নার ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেসব এলাকায় এখন পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ নেই সেসব এলাকার মানুষদের একমাত্র ভরসা হলো সিলিন্ডার গ্যাস। এই সিলিন্ডার গ্যাস যেমন খুব কাজের একটি জিনিস তেমনি এর ভয়াবহ দিকও রয়েছে। বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসা গ্যাস সিলিন্ডারের যদি না থাকে তাহলে নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 
গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখার নিয়ম
কিন্তু অনেকেই গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ কিভাবে দেখতে হয় সেটি জানে না। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আমরা গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখার নিয়ম সম্পর্কে একটি আর্টিকেল লিখছি। আপনি যদি গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখার নিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ একটি ধারণা পেতে চান তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোস্টের সূচিপত্রঃ গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখার নিয়ম

কিভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখতে হয়

আমরা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরনের রান্নার কাজে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে থাকি। যেসব এলাকায় এখন পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ পৌঁছায়নি সেসব এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন অন্যান্য জিনিসের মত এই গ্যাস সিলিন্ডারেরও একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে। এবং এই মেয়াদ যদি উত্তীর্ণ হয়ে যায় তাহলে নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

তাই এসব দুর্ঘটনা থেকে আপনাদেরকে দূরে রাখার জন্য এবং আপনারা যাতে এসব দুর্ঘটনা থেকে আগেই সচেতন হতে পারেন এজন্য গ্যাস সিলিন্ডারে মেয়াদ দেখার নিয়ম আমরা এখন আপনাদের সামনে তুলে ধরব। তাহলে চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক যে আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ আর কয়দিন রয়েছে।
গ্যাস সিলেন্ডারের মেয়াদ দেখার জন্য আপনাকে সিলিন্ডারের গায়ে লক্ষ্য করতে হবে। আপনার সিলিন্ডারের গায়ে কালো কালার দিয়ে যে লেখাটা রয়েছে সেটি হল আপনার গ্যাস সিলিন্ডারের এক্সপায়ারিদের বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ। আপনি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন যে এক্সপায়ারি ডেট বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ গুলো A,B,C,D সংকেত দিয়ে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই A,B,C,D সংকেতগুলো দ্বারা কি বোঝানো হয়। 

আপনি যদি না জানেন যে এই A,B,C,D সংকেত দ্বারা কি বোঝান হয় তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক। এই A,B,C,D সংকেতগুলোর A সংকেত এর মাধ্যমে বোঝানো হয় বছরের প্রথম তিন মাস জানুয়ারি,ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাস। B সংকেত এর মাধ্যমে বোঝানো হয় এপ্রিল, মে এবং জুন মাস। C সংকেত এর মাধ্যমে বোঝানো হয় জুলাই, অগাস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাস। D সংকেত এর মাধ্যমে বোঝানো হয় অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাস। 

আর এরপরে যেই দুই সংখ্যার ডিজিট থাকে সেটি হলো বছরের শেষ দুটি সংখ্যার ডিজিট। অর্থাৎ A,B,C,D এর যেকোনো একটির পরে যদি ২৩ দেখায় এর মানে হলো এই গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ উত্তীর্ণের সাল ২০২৩ সাল। আর যদি সেখানকার শেষের দুটি ডিজিট ২৪ থাকে তাহলে এর মানে হলো এই গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ উত্তীর্ণের সাল হলো ২০২৪ সাল। 

অর্থাৎ মনে করেন সিলিন্ডারের গায়ে যদি লেখা থাকে B24 তাহলে এর মানে হল ২০২৪ সালের এপ্রিল, মে অথবা জুন মাসেই আপনার গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাবে। তাহলে আশা করা যায় যে আপনি এখন খুবই ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন যে কিভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখতে হয় এবং কিভাবে বুঝতে হয় যে গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ উত্তীর্ণের সাল এবং মাস কোনটি।

কোন গ্যাস সিলিন্ডার ভালো

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের গ্যাসের সিলিন্ডার রয়েছে। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৩০ টি কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। তবে আমরা বাজারে রান্নার জন্য যে গ্যাস সিলিন্ডার গুলো পেয়ে থাকে সেগুলো ব্যবহার করা যথেষ্ট নিরাপদ। বিভিন্ন ধরনের গ্যাস গুলোর মধ্যে বসুন্ধরা LP গ্যাস এবং ওমেরা গ্যাস অত্যন্ত ভালো মানের হয়ে থাকে। অন্যান্য গ্যাসের সিলিন্ডারে একটি বিষয় দেখা যায় যে অনেক সময় ওজনে সেগুলো কম হয়ে থাকে। 

কিন্তু এই বসুন্ধরা LP গ্যাস এবং ওমেরা গ্যাস এ কোন সময় ওজন কম থাকে না। এবং এই দুটি গ্যাস সিলিন্ডার এর সার্ভিস ও অনেক ভালো। তাই এই গ্যাস সিলিন্ডার গুলোর চাহিদা বাজারে অনেকটাই বেশি পরিমাণে থাকে। তাই আপনি যদি একটি ভালো মানের গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে চান তাহলে নিঃসন্দেহে এই দুটি মধ্যে যে কোন একটি গ্যাস সিলিন্ডার বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসতে পারেন এবং নিঃসন্দেহে সেটি ব্যবহার করতে পারেন।

সিলিন্ডারের গ্যাস কতটুকু আছে জানার সহজ উপায়

এখন আপনার মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে গ্যাস সিলিন্ডারে কখন কি পরিমানে গ্যাস রয়েছে তা আপনি কিভাবে বুঝবেন। কারণ অনেক সময় এমনটি হতে দেখা যায় যে বাসায় মেহমান এসেছে কিন্তু আপনি যখন রান্না করতে যাবেন তখন দেখছেন যে আপনার গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই এরকম সমস্যার মধ্যে যাতে আপনি না করেন সেজন্য আপনার আগে থেকেই জেনে নেওয়া উচিত যে আপনি কিভাবে বুঝবেন সিলিন্ডারের গ্যাস কতটুকু আছে। 

সিলিন্ডারে কতটুকু গ্যাস রয়েছে সেটি জানার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি ভিজা কাপড় নিতে হবে। এরপর সেই ভেজা কাপড়টি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডারটিকে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যে গ্যাসের সিলিন্ডারে যাতে কোন রকমের ধুলো না জমা হয়ে থাকে। গ্যাস সিলিন্ডারটি ভেজা কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মোছা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর লক্ষ্য করে দেখবেন যে সিলিন্ডারের কিছুটা ভেজা অংশ শুকিয়ে গিয়েছে এবং বাকি অংশটুকু ভেজাই রয়ে গেছে। 

সিলিন্ডারের যে অংশটুকু শুকাতে বেশি সময় দেরি হচ্ছে সে অংশটুকু সিলিন্ডারের গ্যাস ভর্তি রয়েছে আর যে অংশটুকু তাড়াতাড়ি শুকিয়ে গিয়েছে সে অংশটুকু খালি রয়েছে অর্থাৎ সে অংশটুকুর গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ সিলিন্ডারের গ্যাস ভর্তি অংশটুকুর তাপমাত্রা কম হওয়ার কারণে সে অংশটুকু ভেজা অংশ শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগছে। তাহলে আপনি এখন নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন যে কিভাবে খুব সহজেই আপনি জানতে পারবেন আপনার সিলিন্ডারে কতটুকু গ্যাস হয়েছে।

খালি সিলিন্ডারের ওজন কত

সাধারণত একটি এলপিজি খালি সিলিন্ডারের ওজন হয়ে থাকে প্রায় ১৫.৩ কেজি এর মত। আর এই গ্যাস সিলিন্ডার গুলোতে এই গ্যাসের পরিমাণ থাকে ১৪.২ কেজি। অর্থাৎ গ্যাস সিলিন্ডারটি যখন গ্যাস দিয়ে ভর্তি করা হয় তখন সিলিন্ডার এবং গ্যাসের ওজন মিলিয়ে প্রায় ২৯.৫ কেজি এর মত হয়। তাহলে আপনি নিশ্চয়ই এখন খুবই ভালোভাবে বুঝতে পারছেন যে একটি খালের সিলিন্ডারের ওজন কত এবং একটি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডারের ওজন কেমন হয়।

সিলিন্ডার গ্যাস কত ঘন্টা চলে

গ্যাস সিলিন্ডার কত ঘন্টা চলে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি সারাদিনে কি পরিমাণ রান্না করছেন এবং কেমন তাপমাত্রায় রান্না করছেন। আপনি যদি গ্যাসের চুলার স্পিড অনেক বেশি বাড়িয়ে রাখেন তাহলে আপনার গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাস খুবই দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। আর আপনি যদি রান্না করার সময় অল্প আঁচে রান্না করেন বা অল্প স্পিডে দিয়ে রেখে রান্না করেন তাহলে আপনার গ্যাস সিলিন্ডার টি অনেকদিন যাবত চলবে। তাই আমার মনে হয় রান্না করার সময় গ্যাসের চুলার স্পিড খুব বেশি না দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় দিয়ে রান্না করা। তাহলে এটি যেমন আপনার শেষ হওয়া থেকে বাঁচাবে তেমনি আপনাকে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা থেকেও বাঁচাতে পারে।

শেষ কথা

সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আপনি যদি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়েন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে আপনি কিভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখতে পারবেন। আপনি যদি একটি মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করেন তাহলে অনেক সময় এটি বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সব সময় বাজার থেকে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে নিয়ে আসার আগে চেক করে নিবেন যে গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ কত দিন রয়েছে। আশা করা যায় যে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে। 
আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লাগে তাহলে সেটি আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন যাতে করে তারাও বাজার থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার কেনার আগে সিলিন্ডারের মেয়াদ দেখে কিনতে পারে। এরকম আরো নতুন নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করার জন্য নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url